১
মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।
মেঘবরণ তুঝ, মেঘজটাজূট,
রক্তকমলকর, রক্ত‐অধরপুট,
তাপবিমোচন করুণ কোর তব
মৃত্যু‐অমৃত করে দান॥
আকুল রাধা‐রিঝ অতি জরজর,
ঝরই নয়নদউ অনুখন ঝরঝর—
তুঁহুঁ মম মাধব, তুঁহুঁ মম দোসর,
তুঁহুঁ মম তাপ ঘুচাও।
মরণ, তু আও রে আও॥
লাইনগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভানুসিংহের পদাবলী’ থেকে নেয়া। কথাগুলো কেমন পরিচিত আবার অপরিচিতও ঠেকছে। আসলে আধো আধো বাঙলার মতো যে ভাষায় কবিতাটা লেখা হয়েছে সেটা হলো ‘ব্রজবুলি’ ভাষা, আর রবীন্দ্রনাথ ছোটবেলাতেই এই ভাষাতে লিখেছেন। তিনি ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনাম নিয়ে ব্রজবুলি ভাষায় ‘ভানুসিংহের পদাবলী’ লিখেছিলেন। এই ভাষায় সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই সর্বশেষ কাব্যরচনা করেছিলেন। ভানুসিংহের পদাবলীতে ব্রজবুলি ভাষায় মোট ২০টি পদ আছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের-
শাওন গগণে ঘোর ঘনঘটা
নিশীথ য়ামিনী রে
কুঞ্জপথে, সখি, কৈসে যাওব
অবলা কামিনী রে...
গানটা অনেকেই শুনে থাকবেন, শুনলে মনেহয় হিন্দি ভাষায় লেখা। আসলে এই গানটিও ব্রজবুলি ভাষায় লেখা। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এটি কোন অঞ্চলের ভাষা আর রবীন্দ্রনাথ কেনইবা এই ভাষায় কাব্যচর্চা করতে গেলেন কেন?
ভারতের উত্তর বিহারের তিরহূত জেলা ও দক্ষিন নেপালের জনকপুর মিলে ছিলো প্রাচীন রাজ্য ‘বিদেহ’ আর এই রাজ্যের রাজধানী ছিল ‘মিথিলা।’ তবে এই রাজ্যের সীমা খুব বড় ছিলোনা, মিথিলার রাজারা আসলে ছিলেন জমিদার। ‘তারিখ-ই-মোবারকশাহী’ মতে এটি জৌনপুরের সামন্তরাজ্য ছিল। যাহোক, বিদেহ রাজ্যের রাজা শিবসিংহের রাজসভায় মহাকবি ছিলেন ‘বিদ্যাপতি।’ তিনি ১৩৫০ সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ‘ভবিষ্যপুরাণ’ মতে তিনি ‘উচিতগ্রাম’ নামে একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং কিংবদন্তী অনুসারে তিনি ১৪৪৮ সালে মিথিলার বাজিৎপুরে মৃত্যুবরণ করেন। কবি বিদ্যাপতি বাঙলা ভাষায় একটিও কবিতা লিখেননি কিন্তু তবুও তিনি বাঙলা ভাষার কবি। তিনি লিখতেন ব্রজবুলি নামে একটি বানানো ভাষায়। মূলত হিন্দি-বাঙলা-প্রাকৃত শব্দ মিলিয়ে এ ভাষার সৃষ্টি। ভাষাবিদরা ব্রজবুলিকে বাংলার উপভাষা বলে দাবী করেছেন। তবে ‘ব্রজবুলি’ নামটি আসলে আধুনিককালের দেওয়া। উনিশ শতকে ঈশ্বর গুপ্ত সর্বপ্রথম এই নাম ব্যবহার করেন। ব্রজবুলি ভাষার মাধুর্য্য লক্ষ করে মনে করা হলো যে, বৃন্দাবনের গোপ-গোপীরা সম্ভবত এই ভাষায় কথা বলে। ব্রজের বুলি বলে এর নাম হল ব্রজবুলি। ব্রজবুলির উৎপত্তি সম্পর্কে একটি মতবাদ প্রচলিত রয়েছে যে, বাংলায় বিদ্যাপতির পদের বিকৃত রূপই ব্রজবুলি। কিন্তু এ ধারণার কোনও যৌক্তিকতা নেই। কারণ তাহলে এই বিকৃত ভাষা একটি সাহিত্যিক উপভাষারূপে সারা উত্তরভারতে বিস্তৃতি ও সমাদর লাভ করতে পারত না। সুকুমার সেন এই মতের খণ্ডন করেছেন দুটি কারণে-
(১) বিদ্যাপতির সময়ে মৈথিলী ভাষার সঙ্গে ব্রজবুলির যেমন সাদৃশ্যও রয়েছে তেমন রয়েছে বৈসাদৃশ্য।
(২) বাংলা-মিথিলায় ছাত্রদের যাতায়াত ও দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার ফলে মৈথিলি ভাষার ঠাট নিয়ে অল্পকিছু দিনের মধ্যে বাংলায় একটি নতুন কাব্যধারার সৃষ্টি হলো - এ ধারণাও সত্য নয়।
সুকুমার সেনের বক্তব্য হল, ‘সংস্কৃতে ও প্রাকৃতে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক কবিতা খ্রীষ্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত আর্যাবতের সর্বত্র প্রচারিত ছিল, বিশেষ করে ভারতের পূর্বাঞ্চলে। এই চার-পাঁচ শ বছর ধরে আর্যাবর্তে ...... একটি সাহিত্যিক ভাষা প্রচলিত হয়েছিল। .... বৈষ্ণব পদাবলীর অপেক্ষাকৃত পূর্বতন রূপ বিদ্যমান ছিল অবহট্ঠ--এ অনুমান অপরিহার্য।... এই অবহট্ঠ থেকেই ব্রজবুলির উৎপত্তি হয়েছে।’ বাংলাদেশে সুলতান হোসেন শাহের আমলে যশোরাজ খান প্রথম ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেন। পদটি হল-- ‘এক পয়োধর চন্দন লেপিত আর সহজই গোর’-- ইত্যাদি। উড়িষ্যায় এই ভাষায় প্রথম পদ রচনা করেছেন মহাপ্রভুর ঘনিষ্ট রায় রামানন্দ। মিথিলায় ব্রজবুলিতে প্রথম লেখার কৃতিত্ব উমাপতি ওঝার। আসামে শঙ্করদেব - যিনি উমাপতি ওঝার ‘পারিজাত হরণ’ অনুসরণে একই নামে নাটক লেখেন।
সুকুমার সেন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ব্রজবুলির উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছিল নেপালে তীরহুত মোরঙ্গের রাজসভায়। কারণ তুর্কি আক্রমণের ফলে নেপালে বিহার ও বাংলাদেশের বহু পন্ডিত আশ্রয় নেন। নেপালে ব্রজবুলি পদাবলীর চর্চা অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত চলেছিল। শুধু তাই নয়, নেপালের রাজারাও এই ভাষায় পদ রচনা করতেন। বাংলাতে পাওয়া এ পর্যন্ত প্রথম পদটি পঞ্চদশ শতকের। ষোড়শ-সপ্তদশ শতাব্দীতে অজস্র বৈষ্ণব কবি ব্রজবুলিতে পদ রচনা করেছেন। এঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হলেন গোবিন্দদাস। এই ব্রজবুলি ধারার শেষ পরিণতি উনবিংশ শতাব্দীতে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী।’
২
বিভিন্ন শ্রেণীর শব্দ মিলে মধুর এক ভাষা হলো ব্রজবুলি। তবে এটি কিন্তু মিথিলার ভাষা ছিলো না, তাদের ভাষা ছিলো ‘মৈথেলি।’ মধ্যযুগে বাঙলায় মুসলমান শাসকদের রাজ্য শাসন শুরু হলেও মিথিলায় হিন্দু রাজাদের শাসন অব্যাহত ছিলো। শুরু থেকেই মৈথেলি পণ্ডিতরা ন্যায় ও স্মৃতি শাস্ত্রের চর্চায় খুব প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিলেন, আর বিদ্যাপতি যে ভাষাতে কাব্য রচনা করতেন তাতে মৈথেলি’র পাশাপাশি সংস্কৃত ছিলো। তার কাব্যে ছিলো মনিপুরি সুর। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। সেযুগে বাঙলা থেকে ছাত্ররা মিথিলায় জ্ঞানার্জনের জন্য যেতো। ছাত্ররা বিদ্যাপতির পদাবলিগুলো মুখস্থ করে বাঙলায় এসে প্রচার করতো। এভাবেই বিদ্যাপতির কবিতা হয়েছে বাঙলা কবিতা আর তিনি হয়েছেন বাঙলার কবি। তাকে ছাড়া বৈষ্ণব কবিতা ভাবাই যায়না। তিনি ধর্মে শৈব ছিলেন, তাই তার রচিত বৈষ্ণব কবিতায় তিনি চণ্ডীদাসের মতো আবেগে ভেসে যাননি, বরং উপমা আর রূপকের ব্যবহারে তার কবিতাকে করেছেন মাধুর্যময়। এ প্রসঙ্গে তার একটি লেখার উদাহরণ দেয়া যেতে পারে-
হাথক দরপণ মাথক ফুল।
নয়নক অঞ্জন মুখন তাম্বুল॥
হৃদয়ক মৃদমগ গীমক হার।
দেহক সরবস গেহক সার॥
পাখীক পাখ মীনক পানি।
জীবক জীবন হাম তুহু জানি॥
তুহু কৈসে মাধব কহ তুহু মোয়।
বিদ্যাপতি কহ দুঁহু দোঁহা হোয়॥
কবি লিখেছেন, রাধা ভালোভাবে জানতে চাইছে কৃষ্ণ তার কে হয় ? রাধার মনেহয় কৃষ্ণ তার হাতের আয়না, যাতে সে নিজেকে দেখে। আবার তার মনেহয় কৃষ্ণ তার মাথার ফুল, যা তার শোভা বাড়িয়ে দেয়। তারপর বলে-তুমি আমার চোখের কাজল, মুখের লাল পান, হৃদয়ের সৌরভ, গ্রীবার অলঙ্কার। তুমি আমার শরীরের সর্বস্ব, আমার গৃহের সার। পাখির যেমন পাখা এবং মাছের যেমন জল, তুমিও ঠিক তেমনি আমার। এতোসব বলেও রাধার তৃপ্তি হয়না, সে বুঝতে পারেনা পরম পুরুষ কৃষ্ণ তার কে হয়। তাই শেষের লাইনের আগের লাইনে রাধা কৃষ্ণকেই জিজ্ঞেস করে, বলো প্রভু তুমি আমার কে ? উত্তরটা দেন কবি বিদ্যাপতি। তিনি বলেন, তোমরা দু’জন অভিন্ন। এভাবে রূপকের ক্রমাগত ব্যবহারে পদটি হয়ে উঠেছে রূপকের দীপাবলি। কবির আরেকটা কবিতা এরকম-
যব-গোধূলি সময় বেলি।
ধনি-মন্দির বাহির ভেলি॥
নব জলধর বিজুরি রেহা
দ্বন্দ্ব পসারি গেলি।।
ধনি-অল্প বয়েসী বালা।
জনু-গাঁথনি পুহপ-মালা॥
কবি এখানে রাধার রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। আগেই যেটা বলেছি এটি এক মধুর ভাষা, তাই এ ভাষায় কঠিন শব্দ নেই, যেসব শব্দের উচ্চারণ শ্রুতিমধুর হয়না তার বদলে এখানে মিঠেল শব্দ ব্যবহার করা হয়। তাই উপরের পদে ‘বেলা’ হয়েছে ‘বেলি’, বিদ্যুৎ হয়েছে ‘বিজুরি’, রেখা হয়েছে ‘রেহা।’ কবি রাধা’র বর্ণনায় লিখেছেন, যখন গোধূলি বেলা, তখন রাধা ঘর থেকে বাইরে এলো, সে এক অপরূপ দৃশ্য। এখানে কবি রাধার বাইরে আসার দৃশ্যকে একটি উপমা দিয়ে বুঝিয়েছেন এভাবে, হঠাৎ যেন মেঘের কোলে বিদ্যুৎ চমকে গেল। তারপর বলেছেন, রাধা অল্প বয়সের মেয়ে, কিন্তু সে কেমন মেয়ে ? যেন ফুলের গাঁথা মালা।
বাঙলার ‘সহজিয়া’দের মতে শিবসিংহের রানী লছিমার সঙ্গে বিদ্যাপতির পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তবে কি রাধার রূপের বর্ণনায় রানী লছিমা’র রূপের প্রভাব পড়েছিলো ? হয়তো এ আমার নিছক কল্পনা, কারণ মিথিলার কিংবদন্তীতে এরকম কোন ঘটনার উল্লেখ নেই। বৈষ্ণব পদাবলির আরেক কবি গোবিন্দদাসও ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছেন। গোবিন্দদাসের পদের কয়েকটি লাইন এরকম-
যাঁহা যাঁহা নিকসয়ে তনু তনু জ্যোতি।
তাঁহা তাঁহা বিজুরি চমকময় হোতি॥
যাঁহা যাঁহা অরুণচল চল চলই।
তাঁহা তাঁহা থল-কমল-দল খলই॥
অর্থাৎ কবি গোবিন্দদাসও এখানে রাধা’র সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন। রাধা তার সখীদের সাথে যাচ্ছে, কবি বলেছেন, রাধার শরীর থেকে যেখানে ছলকে পরেছে সৌন্দর্য, সেখানে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। যেখানে রাধা রাখছে তার আলতা রাঙানো পা, সেখানেই যেন রাধার পা থেকে ঝরে পড়ছে স্থলপদ্মের লাল পাপড়ি। কী সুন্দর বর্ণনা! এভাবে সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে বৈষ্ণব কবিতায়। কৃষ্ণ এখানে সৌন্দর্য ছড়ায়, রাধা বৈষ্ণব কবিতায় সৌন্দর্যের দেবী হয়ে আসে। এভাবেই রাধার মনের আকুল কান্নার মধুর ধ্বনি এবং কৃষ্ণের বাঁশির সুর সারাক্ষণ বেজে যায় বৈষ্ণব পদাবলীতে। সে সুরে পাগল হয়ে পরবর্তীতে বাঙলার কবিমহল বাঙলা, সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা মিশিয়ে ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করেছেন। তারা বাঙলা ভাষার কঠিন কঠিন শব্দ বাদ দিয়ে যেগুলো ছিলো মনোহর, মায়াবী, সেগুলো বেছে নিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ব্যতিক্রম ছিলেন না। ছোটবেলায় এ ভাষার যাদুতে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ এ ভাষা শিখে অনেক কবিতা লিখেছিলেন। বৈষ্ণব কবিতাগুলোর বিষয় ছিলো রাধা-কৃষ্ণ’র প্রেম। কবিতাগুলো আকারে ছোট হলেও তাই ছিলো ভাব-রসপূর্ন। ব্রজবুলির মধ্যমণি বিদ্যাপতি, এনিয়ে কোন সন্দেহ নেই, তবে বিদ্যাপতির রচনা বাঙলায় আসার আগেও বাঙলায় ব্রজবুলি এবং অবহট্ট ভাষায় সাহিত্য রচিত হতো। যেমন-কৃত্তিবাস বিদ্যাপতির সমসাময়িক বা ঈষৎ পরবর্তী, তাঁর রামায়ণের কোন কোন প্রাচীন পুঁথিতে ব্রজবুলি ভাষায় লেখা ‘রাম-রাস’ পাওয়া গেছে। চন্ডীদাসের ভনিতাতেও কয়েকটি ব্রজবুলি পদ মিলেছে। বাঙালী পণ্ডিত গঙ্গাদাসের ‘ছন্দোমঞ্জুরী’ সম্ভবত বিদ্যাপতির আগেই লেখা। ১৪২৫ সালের দিকে রচিত অবহট্ট ভাষার পদাংশটা এরকম-
রাই দোহড়ী পঢ়ন শুনি হসিউ কাহ্ন গোআল।
বৃন্দাবন ঘন কুঞ্জবর চলিউ কমন রসাল॥
এছাড়াও আসামের শঙ্করদেব, উড়িষ্যার রায় রামানন্দ, বাঙলার যশরাজ খান, ত্রিপুরার রাজপন্ডিত ব্রজবুলি পদ রচনা করেন। এভাবে ব্রজবুলিতে পদ রচনা অব্যাহত ছিলো ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত। মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল হলো বৈষ্ণব পদাবলী। আকারে ক্ষুদ্র এই কবিতাগুলোতে আবেগের যে বহিঃপ্রকাশ তা আসলেই তুলনাহীন।
তথ্যসূত্র:
১। লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী-হুমায়ুন আজাদ
২। পুরাতন বাংলা সাহিত্যের তথ্য ও কালক্রম-সুখময় মুখোপাধ্যায়
৩। ইন্টারনেট
পোস্ট ভিউঃ 27