বসন্ত এসে ফিরে গেছে

কবিতা তোমার নামে নৌকা ভাসাই
বসন্ত এসে ফিরে গেছে

ওষ্ঠ নিঃসৃত যে বিশেষ বাক্য শুনতে চেয়েছিল যুবক, 

তা বললে-   

পৃথিবীর নিয়মে এমন কোনো ব্যাত্যয় ঘটতো না, 

থেমে যেতো না আহ্নিক গতি, সূর্যটাও সমান দাপটে-   

উত্তাপ বিলিয়ে যেতো কর্কট ক্রান্তি বরাবর।

থেমে যেতো না বাজারে করোটির কোলাহল-  

বাতাসে সীসা’র মাত্রা ৪৮৩ ন্যানোগ্রামেই ঝুলে থাকতো,   

সুপারশপে ফরমালিন দেয়া মাছ, কার্বাইডের ফল 

ক্লিনিকে-হাসপাতালে ভ্রূণহত্যা একই থাকতো-  

পার্কের পতিতাও ঘাম মুছে, বুঝে নিতো শরীরের দাম।  

বিষাদে মাখা এই ধূসর নগরীর কিছুই বদলাতো না,    

কর্পোরেট হাসি, উপচানো মদের পেয়ালা-  

মুখের অ্যালগরিদম যেতো বদলে নিকোটিনে, 

ঘুষের অঙ্কটাও নির্ধারিত হতো চড়া দামে,   

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হতো সমান তালে।


তবুও কেউ না জানুক, শালিকের চোখ জানে-  

কারো অমন নিখাদ ভালোবাসায় 

কোন এক যুবকের পৃথিবীটা বদলে যেতো,  

লেখার খাতা-কলমের কালি ফুরিয়ে যেতো 

শহরের পাঁচিল-রাজপথ ভরে যেতো কবিতার মাতাল ছন্দে। 

মানুষের জীবন তো থিওরেম নয় যে তাকে-   

বুঝতে হবে সাইন থিটা-কস থিটা-রুট ওভারের মারপ্যাঁচে! 

বিপন্ন যুবক কখনো জানতোও না-   

শুধু ভালোবাসলেই কাউকে পাওয়া যায়না,  

আর সব কিছুর মতো তাতেও বসতি ঘুণপোকার!

যুবক জানেনা- 

বসন্ত এসে ফিরে গেছে খোলা জানালায়,

যুবক বুঝতেও পারেনি কালবোশেখী'র তীব্র ছোবল  

মনের দুয়ারে আঘাত হেনে বলে গেছে ফিসফিস,  

             সে আসলে কোনদিনই তার ছিল না।



পোস্ট ভিউঃ 13

আপনার মন্তব্য লিখুন