ইউথেনেশিয়া

কবিতা বসন্ত এসে ছুঁয়ে গেছে
ইউথেনেশিয়া

সেদিনের পর থেকে ছেলেটাকে আর দেখা যায়নি,  

হেমন্তের ঝরাপাতার মতো সে চলে গেছে-  

রেখে গেছে গুমোট নিঃসঙ্গতা।  

সেইযে ফর্সা মলিন মুখ, তাতে পুরু লেন্সের চশমা- 

মাথায় ঝাঁকড়া চুল-কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ,  

ছেলেটা একদিন কবি হতে চেয়েছিল আর   

পৌষের শেষ আলোয়- 

গোটা গোটা অক্ষরে কাঠের দরজায় লিখেছিল,   

‘জমাট নিস্তব্ধতা

নদীর গভীর শীতল জল

আমাকে একবার চুমু খেতে চেয়েছিল,’ 

ছেলেটাকে ঘিরে রেখেছিল অখণ্ড বিষণ্ণতা।


ইঁদুরের ইনসোমনিয়া ঠোঁটে একটা চিরকুট-    

'তবু মনেরেখো নির্মম বাস্তবতার ভিড়ে,  

যদি চিরতরে হারিয়ে যাই- 

তবুও খুঁজো নাকো লেখার পাতায়'  

ব্যাপারটা মেসের কেউ আমলেই নিল না,  

যেন এরকম হামেশাই ঘটছে, আকছাড়।


ডায়েরীর পাতায় সে লিখেছিল-  

‘বাঁচার জন্য যদি একটি কারণ পাই,

তবে মৃত্যুর জন্য জেনো হাজারটা-

যমটুপি হাতে অসংখ্য কারণ সামনে এসে দাঁড়ায়’ 

প্যাপিরাসের শুকনো পাতায় লেখা মিশে গেছে।


এক সমুদ্র নোনাজল বুকে-  

সে লিখেছিল একটা সুইসাইড নোট, 

"এ আমার ইউথেনেশিয়া 

আমি সুস্থ মস্তিষ্কে-স্বেচ্ছায়, কারো প্ররোচনা ছাড়াই  

ঘিরে থাকা ধূসর মেলানকোলিয়া সাথে করে-    

ফিরে গেলাম মৃত্তিকার কাছে, 

তোমাদের জন্য রইলো হীম শীতল নীরবতা’। 

ছেলেটা তার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেনি 

রেখে যায়নি কোন সংযোগ, কিংবা কোন চিরকুট  

শুধু অভিমান ভরে ফিরে গেছে,   

ছেলেটা অ্যাকোনিটাম নেপেলাস পান করেছিল।


সেদিনের পর থেকে ছেলেটাকে ক্লাসে কিংবা ক্লাসের অবসরে, 

রকের তুমুল আড্ডা, কোথাও দেখা যায়নি। 

ছেলেটার সাথে সেপিয়া বিকেল-মায়াবী সন্ধ্যেয় আর দেখা হয়নি   

শহীদ মিনারের বেদীতে বসে সে আর কখনো আনমনা হয়নি, 

সেইযে ছেলেটা, যে পুরু লেন্সের ভেতর দিয়ে- 

জোছনা দেখতে ভালোবাসতো আর  

শ্রাবণের নিযুত ধারায় ভিজে একসা হয়ে  

প্রেমিকার ঠোঁটে একবার চুমু খেতে চেয়েছিল।



পোস্ট ভিউঃ 8

আপনার মন্তব্য লিখুন