দক্ষিণের জানালাটা খোলা হয়না কতদিন
আমার নৈঋতে আজও মেঘের আনাগোনা,
ড্রেসিং টেবিলের আয়না, সাদাকালো রবীন্দ্রনাথ আর
দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটা প্রতীক্ষায় রাতজাগে,
সুগন্ধি তেলের শিশি-কাঠের কাঁকোই-টিপের রঙিন পাতা
ওভাবেই পড়ে থাকে টেবিলের কোণে-
চুলের ফিতে-লম্বা বেণী ঠাঁই পেতেছে ইতিহাসের পাতায়,
সিঁড়িপথটা আগলে রাখতো যে উজ্জ্বল প্রিয়মুখ!
সেই তুমি নেই বলে, ছাদের দরজাটা আজো খোলা হয়না-
সিঁড়ির প্রান্ত রিক্ত হয়না কারো গোপন ছোঁয়ার অনুভূতিতে।
সেই যে দক্ষিণের জানালায় সেঁটে থাকা উৎকন্ঠার প্রহর-
আর জমাট আবেগ পাঁজরে চেপে রাতভর চিঠি লেখা,
চৈত্রের দাবদাহ আর ঘামের তত্ত্ব শরীরে মেখে-
ডাকপিয়নের ‘চিঠি আছে গো, চিঠি’ বলে হাঁক কিংবা
সাইকেলের বেল-দরজায় কড়ানাড়া, সব আজ ফসিল অতীত!
আমাদের সোনালি বিকেলের সাক্ষী যে চিলেকোঠা
তার কপাটেও আজ মরচে ধরেছে,
আচারের বয়াম-আমচুর-শুকনো লঙ্কা
পাহারা দেবার ছলে-
আমাকে আর ছাদের কার্নিশে যেতে হয়না,
ঠোঁটের প্রান্ত-বুকের জমিনে আদর মেখে কতদিন-
কতদিন ‘মা ডাকছে, যাই’, বলে লুট হতে হতে পালিয়ে যেতাম!
তারপর ওভাবে আর কেউ স্পর্শ করেনি রওনক দা!
গলির মুখে রিকশা আটকে বখাটে যুবকের মতো-
ওভাবে আর কেউ কখনো বলেনি, ‘ভালোবাসি।’
এক পলকের দেখার আশায় জানালাটা আর খোলা হয়না
গলির নিঃসীম শূন্যতায় আজ অন্য কারো পদচিহ্ন-
জানালার চৌকাঠে এলোমেলো বাতাস এসে ফিরে যায়;
পথের ধুলোয় স্মৃতির নুড়ি-পাথর-বালি পড়ে থাকে,
ওভাবেই অলস কতোটা বছর!
দক্ষিণের জানালায় একেকটা দিন মানে-
রোদভাঙা দুপুরে বেলকনিতে বিছানো তক্তপোশ
‘দস্যু বনহুর’ সিরিজের বই, সাথে এক কাপ চা;
কখনো বইয়ের পাতার ভাঁজে গোলাপের পাপড়ি
কিংবা কাগজের রঙিন ছোট টুকরো, ফুলের অরিগ্যামি,
খুনে ডাকাতের মতো স্মৃতিগুলো আজ বড্ড জ্বালায়-
ফেলে আসা শৈশব-কৈশোর-তারুণ্য ভেজা দিন
খুন করে আমাকে করেছো নিঃস্ব! কিন্তু কেন!
রওনক দা, তুমি তো জানতে-
আমরা সামনে তাকাই কিন্তু হাঁটি অতীতের পথে!
পোস্ট ভিউঃ 11