যদি আচম্বিতে কখনো দেখা হয়-
যদি কখনও দেখা হয়েই যায় পথের মাঝে,
হৃদয়ের পোড়ামাটি খুঁড়ে জিজ্ঞেস কোরোনা কেমন আছি
শুধু চোখের কোনের জমাট বাষ্প দেখে বুঝে নিও
আমি ভালো আছি।
যদি কখনো শ্রাবণ ভেজা দিনে-
বৃষ্টির ছাঁট এসে ভিজিয়ে দেয় চোখের কোমল পাতা,
যদি জানালার চৌকাঠ বেয়ে জুলফিতে মিশে যায় বেলী
দোলন চাঁপা কিংবা হাস্নাহেনার ঘ্রাণ তবে বুঝে নিও
আমি ছিলেম কাছেপিঠে কোথাও।
যদি হেমন্তের ফিনফিনে সন্ধ্যায়-
হঠাৎ দমকা হাওয়ার তোড়ে ঝরে পড়ে পুরোনো পাতা,
মর্মর ধ্বনি ফিরে আসে জোয়ারের মতো, ফিরে যায়
গাছেরা কথা বলে শুকনো পাতার নির্জনতায় তবে জেনো
আমিও ছিলেম সে স্তব্ধ অমানিশায়।
যদি কখনো চৈত্রের দাবদাহে-
ছাদের ধূসর কার্নিশে বায়সের ম্লান চোখ,
যদি ভুবন চিলের ডানার প্রান্তের রূপালী ঝলক
ঘিরে থাকে নিঃসীম নীল ডুরে শাড়ি তবে জেনো
আমিও ছিলেম ওই নীলিমার মাঝে।
যদি ছুটির ফাঁদের অবসন্ন দুপুরে-
বসন্ত বৌরির করুণ কন্ঠে দেয়াল ঘড়ির নিঃসঙ্গতা,
যদি ক্লিমেটিসের শাদা মৌনতা ছুঁয়ে যায় তবে জেনো
আমার বিবাগী কষ্টগুলোও ঘুড়ির পিছু শূন্যে মিশে গেছে
শূন্যতার শাদা গর্ভে আমি ভালো আছি।
পোস্ট ভিউঃ 8