ক্যালেন্ডারের পাতা কিংবা ঘড়ির কাঁটা মমি করে
কাউকে সারাজীবন ধরে রাখা যায়না,
সময়ের পদচিহ্ন ধরে আমরা বুঝে যাই
কেউ কারো কাছে কতোটা প্রয়োজনীয়-
কিভাবে অনভ্যাসে স্পর্শের দাগ মুছে যায়,
আমরা বুঝি যাই সময় কতোটা প্রতারক-
কিভাবে ধরে রাখে মায়া হয়ে।
একবার চৈত্রের দাবদাহ মাথায় করে-
হেঁটেছিলাম অনেকটা পথ,
তমশা ঘন বিচ্ছিন্নতায় আমার সাথে হেঁটেছিলো
অনুগামী ছায়া আর কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ি,
নুড়ি মানে তো জানো, পাহাড়ের জমাটবদ্ধ স্মৃতি-
ফেলে আসা সুখ, আর পাহাড় মানে! পাহাড় মানে তো-
স্পর্ধা, যে একদিন আকাশের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চেয়েছিলো।
ঝর্ণার নিটল জলে পা ডুবিয়ে তোমার কথা ভেবেছিলাম,
তুমি তো জানো ঝর্ণা মানে পাহাড়ের ক্ষয়ে যাওয়া কষ্ট-
বৃষ্টির রেণুর সাথে যা মিশেছিলো, কিংবা ধরো-
পাহাড় যা আগলে রাখতে চেয়েছিলো অথচ পারেনি,
অথচ ঝর্ণা যা ধারণ করেছিলো গভীর ভালোবেসে,
আমি তোমার কথা ভাবতে ভাবতে-
পাতাঝরা বিকেলে ঝর্ণার কোমল মায়া হতে চেয়েছিলাম।
আমি নদীর বাঁকের কাছে শিখেছিলাম-
ধ্বংস কিংবা সৃষ্টির সংলাপ,
নদী জানে চোখের নোনাজল চেপে রাখায় সুখ নেই-
স্মৃতি বড় প্রতারক আর সময় নিখাদ ফসিল,
বাউন্ডুলে নদী জানে আমি একদিন তারই মতোন-
দু’কূল ভাসানো আবেগ আর
গভীর দুঃখ বুকে পুষে ভালোবাসতে শিখেছিলাম।
পোস্ট ভিউঃ 7