নদীর কাছে ভালোবাসতে শিখেছিলাম

কবিতা বন্ধনহীন গ্রন্থি
নদীর কাছে ভালোবাসতে শিখেছিলাম

ক্যালেন্ডারের পাতা কিংবা ঘড়ির কাঁটা মমি করে 

কাউকে সারাজীবন ধরে রাখা যায়না,   

সময়ের পদচিহ্ন ধরে আমরা বুঝে যাই 

কেউ কারো কাছে কতোটা প্রয়োজনীয়-  

কিভাবে অনভ্যাসে স্পর্শের দাগ মুছে যায়, 

আমরা বুঝি যাই সময় কতোটা প্রতারক-  

কিভাবে ধরে রাখে মায়া হয়ে।


একবার চৈত্রের দাবদাহ মাথায় করে- 

হেঁটেছিলাম অনেকটা পথ, 

তমশা ঘন বিচ্ছিন্নতায় আমার সাথে হেঁটেছিলো

অনুগামী ছায়া আর কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ি, 

নুড়ি মানে তো জানো, পাহাড়ের জমাটবদ্ধ স্মৃতি- 

ফেলে আসা সুখ, আর পাহাড় মানে! পাহাড় মানে তো-  

স্পর্ধা, যে একদিন আকাশের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চেয়েছিলো।


ঝর্ণার নিটল জলে পা ডুবিয়ে তোমার কথা ভেবেছিলাম,

তুমি তো জানো ঝর্ণা মানে পাহাড়ের ক্ষয়ে যাওয়া কষ্ট- 

বৃষ্টির রেণুর সাথে যা মিশেছিলো, কিংবা ধরো-  

পাহাড় যা আগলে রাখতে চেয়েছিলো অথচ পারেনি, 

অথচ ঝর্ণা যা ধারণ করেছিলো গভীর ভালোবেসে,

আমি তোমার কথা ভাবতে ভাবতে- 

পাতাঝরা বিকেলে ঝর্ণার কোমল মায়া হতে চেয়েছিলাম।


আমি নদীর বাঁকের কাছে শিখেছিলাম-   

ধ্বংস কিংবা সৃষ্টির সংলাপ, 

নদী জানে চোখের নোনাজল চেপে রাখায় সুখ নেই- 

স্মৃতি বড় প্রতারক আর সময় নিখাদ ফসিল, 

বাউন্ডুলে নদী জানে আমি একদিন তারই মতোন- 

দু’কূল ভাসানো আবেগ আর  

গভীর দুঃখ বুকে পুষে ভালোবাসতে শিখেছিলাম।



পোস্ট ভিউঃ 7

আপনার মন্তব্য লিখুন