শেষের খুব কাছে

কবিতা বন্ধনহীন গ্রন্থি
শেষের খুব কাছে

কালের অভিযাত্রায় আমরা হয়তো সহযাত্রী 

কিন্তু আমাদের গন্তব্যটা ছিলো আসলে ভিন্ন,  

এ যাত্রায় আমাদের আর পরাগায়ন সম্ভব নয়-   

বরং সম্পর্কের খোল নলচে বদলে ফেলি নিজেদের,    

আমাদের ছাদটাও বদলে যাক অন্য আকাশের নিচে।  

আমরা আমাদের থেকে দূরে সরে যাই- 

এতোটাই দূরত্বে যে-    

যেখানে জল ও জলদ ভিন্ন সৃষ্টির কথা বলে, 

আর ভবঘুরে বায়সের মতো- 

ক্যালেন্ডারের পাতা স্বাক্ষী হয় নতুন কোন গল্পের!


আমাদের সম্পর্কের মাঝে এতো যে তিক্ততা!  

এতো যে টানাপোড়েন! ঈর্ষা-ক্ষোভ-রাগ! 

নিস্তব্ধতার আধারে ডুবে থাকা ঘড়ির কাঁটার   

মুখোমুখি হতেও দ্বিধাগ্রস্থতা কিংবা অনীহা!

এতো ভুল বোঝাবুঝি! তারচে দূরেই সরে যাই।


বিশ্বাসটাই যদি জটিল ঘূর্ণাবর্তে বিলীন তবে- 

লোকনিন্দার ভয়ে কেন এতো লুকোচুরি!  

পেঁয়াজের খোসার মতো কেন গল্পের প্রলেপে গল্প! 

সময়ের চোরাবালিতে আর কেউ না জানুক  

আমরা তো জানি আমাদের কথা ফুরিয়েছে।  

আমাদের শব্দকোষের ভান্ডার আজ দেউলে 

সুবচন গিয়েছে নির্বাসনে, আমাদের- 

জঠর উগরে যা বেরোয় তা কথামালা নয়, হিংসা! 

কথার ফাঁকে অন্ধের লাঠির মতো শব্দ হাতরে ফেরা  

এযে কি যন্ত্রণার! সে তুমি বুঝবে না রওনক!


পরস্পরের দিকে অভিযোগের ক্যাটাপল্ট কিংবা 

দোষারোপের সুদর্শন চক্র ছুঁড়ে দেবার আগেই 

আমরা না হয় আলাদা হয়ে যাই  

বিদায়ের কালে অন্তত শ্রদ্ধাবোধটা তো ধরে রাখি!

কোন এক নরম রোদের বিকেলে যদি হঠাৎ দেখা হয় 

তখন যেন ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে না নিতে হয়, 

অন্তত জিজ্ঞেসটা যেন করতে পারি-  

তোমার চোখের নিচে কালি পড়েছে কেন? রাত জাগো! 

লেবু চা টা এখন কে বানিয়ে দেয়? বুলি'র মা আসে তো রোজ! 

ওষুধ খাচ্ছো তো ঠিক মতো! মশারিটা কে টাঙিয়ে দেয়?


কালের অভিযাত্রায় আমরা পাশাপাশি দু'জন 

আমরা হেসেছি-খেলেছি, গল্পও করেছি বিস্তর,   

কিন্তু হয়তো ছুঁতে পারিনি নিজেদের!  

যতটুকু ছুঁলে একজন নারী হয় পূর্ণগর্ভ মেঘ,    

আর পুরুষ! জলের প্রত্যাশায় নুয়ে থাকা চারাগাছ।



পোস্ট ভিউঃ 7

আপনার মন্তব্য লিখুন