
১
‘বৈশাখের রুদ্র জামা আমাকে পরিয়ে দে মা
আমি তোর উজাড় ভাঁড়ারে বারুদের গন্ধ বুক ভরে নেব।
এখন তোর ভীষণ রোগ, গায়ে চুলো গন্ গন্ করছে,
আমাকে পুড়িয়ে দিলি মা। নাৎসী হাওয়া তোর
পিদিমে ফুঁ দিতেই, চপ চপ করে ভিজে গেল মুখ
এতো রক্ত কেনরে মা, এত রক্ত কোনো দিন আমি দেখিনি–
দেখিনি মা।
আমি জানি আমার শার্টের রক্তের দগদগে চিহ্ন
তোর পতাকার বুকের ভিতর দাউ দাউ জ্বলছে
আমি রক্তের প্রতিশোধ নেব মারে’
ষাটের দশকের অন্যতম কবি মুস্তফা আনোয়ার মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কবিতার ছন্দে উপরের কথাগুলো উচ্চারণ করেছিলেন। চিন্তায় এবং মননে তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন কবি, চাকুরি করতেন রেডিওতে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকসেনাদের ভয়াবহ ক্র্যাকডাউনের পরপর যে তিনজন অকুতোভয় রেডিও কর্মকর্তা জীবনবাজি রেখে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র চালু করেছিলেন মুস্তফা আনোয়ার ছিলেন তাদের অন্যতম। পাকিস্তানী সেনাদের আক্রমণের তিন দিনের মাথায় তারা চট্টগ্রাম বেতারের ট্রান্সফর্মার চুরি করে কালুরঘাটে বেতার কেন্দ্র চালু করেছিলেন। এক কিলোওয়াট ট্রান্সমিটারের ওজন ছিল প্রায় ২৫ মণ। কবি মুস্তফা আনোয়ারের ভাষায়, "চট্টগ্রাম বিপ্লবী বেতারকেন্দ্রের প্রথম কথিকা ছিল বেলাল মোহাম্মদের লেখা 'স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়'। দ্বিতীয় কথিকা ছিল আমার লেখা 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি'। প্রথম কবিতা প্রচারিত হয়েছিল আমার লেখা 'বৈশাখের রুদ্র জামা'। আমার লেখা প্রায় তিনশ-এর বেশি কথিকা প্রচারিত হয়েছিল স্বাধীনবাংলা বেতার থেকে।" ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর তিনি কার্গো বিমানে কলকাতা থেকে পুরোটা পথ দাঁড়িয়ে তেজগাঁ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিলেন। এরপর বিমান থেকে নেমেই দেশের মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে তিনি ঝরঝর করে কেঁদেছিলেন।
পটুয়া কামরুল হাসানের আঁকা পশুরূপী কুখ্যাত ইয়াহিয়ার ছবির পোষ্টারের নিচে যে ক্যাপশনটা ছিল, ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’, এই শ্লোগান কবি মুস্তফা আনোয়ারের লেখা। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে একটা ফিলার প্রায়ই প্রচারিত হতো, ‘ইয়াহিয়া নরপশু, এরা মানুষ হত্যা করছে, আসুন আমরা পশু হত্যা করি’ এটাও তারই লেখা। কবি মুস্তফা আনোয়ার এমনিতে স্বল্পভাষী, কিন্তু গভীর শিল্পবোধ আর কবিতাপ্রেম তার ভিতর এতোটাই প্রবল যে এই বিষয়ে তিনি অনর্গল কথা বলতে পারতেন। কবি মুস্তফা মহিউদ্দীন এই প্রসঙ্গে তার সম্পর্কে বলেছেন, ‘ইউরোপীয় সাহিত্যে তার অগাধ জ্ঞান, র্যাঁবো, কাম্যু, কাফকার প্রচন্ড ভক্ত। সমাজের নিম্নবর্গের মানুষদের জীবন যাপন তিনি গভীর বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে দেখতেন। তাদের মদ্যপান দেখতে ছুটে যেতেন মেথরপট্টি। পুরনো ঢাকায় যেতেন সেখানকার নিম্নবিত্ত মানুষদের জীবন প্রত্যক্ষ করতে।’
‘গলি তস্য গলি পেরিয়ে
পাৎলা মলমূত্র পেরিয়ে
মুক্তবাজার শহর যেতে হয়
ওই হোথায়, আমাদের আস্তানায়
পাঁজরের পাথরে পাথরে ঠুকে
বাঁশবনের মাথায় জ্যোৎস্নার কুপি, ওঠে সারারাত।
রাত নামে পাটে
মদ খেয়ে নে।’
(কাব্যগ্রন্থ ‘কী করি কোথায় যাই’, কবিতা ‘চাঁদের ভিতরে চাঁদ’)
কবি নিজেকে কল্পনা করেছেন ‘বুড়ো, হাবড়া তুঁত’ গাছের সাথে। তুঁতের পাতা থেঁৎলে তার কষ পান করে তিনি একসময় ডোম-মেথরদের সাথে শীর্ণ গলির ড্রেনে পড়ে থাকতে চেয়েছেন। নিজেকে ধ্বংস করে নেশাগ্রস্থ মাতাল জীবনের তিক্ততা, দুঃখবোধ, পরাজয়ের গ্লানি অনুভব করতে চেয়েছেন। তার ‘তুঁত’ কাব্যগ্রন্থের ‘বুড়োহাবড়া তুঁত’ কবিতায় যেমনটা দেখি,
‘তুঁতের তলায় থাকি,
আমার নাম মুস্তফা–
আমার চেহারাটা বড় বিশ্রী
গোলগাল কেমন যেন চ্যাপ্টা আলুর মতো
চোখ দুটো ইঁদুরের মতো কুৎকুতে, ছোট্ট ছোট্ট, লাল;
চেহারাটা মে-মে,
শুধু একটা শুকনো ডালের মতো শিশ্ন ঝুলে আছে,
আমার চুলগুলো ইঁদুরের ল্যাজের মতো নোংরা–
আমি তুঁত গাছের তলায় থাকি,
আমার নাম আনোয়ার,
অন্তরঙ্গরা ডাকে আনু–
আর এই আনু নামটার ওপরেই আমার যত ঘেন্না;
আয়নার সামনে দাঁড়ালেই নিজেকে ঘেন্না হয়;
কি করি – উপায় নেই;
কিছুতেই নিজের চেহারা ভালোবাসতে পারি না,
একটুও প্রেম হয় না।
আমার পূর্বপুরুষেরা হয়তো মেথর ছিল, ডোম ছিল;
আমার রক্তের মধ্যে মেথর মেথর গন্ধ রয়ে গেছে।’
২
কবি মুস্তফা আনোয়ার ১৯৪০ সালের ১০ অক্টোবর তারিখে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার দত্তপুকুর মহকুমার নিবাধুই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ডাক্তার আওলাদ হোসেন আর মায়ের নাম আবেদা বেগম। ১৯৫৩-৫৪ সালের দিকে তার পরিবার পূর্ব পাকিস্তানের যশোরে মাইগ্রেট করলে তিনি কলকাতার হেয়ার স্কুলের দশম শ্রেণী থেকে জেলা স্কুলে এসে ভর্তি হন। যশোর জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশনের পর তিনি মাইকেল মধুসূদন কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়েন। এরপর বাবার আগ্রহে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হয় কিন্তু সেখানে ০৩ বছর পড়াশুনা করার পর ছেড়ে দেন। একইরকম ঘটনা কবি নির্মলেন্দু গুণ এবং আবুল হাসানের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। কবি নির্মলেন্দু গুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগে চান্স পেয়েছিলেন কিন্তু ছন্নছাড়া স্বভাবের কারণে সেটা আর পড়া হয়নি। বিএ পাশ করার পর ১৯৬৭ সালে বাংলা সাহিত্যের এমএ ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু সেটাও শেষ করতে পারেননি। কবি আবুল হাসান ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ৩য় বর্ষ অবধি পড়েছেন, তারপর আর পড়াশুনা শেষ করা হয়নি। কবিরা আসলে এরকমই, তাদের কাছে একটা সুন্দর কবিতা লেখার আনন্দ পিএইচডি করার আনন্দের চেয়েও অনেক বেশি আনন্দের। কবি মুস্তফা আনোয়ার ঢাকায় এসে ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজের বাংলা বিভাগে। ১৯৬৮ সালে তিনি রেডিও’র অনুষ্ঠান বিভাগে প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন, তবে চাকুরির পাশাপাশি তার কলম চলতে থাকে,
‘না, এই পোকার শহরে আর থাকতে ইচ্ছে করছে না
কোথায় যাই, অন্যকোথাও যেতে হবে, কিন্তু কোথায়
এমন কি কোনো শহর আছে, যেখানে একটাও পোকা নেই;
আর পারছি না এই পোকার ঘিনঘিনে শব্দ শুনতে;
এতো নয়েজ, এতো ক্যায়োস; আ
একটা মধুর শহর কি কোথাও পাওয়া যাবে না
যেখানে সুখ আছে, স্বপ্ন আছে
যেখানে একটা বিশ্বাসের আরাম আছে,
তেমন একটা মধুর শহর।
এই রোজ-রোজ শুয়োরের মুখ দেখা আর কতোদিন সহ্য হয়
রোজ-রোজ কাদামাখা জুতোপ্যান্ট নিয়ে ঘরে ফেরা রোজ-রোজ।’
(কাব্যগ্রন্থ ‘কোনো ডাকঘর নেই’, কবিতা ‘নিশ্চিন্তপুকুর ও দু’জন ভাঁড়’)
৩
মুস্তাফা মহিউদ্দীনকে তিনি একবার বলেছিলেন, ‘বুঝলা মহিউদ্দীন, কবিতা চর্চায় একবার বিরতি আসলো তো মরছো। বন্ধ্যাত্ব সহজে কাটেনা। ‘Poetry is a coquettish harlot’, অনেকটা ছেনাল মাগির মতো সারাক্ষণ লেপ্টালেপ্টি, জাপ্টাজাপ্টি কইরা থাকতে পছন্দ করে। তা না করছো তো তোমারে ছাইড়া যাইবো গা!’ তার ‘পরবাসে বসবাস’ কাব্যগ্রন্থ থেকে,
‘তুমি মরে যাবার পর তোমাকে আমি ভালোবাসতে শুরু করলাম - সেটাই
ছিল আমার প্রথম প্রেম।
তোমার শোয়ানো লাশটাকে আমার খুব মনে ধরল সেদিন।
আমার রেশমি চুলের বিনুনি, ডালপালার শিকড়জট পাকাতে শুরু করলো।
বড়-বড় চোখের পালকে মনে হলো, মরা শুকনো ঘাস খস্ খস্ করছে।
চোখের ডোবা শুকিয়ে কালো কাদায় কিৎকিৎ-
এই কি প্রথম প্রেম।...
ভালোবাসা কি এতোই কদাকার
এতোই প্রাগৈতিহাসিক
মরুভূমির বিশাল মাকড়সার ডিম দিতে চিৎ হয়ে শুয়ে-থাকা
আর আত্মজের খাদ্য হতে দেয়া নিজেকে।
এই-ই তবে প্রেম;
এই-ই তবে বাতাস;
এই-ই তবে
চলে যাওয়া।’
৪
আবদুল মান্নান সৈয়দ লিখেছেন, ‘কবি, গল্পকার, গদ্যলেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযোদ্ধা মুস্তফা আনোয়ার (১৯৪০-২০০৬) ছিল আমাদের কৈশোর-যৌবনের বন্ধু। উত্তাল উন্মোথিত ষাটের দশকে। মুস্তফা আনোয়ার তখন লিখত শওকত আনোয়ার নামে, আমি লিখতাম অশোক সৈয়দ নামে। আজ মনে হয় সে সব যেন কোন পূর্বজন্মের কথা...ষাটের দশক ছিল দ্রোহের ঋতু- ক্ষণিক কিন্তু দ্রোহময়। আমরা কেউ কেউ হয়তো আপোষ করেছি, কেউ কেউ হয়তো নিঃশব্দে সরে গেছি রঙ্গমঞ্চ থেকে, জীবন থেকেও ঝরে গেছি কেউ কেউ। মুস্তফা আনোয়ার-এর প্রথম বিখ্যাত কবিতা 'প্রেমের কয়লা'য় যে-প্রতিশ্রুতি জাগিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা শেষপর্যন্ত তিলতম খোয়ায়নি।’ কবির ‘কোনো ডাকঘর নেই’ কাব্যগ্রন্থ থেকে, কবিতার নাম ‘আমার গুলিখাওয়া ছবি’,
‘ফের সেই লাল জিভ-বার-করা মুখ;
এমনি করেই যুগে-যুগে বুকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে,
বিপরীত সংগম করে। ওকে পাথর মেরে-মেরে, মেরে ফেলা
হয় পাপিষ্ঠা ভেবে।
তুমি কি চিল। তুমি কি কাক। তুমি কি দূরে-চলে-যাওয়া
হারানো মাস্তুল কোনো নিরুদ্দেশ জাহাজের। তুমি কি বুকের
মধ্যে কবরের মতো মাটি। তুমি কি। তুমি কী। তোমাকে
জানার সাধ আমার তাই ভীষণ টানে।
আমি ছুটে যাই মেথরপট্টিতে; ডাক দি, চেঁচাই; নন্দ,
নন্দ তুই কোথায় গেলি। ছুটে যাই পাঞ্চুর দোকানে,
আমি ছুটে যাই শাঁখারি-বাজারে; আমি ছুটে যাই পথের
ধুলোর মধ্যে। গড়াই। শুয়ে পড়ি।’
মুস্তাফা মহিউদ্দীন রেখায়নে স্মৃতিচারণ করেছেন এভাবে, ‘মুস্তফা আনোয়ারকে আমি প্রথম দেখি শাহবাগের রেখায়নে সম্ভবত ১৯৭৩ কী ১৯৭৪ সালে এক বিকেলবেলা। পাশে ছিল প্রয়াত কবি আবিদ আজাদ। আবিদ পরিচয় করিয়ে দিলো, এই হচ্ছে কবি মুস্তফা আনোয়ার। রেডিওতে অনুষ্ঠান প্রযোজক। আমি চেয়ে দেখলাম ফর্সা টকটকে ভরাট মুখ। ভারি গুম্ফরেখা দু’পাশে কিছুটা ঝোলানো। কালো-লালচে মিশেলে ঘন কোঁকড়া চুল, ব্যাকব্রাশ করা, প্রায় কাঁধ পর্যন্ত নেমে এসেছে। কিছুক্ষণ আলাপের পর মনে হলো, তিনি স্বল্পভাষী ও অন্তর্মুখী চরিত্রের। তার তখন মাত্র একটি কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছে ‘কোনো ডাকঘর নেই’ এই শিরোনামে। এই কাব্যগ্রন্থ থেকে আরও একটা কবিতা, কবিতার নাম ‘আফিম’,
‘কোথায় যাচ্ছি? মৃত্যুর কাছে? না কবিতার কাছে–
প্রেমের কাছে যাওয়ার জন্যে মন হা-হা করে। তোমরা
কি কেউ প্রেমের একটা রঙিন গেট তৈরি করবে না। আসলে
প্রেমের বদলে মৃত্যুর গেট তৈরি;
মৃত্যুর বদলে পদ্যের দরজার হুড়কো খোলা;
মহাকাশ থেকে রোগ উড়ে আসছে, আমাদের মাথা কামড়ে
ধরেছে। আ, জঙ্গলের মশালের আলকাতরার তেল কতই না
ভালো ছিল। বল্লম দিয়ে হৃদয় খোঁড়া যেতো।
আমরা, বিশেষত আমি এক নোংরা লোক। পাতাল থেকে
উত্থিত হওয়ার দুঃখ হাস্যকর ভেবে কোথায় যেনো ঘুপটি মেরে
বসে থাকি। দুঃখ এই যে নিরুদ্দেশযাত্রা আর হলো না
এ-জীবনে।’
রোজার মাস এলে কবি মুস্তফা আনোয়ার গড়বেতনে ছুটি নিয়ে পুরোটা মাস ঢাকায় থাকতেন। এটা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস, রোজার দিনে তিনি অফিস করতেন না। নিয়মিত রোজা রাখতেন। পবিত্র কোরআন শরীফের ইংরেজি অনুবাদ একটু একটু করে পড়ে সারা মাসে শেষ করতেন। ঐ একমাস তিনি নিজের মতো করে ধর্মপালন করতেন। পবিত্র কোরআনের ইংরেজি অনুবাদের অনেক লাইন তিনি সুরা ধরে মুখস্ত বলতে পারতেন। তিনি বলতেন থিওলজি তার প্রিয় বিষয়। একবার তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘বাঙালি মুসলমানের কোনো মিথ নেই, তাই কালজয়ী সাহিত্যরচনা বাঙালি মুসলমানের পক্ষে সম্ভব হয়নি।’
৬ এপ্রিল ২০০৬ সালে, ৬৬ বছর বয়সে কবি মুস্তাফা আনোয়ার ফুসফুস ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন।
‘আমি জানি পৃথিবীতে
কোনোদিন কোনো শোকগাঁথা লেখা হয়নি, হবে না...’
কবি মুস্তাফা আনোয়ারকে নিয়ে কবি আবিদ আজাদ ‘কাটপ্রোজ বা চিলতে গদ্য সিরিজের কবিতা’ কাব্যগ্রন্থে একটা কবিতা লিখেছিলেন,
‘মুস্তফা আনোয়ার এখন রাজশাহীতে। উত্তরবঙ্গের কুয়াশায় বসে
বাংলা ব্যাকরণের বনবাদাড় আরেকবার ঘুরে-টুরে
দেখবেন বলে স্থির করেছেন-
এই সংবাদটুকু দিয়েই হো হো করে হেসে উঠলেন টেলিফোনে।
বললেন, ‘আবিদ, চলে আস, শীত পড়ার আগেই এসে পড়ো-
চমৎকার উষর ও মায়াবী ভঙ্গিতে তোমাকে
স্বাগতম জানাবে এই বরেন্দ্রভূমি
আমি আর মহীউদ্দিন পথে-পথে প্রস্তুত করে রেখেছি
ধুলো, উলুঝুল পাখি এবং ধোঁয়াটে কুয়াশা-
চলে আস।’
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
২২ জুলাই ২০২৪
তথ্যসূত্র:
১। মুস্তাফা আনোয়ার রচনাসমগ্র- প্রকাশক: আরিফুর রহমান নাইম
২। রুম নাম্বার ১৪৬- শওকত আহসান ফারুক
৩। রেখায়ন- সম্পাদনায়: শওকত আহসান ফারুক, ফখরুল ইসলাম রচি, রেজা সেলিম
৪। কবিতাসমগ্র- আবিদ আজাদ