
১
‘ইধ আবুসো বুদ্ধঘোস জম্বুদ্বীপে পিটকত্তয পালিমত্তং এব অত্থি, তস্স অট্ঠকথা চ আচরিযবাদা চ ন বিজ্জতি। সীহলট্ঠকথা পন্ সংগীতিত্তযং আরুল্হ সাপিরপুত্তাদীহি কতং মহিন্দেন কথামগ্গং ওলোকেত্বা সীহলভাসায কতা সীহলদীপে পবত্ততি’ (সদ্ধম্ম- সংগহো- বুদ্ধঘোসুপ্পত্তি)।
অর্থাৎ ‘হে বুদ্ধঘোষ! জম্বুদ্বীপে কেবল পালি পিটকত্রয়ই আছে, তার অট্ঠকথা এবং আচরিয়বাদ নেই। শারিপুত্র প্রমুখকৃত এবং সঙ্গীতিত্রয়ে সংকলিত সিংহলী অট্ঠকথা মহিন্দ থের কর্তৃক সিংহলী ভাষায় অনূদিত হয়ে সিংহল দ্বীপে সংরক্ষিত আছে’।
বৌদ্ধধর্মের উৎপত্তিস্থল বৈশালী, রাজগৃহ ও পাটলীপুত্র এবং এই ধর্ম প্রচারিত হয়েছিল মগধের রাজভাষা সংস্কৃতে নয়, জনগণের ভাষায় অর্থাৎ জানপদী ভাষায় (আমরা এখন যাকে অর্ধ-মাগধী বা মিশ্রামাগধী ভাষা বলে জানি, এই ভাষারই প্রমিত রূপ হলো পালিভাষা) গৌতম বুদ্ধ তার উপদেশগুলো দিয়েছিলেন। ‘অট্ঠকথা’ একটি পালি শব্দ, এর অর্থ হলো ‘অর্থকথা’। বুদ্ধের ধর্ম প্রচার আরম্ভের কয়েক বছরের মধ্যে প্রাচীন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ যেমন- সারনাথ, রাজগৃহ, বৈশালী, নালন্দা, পাবা, উজ্জয়িনী, চম্পা, মথুরা, শ্রাবস্তি ইত্যাদি এলাকায় বৌদ্ধ সঙ্ঘ গড়ে ওঠে এবং এ স্থানগুলো বৌদ্ধধর্ম ও দর্শন চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়। কিন্তু এসব এলাকায় গৌতম বুদ্ধের সবসময় উপস্থিত থাকা সম্ভব না হওয়ায় কেন্দ্রগুলি আনন্দ, মহাকশ্যপ, মহাকচ্চায়ন, মহাকোট্ঠিত, সারিপুত্র, মোগ্গ্লান ইত্যাদি নেতৃস্থানীয় শিষ্যদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতে থাকে। বৌদ্ধসঙ্ঘের নিয়মানুসারে ভিক্ষুগণ একত্রে তিন মাস বর্ষাবাস পালন করতেন। এসময় তারা রাজগৃহ, বেলুবন, শ্রাবস্তি ইত্যাদি এলাকার বিখ্যাত বিহারে মিলিত হয়ে বুদ্ধের ধর্মদর্শনের জটিল, দুর্বোধ্য ও দ্ব্যর্থক বিষয় নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা করতেন। খৃষ্টপূর্ব আনুমানিক ৪৮৬ অব্দে গৌতম বুদ্ধ পরিনির্বাণ লাভ করেন অর্থাৎ মারা যান।
২
বুদ্ধের বানীগুলো সংরক্ষণের জন্য তার পরিনির্বাণের তিন মাসের মধ্যেই মগধরাজ অজাতশত্রুর সহায়তায় রাজগৃহের সপ্তপর্ণী গুহায় প্রথম সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধ্যক্ষতা করেন মহাকশ্যপ স্থবির এবং ৫০০ বিদ্বান এতে অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনে সূত্র পাঠ করেন আনন্দ স্থবির এবং বিনয় পাঠ করেন উপালি স্থবির। এই সম্মেলন থেকেই ‘সুত্তপিটক’ ও ‘বিনয়পিটক’ সঙ্কলিত হয়। প্রথম সঙ্গীতির পরে বজ্জিপুত্রীয় কিছু ভিক্ষু ‘দসবত্থুণী’ (সিঙ্গিলোণকপ্প, দ্বংগুলকপ্প, গামন্তরকপ্প, আবাসকপ্প, অনুমতিকপ্প, আচিন্নকপ্প, আমথিতকপ্প, জলোগিকপ্প, অদসকং নিসীদনং, জাতরূপরজতং) বা দশটি বিধিবিধান নামে পরিচিত বিনয়ের দশটি নিয়ম ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা ও প্রচার করতে থাকে, এরফলে বৌদ্ধসঙ্ঘের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথম সঙ্গীতির একশত বছর পরে মগধরাজ কালাশোকের উদ্যোগে বৈশালীতে দ্বিতীয় সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৭০০ বিদ্বান অংশগ্রহণ করেন। অধ্যক্ষ রেবত থের বিদ্বানদের উপস্থিতিতে এই ‘দসবত্থুণী’ বিনয় বহির্ভূত বলে সিদ্ধান্ত দিলে বজ্জিপুত্রীয় ভিক্ষু’রা রেবত থেরর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় বৌদ্ধ সঙ্ঘ স্থবিরবাদী বা থেরবাদী ও মহাসাঙ্ঘিক বা আচরীয়বাদী নামে বিভক্ত হয়ে পড়ে। শুরুতে গৌতম বুদ্ধের বানীগুলো সংরক্ষিত হতো মুখে মুখে, আর মুখের কথার নড়চড় হলে স্বাভাবিকভাবেই এর অর্থান্তর ঘটে। এই সঙ্গীতিতে বৌদ্ধবাণীর অর্থভেদ নিয়ে মতানৈক্য হলে ধর্ম অনুসারীরা দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় সঙ্গীতির মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে মহাসাঙ্ঘিক’রা সাতটি এবং থেরবাদী’রা ১১টি অর্থাৎ ১৮টি উপসম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়। তবে এই ১৮টি উপসম্প্রদায়ই মূল মতবাদ বা হীনযান মতবাদকে গ্রহণ করে, তবে বেশ পরে আচরীয়বাদীদের কয়েকটি উপসম্প্রদায় মহাযান মতবাদের অনুরক্ত হয়ে পড়ে।
বাহ্যিক দৃষ্টিতে এসব নিকায়ের মধ্যে বিরোধ দেখা গেলেও তা ছিল মূলত সৈদ্ধান্তিক। এসময়ে বুদ্ধবাণীর অর্থ ব্যাখ্যা একটি ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রেক্ষাপটেই বুদ্ধের পরিনির্বাণের ২৩৬ বছর পরে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে তার নির্মিত অশোকরাম বিহারে তৃতীয় সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধ্যক্ষতা করেন মোগ্গালিপুত্র তিষ্য থের এবং ১০০০ বিদ্বান এতে অংশগ্রহণ করেন। এই সঙ্গীতিতেই বুদ্ধবাণী পালি ভাষায় লিপিবদ্ধ করে এর নাম দেয়া হয় ‘কথাবস্তু’, এটি থেরবাদী ‘অভিধর্ম পিটক’ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া বিভিন্ন নিকায় ও অঞ্চলের ভিক্ষুগণ নিজেদের নিকায়ের আদর্শ, দর্শন, মনন, প্রজ্ঞা ও পদ্ধতির ভিত্তিতে বুদ্ধবাণীর যে ব্যাখ্যা ও বিন্যাস প্রচার করতেন সেসব ব্যাখ্যাই তৃতীয় সঙ্গীতিতে ‘অট্ঠকথা’ রূপে সঙ্কলিত হয়। সম্রাট অশোক তার পুত্র ও কন্যা যথাক্রমে মহিন্দ থের এবং সংঘমিত্রা থেরীকে পালিভাষায় লিখিত এই পাণ্ডুলিপিসহ শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়েছিলেন। তিনটি সঙ্গীতি মিলিয়ে ত্রিপিটক সঙ্কলকের সংখ্যা মোট ২২০০ জন। সংকলিত হবার পরে যারা এর অর্থ-নির্দেশ করেছেন তাদের অট্ঠকথাচার্য বা ভাষ্যকার বলা হয়।
৩
বৌদ্ধ সংস্কৃতিতে সিনিয়র জুনিয়রকে ‘আবুসো’ বলে সম্বোধন করে আর আলোচ্য শ্লোকে উল্লিখিত বুদ্ধঘোষ একজন অট্ঠকথাচার্য। তিনি চতুর্থ শতাব্দীর শেষভাগ হতে পঞ্চম শতাব্দীর প্রথমভাগে বর্তমান ছিলেন এবং বর্তমান ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের গুণ্তুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বুদ্ধের বাণী সবার কাছে বোধগম্য তোলাই তাদের কাজ, এজন্যই তারা ‘অট্ঠকথা’ রচনা করেন। মূলত ধর্মীয় উদ্দেশ্যে এসব সাহিত্য রচিত হলেও এতে ভারতবর্ষের প্রাচীন লোক সমাজের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, ভৌগলিক অবস্থা ও ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। এরফলে এই সাহিত্যের ঐতিহাসিক মূল্যও আছে। লেখার শুরুতে যে শ্লোকের উল্লেখ করা হয়েছে এখন সে প্রসঙ্গেই আসি। এখানে জম্বুদ্বীপ বলে যে স্থানের কথা বলা হয়েছে সেটা আসলে ভারতের প্রাচীন নাম।
পুরাতন লিপি থেকে জানা যায় যে ভারতবর্ষ নামটির পরিচিতির পূর্বে ভারত, জম্বুদ্বীপ নামেই পরিচিত ছিল। সূর্যসিধান্তের লেখায় পাওয়া যায় জম্বুদ্বীপ। আক্ষরিক অর্থ ধরলে এর মানে হল জাম গাছে ভরা দ্বীপ কিন্তু সনাতন সৃষ্টিতত্ব (মানে হিন্দু বৌদ্ধ কিংবা জৈন) অনুযায়ী জম্বুদ্বীপ মানে হলো ‘সাধারন মানুষের বাসস্থান’। উত্তরপ্রদেশের হস্তিনাপুরে জৈন তীর্থ জম্বুদ্বীপের স্থাপত্যশৈলীতেও জম্বুদ্বীপের মোটামুটি একটা গাঠনিক ধারনা মেলে। হিন্দুদের মতে, তাদের দেশটাই পৃথিবী এবং তারাই একমাত্র মানবজাতি। বায়ু পুরাণে আছে ‘জম্বুদ্বীপের কেন্দ্র এই ভারতবর্ষ’। তাদের চারটি যুগ আছে। তারা কর্মের নিয়মাধীন, হিমাবন্ত তাদের ওপরে অবস্থিত। ভারতবর্ষ নয় খণ্ডে বিভক্ত। খণ্ডগুলোর মধ্য দিয়ে নৌচলাচল উপযোগী নদী প্রবাহিত। ভারতবর্ষের দৈর্ঘ্য ৯০০০ যোজন আর প্রস্থ ১০০০ যোজন।
৪
ইংরেজিতে ইন্ডিয়া কথাটি সিন্ধু নদের আদি ফার্সি নাম হিন্দু থেকে এসেছে। প্রাচীন গ্রিকরা ভারতীয়দের বলত ইন্দোই বা ‘ইন্দাস’ (সিন্ধু) নদী অববাহিকার অধিবাসী। ভারতের প্রাচীন সাহিত্যে ‘হিন্দু’ শব্দটি পাওয়া যায়না। অষ্টম শতাব্দীর দিকে একটি তান্ত্রিক গ্রন্থে সর্বপ্রথম এই শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে হিন্দু বলতে একটি জাতিকে বুঝিয়েছে, কোন ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠীকে নয়। তবে শব্দটি অনেক পুরাতন। কারণ আবেস্তা ও প্রাচীন পারস্য ভাষার গ্রন্থে এই শব্দটির ব্যবহার পাওয়া গেছে। সেকালে পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার লোকেরা সিন্ধুনদের অপরদিকের অধিবাসীদেরকে উল্লেখ করতে ফার্সিতে হিন্দুস্তান (বা হিন্দুস্থান, যার অর্থ ‘হিন্দুদের দেশ’) শব্দটি ব্যবহার করতো। বর্তমানেও এটি সমগ্র ভারত অর্থে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও চীনা ভাষায় ভারতের নাম তেনজিকু বা তিয়ানযহু।
ঋগ্বৈদিক যুগে আর্যদের রাজনৈতিক অবস্থান তেমন সুসংগঠিত ছিলনা। এ সময়ের রাজনৈতিক কাঠামো ছিল উপজাতিকেন্দ্রিক। এযুগের কয়েকটি উপজাতি গোষ্ঠী হলো-ভরত, যদু, সঞ্জয়, অনু, পুরু, দ্রুহুত, তুর্বস ইত্যাদি। এযুগে পরিবার থেকে রাষ্ট্রচিন্তার উদ্ভব ঘটেছে। রক্ত সম্পর্কিত কতগুলো পরিবার নিয়েই গঠিত হতো উপজাতি। এই উপজাতি গোষ্ঠীর পরিচালনা পদ্ধতির মধ্য দিয়েই আর্যদের প্রাথমিক রাষ্ট্রীয় ধারণা বিকাশ লাভ করেছিল। তবে আর্যদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব ছিল। প্রতিটি গোষ্ঠী পরিচালিত হতো একজন নেতার মাধ্যমে। এই নেতা রাজা উপাধি ধারণ করে তার এলাকা শাসন করতো। এভাবেই ধীরেধীরে রাজতন্ত্রের উদ্ভব হয়। ঋগ্বেদে সুদাস নামে একজন রাজার কথা জানা যায়, তার পিতার নাম ছিল দিবোদাস। আর্যদের অন্যতম উপজাতীয় গোষ্ঠী ‘ভরত’ গোষ্ঠীর রাজা ছিলেন তিনি। সরস্বতী নদীর উৎস মুখে গড়ে ওঠা অঞ্চলে এই গোষ্ঠীর রাজ্যপাট ছিল। ঋগ্বেদ থেকে জানা যায় যে, সুদাস পাঞ্জাব এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করেন। এযুগে সংঘটিত গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধের প্রধান কারণ কৃষি ও পশুচারণ ভূমিগুলোর ওপর ক্রমাগত অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। প্রথমদিকে বহিরাগত আর্যরা স্থানীয় অধিবাসীদের জমি কেড়ে নেয়ার জন্য অস্ত্র ধারণ করলেও পরবর্তীতে আর্য উপজাতিগুলো নিজেদের মধ্যেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ঋগ্বেদে দশ রাজার যুদ্ধের কাহিনী বর্ণিত আছে। সুদাস ছিলেন এই দশ রাজার অন্যতম। জানা যায় যে, প্রথম দিকে সুদাসের প্রধান পুরোহিত ছিলেন বিশ্বমিত্র, কিন্তু তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে সুদাস বশিষ্ঠকে প্রধান পুরোহিতের দায়িত্ব দেন। এতে অপমানিত হয়ে বিশ্বমিত্র অন্যান্য আর্য উপজাতীয় রাজাদের সংগঠিত করে সুদাসকে আক্রমণ করেন। এই যুদ্ধে সুদাস সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন। এভাবে শক্তিমান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পররাজ্য গ্রাস করে বড় রাজ্যের অধীশ্বর হবার স্বপ্ন তৈরি হতে থাকে। পন্ডিতদের ধারণা, এই ভরত উপজাতিদের গোষ্ঠীনাম থেকেই পরবর্তীকালে এই ভুখন্ডের নাম হয় ভারতবর্ষ। দশ গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে সুদাসের সাফল্য প্রমাণ করে যে, ভরতগোষ্ঠীই ছিল আর্য সভ্যতার প্রধান স্থপতি।
৫
ভারতীয় মহাকাব্য ও পুরাণে কিন্তু ‘ভরত’ নামে তিন জন পৃথক চরিত্র আছেন। এছাড়াও ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে দেখা যায় যে, প্রাচীনকালে ভরত নামে একজন নাট্টশাস্ত্র প্রণেতাও ছিলেন, যার গ্রন্থে ভারতের নাট্যকলার বিবরণ পাওয়া যায়। রামায়ণ, বিষ্ণুপুরাণ এবং ভাগবতে সূর্যবংশীয় ভরতের উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি রাজা দশরথ ও তার স্ত্রী কৈকেয়ীর পুত্র, রামের বৈমাত্রেয় ভাই। কৈকেয়ী নিজ পুত্র ভরতকে রাজা বানাতে রামকে বনবাসে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু রাম বনবাস থেকে ফিরে এলে ভরত তার হাতে রাজ্যভার তুলে দেন এবং দুই ছেলে তক্ষ ও পুষ্কলকে সঙ্গে নিয়ে গন্ধর্বদেশ জয় করে ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দেন। ভরত রামের মতোই সরযু নদীতে আত্মবিসর্জন করেন।
ঋষভদেবের পুত্র ভরত ছিলেন বিষ্ণু ভক্তি পরায়ণ। বিশ্বরূপের কন্যা পঞ্চাজনার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পাঁচ পুত্রের মধ্যে রাজ্য ভাগ করে দিয়ে তিনি তপস্যায় ব্রত হন। লোকসঙ্গ বিবর্জন করে জড়বৎ জীবনযাপনের জন্য তার নাম হয়েছিল জড়ভরত। তৃতীয়জন হলেন পূর্বে উল্লিখিত অর্থাৎ মহাভারত (আদিপর্ব) অনুসারে, রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র চন্দ্রবংশীয় রাজা ভরত। তার প্রকৃত নাম ছিল সর্বদমন। পরে তার নামকরণ হয় ভরত। তার জন্ম কণ্বমুনির আশ্রমে। কথিত আছে যে, রাজত্ব লাভের পর তিনি সকল নৃপতিকে পরাজিত করেন। এক পর্যায়ে পুরো ভারতবর্ষ তার শাসনাধীন হয়। বিদর্ভরাজের তিন কন্যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কেউ কেউ বলেন তারই নামানুসারে ভারতবর্ষের নামকরণ হয়। কুরু তার নবম বংশধর, তার বংশেই পাণ্ডবদের জন্ম হয়। ভরতের বাল্যজীবন কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ গ্রন্থে বর্ণিত আছে।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
হদিসঃ
১। বৌদ্ধ ভাষ্য- পালি অট্ঠকথা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত - দিলীপ কুমার বড়ুয়া
২। আল বেরুনীর ভারত তত্ত্ব - আবু মহামেদ হবিবুল্লাহ
৩। ভারত সন্ধানে - জওহরলাল নেহরু
৪। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) - এ কে এম শাহনাওয়াজ
৫। ইন্টারনেট