
১
জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা কয়েকদিন আগে ঢাকায় এসে বাংলাদেশ ও ভারতের গণমাধ্যমগুলোয় আলোচনার ডালপালা এবং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য কন্টেন্টের শিরোনাম বানিয়ে পাকিস্তানে ফিরে গেলেন। তিনি পাকিস্তান আর্মির একজন চার তারকা জেনারেল, বর্তমানে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রাতে ইমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। এরপর ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আর্মি চীফ জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে বৈঠকে অংশ নেন। এরমাঝে, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সকালে তিনি সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শন করেন। তার সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শনের সাথে সম্ভবত নস্টালজিয়া কাজ করেছে, কেননা ১৯৯৪ সালে এখানে অবস্থিত ‘স্কুল অভ ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাকটিক্স’ থেকে তিনি জুনিয়র কমান্ড এন্ড স্টাফ কোর্স (জেসিএসসি) করেন। জেনারেল সাহির তখন ক্যাপ্টেন সাহির, আমরা প্রায় শ’খানেক অফিসার একসাথে জেসিএসসি কোর্স করেছিলাম। ঐ কোর্সে তিনি ছাড়াও অন্যান্য দেশের আরও বেশ কয়েকজন আর্মি অফিসার অংশগ্রহণ করেছিলেন।
লেখাটা শেষ করবো জেনারেল সাহিরের জীবনের একটা গল্প দিয়ে।
২
জেনারেল সাহির পাকিস্তানের চকওয়াল জেলার একটি ছোট গ্রাম, মুলহাল মুঘলানে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সে বাবা-মা’কে হারিয়ে তিনি এতিম হিসাবে বড় হন এবং ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ তারিখে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে পাস আউট করে ৮ম সিন্ধ রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারালেও সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আর্মিতে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে বর্তমান পদে উন্নীত হন। তার ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম এবং সাফল্য নিয়ে একটা হৃদয়স্পর্শী গল্প আছে, সেটা হলো ব্যক্তিগত নথিপত্রে যেখানে সাধারণত বাবা-মায়ের নাম লিখতে হয়, সেখানে তিনি তার রেজিমেন্ট, অর্থাৎ ‘সিন্ধ রেজিমেন্ট’-এর নাম লিখেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে আর্মিই তার পরিবার। এতিম হওয়া সত্ত্বেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অসাধারণ সাফল্য এবং আর্মি’র প্রতি তার গভীর ভালোবাসা লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকার এক দারুণ উদাহরণ।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
১ নভেম্বর ২০২৫