
১
২০২৬ সালের ভূ-রাজনীতিতে এক বিধ্বংসী ও নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের ময়দান প্রথাগত সীমান্ত ছাড়িয়ে সমুদ্রের নিভৃত তলদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। ইরানের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান যে রণকৌশল গ্রহণ করেছে, তা বিশ্বনেতাদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ইরান কেবল হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রথাগত হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা সরাসরি আঘাত হানতে চাইছে বৈশ্বিক ইন্টারনেটের স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাবমেরিন ক্যাবলগুলোতে। বিশ্ব অর্থনীতির রক্তবাহী ধমনী হিসেবে বিবেচিত এই ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বর্তমানে বৈশ্বিক অস্তিত্বের প্রধান চাবিকাঠি, যার মাধ্যমে ৯৯ শতাংশ আন্তর্জাতিক ডেটা ও আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। এই অ্যাসিম্যাট্রিক চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে ইরান মূলত এক ডিজিটাল ব্লকেড সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে, যা এক ঘণ্টার ব্যবধানে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ট্রানজেকশন ধ্বংস করার সক্ষমতা রাখে। পশ্চিমাদের ডিজিটাল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোকে ‘মাইক্রো স্টেট’ আখ্যা দিয়ে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক শক্তি কাঠামোকে চরম অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের বড় অংশের মালিকানা আমেরিকা ও ইউরোপের হাতে থাকায়, ইরান একে সরাসরি পশ্চিমা অর্থনীতির হৃদপিণ্ডে রক্তক্ষরণ ঘটানোর মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের তোয়াক্কা না করে ক্যাবলের ওপর ‘ট্রানজিট টোল’ ধার্য করার ঘোষণা ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের প্রচলিত সংজ্ঞাকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ড্রোনের মাধ্যমে তেলের জাহাজ ঠেকানোর চেয়ে এই ‘হাইবারস্পেস’ সমরকৌশল ইরানের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী, অথচ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বহুগুণ বেশি ধ্বংসাত্মক। জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি এখন ডিজিটাল কানেক্টিভিটিকে জিম্মি করার এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ খেলা বিশ্বকে এক দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক মন্দার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। তেলের পাইপলাইন থেকে সরে এসে যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু এখন সমুদ্রতলের সরু তারগুলোতে স্থিত হয়েছে, যা আধুনিক সমরবিদ্যার এক নতুন বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, হরমুজ থেকে হাইবারস্পেস পর্যন্ত ইরানের এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এখন বিশ্বশক্তির সামনে সবচেয়ে বড় কৌশলগত পরীক্ষা।
২
ফাইবার অপটিক্সের যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বংসের নতুন ছক।
বিশ্ব অর্থনীতির রক্তবাহী ধমনী হিসেবে পরিচিত সমুদ্রতলদেশের ফাইবার অপটিক ক্যাবল বর্তমানে বৈশ্বিক অস্তিত্বের প্রধান চাবিকাঠি। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ডেটা আদান-প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন এই অদৃশ্য অবকাঠামোর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। Al Habtoor Research Centre এবং EurAsian Times-এর সাম্প্রতিক তথ্যমতে, প্রতিদিন গড়ে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন এই ক্যাবলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ইরান যদি কৌশলগতভাবে হরমূজ প্রণালীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া ১৭টি প্রধান ক্যাবল সিস্টেমের ক্ষতিসাধন করে, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধস নামবে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)-র সাথে যুক্ত মিডিয়া আউটলেট ‘Tasnim News Agency’ এবং সংশ্লিষ্ট মাধ্যমগুলো এই হুমকির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাসনিম নিউজ একটি ম্যাপ প্রকাশ করে যেখানে পারস্য উপসাগর এবং হরমূজ প্রণালীর সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর অবস্থান দেখিয়ে করা হয় যে, ইরান কেবল তেলের জাহাজ নয়, বরং ডিজিটাল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। Iran International এবং Agenzia Nova ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের এক খবরে প্রকাশ করে যে, ইরান সাবমেরিন ক্যাবল কাটার মাধ্যমে একটি 'ডিজিটাল ব্লকেড' তৈরির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এরফলে প্রতি ঘণ্টায় কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক ট্রানজেকশন মুহূর্তেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক সুইফট (SWIFT) থেকে শুরু করে বৈশ্বিক স্টক মার্কেটগুলো এরফলে নজিরবিহীন ব্ল্যাকআউটের মুখে পড়বে। এই ডিজিটাল চোকপয়েন্টটি বর্তমানে ইরান-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এবং ধ্বংসাত্মক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
৩
সাবমেরিন ক্যাবল: ইরানের নতুন ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি প্রকাশিত সাম্প্রতিক ম্যাপ থেকে স্পষ্ট যে, তারা এখন সমুদ্রতলদেশের অবকাঠামোকে ‘অ্যাসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ার’-এর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই ক্যাবল নেটওয়ার্কের প্রায় ৯০ শতাংশ মালিকানা আমেরিকা এবং ফ্রান্সের অরেঞ্জের মতো ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকা ইরানের জন্য এক বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এখানে আঘাত হানার মাধ্যমে তেহরান সরাসরি পশ্চিমা অর্থনীতির হৃদপিণ্ডে রক্তক্ষরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। এর পাশাপাশি ইরানের নিজস্ব জলসীমার ওপর দিয়ে যাওয়া ডেটা প্রবাহের ওপর ‘ট্রানজিট টোল’ ধার্য করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বা আনক্লোস-এর (UNCLOS) জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। এটি কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইন ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের প্রচলিত সংজ্ঞা আমূল বদলে যেতে পারে। ড্রোনের মাধ্যমে তেলের জাহাজ ঠেকানোর চেয়ে এই ডিজিটাল ব্লকেড ইরানের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমরকৌশল হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। এই কৌশল কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং বৈশ্বিক কানেক্টিভিটিকে জিম্মি করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
৪
‘মাইক্রো স্টেট’ ও আঞ্চলিক অবরোধ।
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে ‘মাইক্রো স্টেট’ হিসেবে অভিহিত করে ইরান এক নতুন ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত যুদ্ধ শুরু করেছে। আরব আমিরাত, বাহরাইন বা কাতারের মতো জিসিসি ভুক্ত দেশগুলো তাদের ডিজিটাল কানেক্টিভিটির জন্য ভৌগোলিকভাবে ইরানের নিকটবর্তী জলসীমার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। জানা যায় যে, ইরান হরমুজ প্রণালী এলাকায় যেসব ইন্টারনেট ক্যাবল গিয়েছে তারমধ্যে মোট কমপক্ষে ৭টা বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে, যেগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত-এর ইন্টারনেট লাইফ লাইন। স্টিমসন সেন্টারের ২০২৬ সালের গবেষণা অনুযায়ী, ইরান উন্নত ড্রোন ও সাবমেরিন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চলের সমুদ্রতলদেশের ক্যাবলগুলোতে আঘাত হানার পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে। এই নির্ভরশীলতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ইরান কেবল হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ নয়, বরং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিচ্ছে। এরফলে প্রতিদিন বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০-২৫ শতাংশ তেল সরবরাহ যেমন বন্ধ হবে, তেমনি ওই দেশগুলোর পুরো ডিজিটাল অর্থনীতি অচল হয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বা ‘আনক্লোস’ লঙ্ঘন করে ইরান মূলত ‘Anti-Access/Area Denial’ (A2/AD) সক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক মার্কিন মিত্রদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে বর্তমান শক্তি কাঠামোকে ওলটপালট করে দেওয়া।
৫
জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সংকট।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘অয়েল ট্রানজিট চোকপয়েন্ট’, যেখান দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২০-২৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই সংকীর্ণ রুটটি বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় চরম বিপর্যয় নামিয়ে আনা। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে ইরান তেলের সাথে ‘ডেটা’ বা ডিজিটাল অবকাঠামোকে যুক্ত করে এক শক্তিশালী দ্বিমুখী চাপের কৌশল নিয়েছে। একদিকে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি, অন্যদিকে সমুদ্রতলের ক্যাবল ধ্বংসের মাধ্যমে ডিজিটাল ট্রানজিশন থামিয়ে দেওয়া—বর্তমানে এই দুইয়ের সমন্বয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন (Supply Chain) পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরানের এই কৌশল কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল নয়, বরং আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর কলকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ডিজিটাল সেবা—সবই এখন ইরানের এই 'হাইবারস্পেস' কৌশলের কাছে জিম্মি। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও তথ্যের এই যুগপৎ অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী মন্দার সূত্রপাত করতে পারে।
৬
কৌশলগত বাস্তবতা: এটি কি কেবলই হুমকি?
ইরানের এই অবস্থানকে সামরিক বিশ্লেষকরা 'Deterrence' বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরোধমূলক কৌশল হিসেবে দেখছেন, যা সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টিতে বেশি কার্যকর। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সমুদ্রতলদেশের সাবমেরিন ক্যাবল ইচ্ছাকৃতভাবে কাটা বা ধ্বংস করাকে ‘অ্যাক্ট অফ ওয়ার’ (Act of War) হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি ইরান সত্যিই এই পথে হাঁটে, তবে তা আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বা মিত্র বাহিনীর সরাসরি সামরিক হামলার পথ প্রশস্ত করবে। তবে এই কৌশলের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর ‘পারস্পরিক ধ্বংসাত্মক’ প্রকৃতি; কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতি ধসে পড়লে চীন ও রাশিয়ার মতো ইরানের প্রধান মিত্র দেশগুলোও ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়বে। এমনকি ইরানের নিজস্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও বৈশ্বিক ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা নিজেরাও পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। কৌশলগতভাবে ইরান জানে যে, একবার ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামত করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যা বিশ্বকে দীর্ঘমেয়াদী মন্দায় ঠেলে দেবে। তাই তেহরান সরাসরি ধ্বংসের চেয়ে ‘টোল’ বা ‘অবরোধের’ হুমকি দিয়ে পশ্চিমাদের আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকার করাতে চায়। এই ডিজিটাল ব্লকেড মূলত ইরানের জন্য একটি ‘ডুমসডে অপশন’, যা তারা কেবল চূড়ান্ত অস্তিত্ব রক্ষার সংকটেই ব্যবহার করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এটি একটি আসিম্যাট্রিক গেম, যেখানে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে ধ্বংসের মাত্রা হবে অপূরণীয়।
৭
ইরানের ‘হরমুজ থেকে হাইবারস্পেস’ কৌশল এটিই প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধ আর কেবল সীমান্ত বা আকাশসীমায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং সমুদ্রের গভীর তলদেশের অদৃশ্য ফাইবারগুলোই এখন তেলের চেয়েও দামি ও স্পর্শকাতর ভূ-রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক ডিজিটাল অবকাঠামোর এই ভঙ্গুরতা মোকাবিলা করতে হলে বিশ্বশক্তিগুলোকে কেবল সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং সমুদ্রতলদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ সংকট এড়াতে হরমূজ প্রণালীর মতো একক চোকপয়েন্টের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প রুট ও স্যাটেলাইট ভিত্তিক ‘ব্যাকআপ’ ইন্টারনেট ব্যবস্থার প্রসারে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বা 'আনক্লোস' (UNCLOS)-কে যুগোপযোগী করে ডিজিটাল অবকাঠামো ধ্বংসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক বিধান প্রণয়ন করতে হবে। জিসিসি ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব সাইবার-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং ডাটা ক্যাবল সুরক্ষায় আঞ্চলিক কৌশলগত ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। ইরানের এই ‘অ্যাসিম্যাট্রিক’ চ্যালেঞ্জ মূলত একটি সতর্কবার্তা—যেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রথাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ‘ডিজিটাল ফোর্টিফিকেশন’ বা ডিজিটাল দুর্গ গড়ে তোলা অপরিহার্য।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
১২ মে ২০২৬