
১
মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে যুদ্ধ এবং তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েনের এক রুদ্ধশ্বাস দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পারিবারিক উৎসব বর্জন করে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে অবস্থান করছেন, যা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছানোর গুঞ্জনকে উসকে দিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে গভীর রাতে তেহরানে পৌঁছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে সংকট নিরসনে বৈঠক করছেন। শান্তি চুক্তি বনাম সর্বাত্মক সামরিক সংঘাতের এক অবর্ণনীয় টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে থাকা ইরান-মার্কিন সংকট এখন এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে এসে উপনীত হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বিশ্বরাজনীতিকে পাল্টে দিতে পারে। ওয়াশিংটনের ‘মেক অর ব্রেক’ আলটিমেটাম এবং তেহরানের ‘অধিকারের প্রশ্নে আপস নয়’—এই দুই অনড় অবস্থানের মাঝে পাকিস্তানের এই ব্যাকচ্যানেল মধ্যস্থতা এখন বিশ্ব কূটনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। চূড়ান্ত বিচারে, আগামী কয়েকটি দিনই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্য কি এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আগুনে পুড়বে, নাকি পর্দার আড়ালের এই তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা কোনো সম্ভাব্য ফেস-সেভিং ফর্মুলার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি ও মানবতাকে এক মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে।
২
ট্রাম্পের ‘মেক অর ব্রেক’ আলটিমেটাম এবং ওয়াশিংটনের আবহ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের আলোচনাকে চুক্তি ও হামলার মধ্যকার একটি চূড়ান্ত ‘সীমারেখা’ বা ‘লাইন অফ কন্ট্রোল’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা ওয়াশিংটনের ‘আলটিমেটাম কূটনীতি’ বা তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপের কৌশলকে স্পষ্ট করে। মার্কিন প্রশাসনের বার্তা অনুযায়ী, ইরানকে হয় হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক অবরোধ সংক্রান্ত ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে চুক্তিতে আসতে হবে, অন্যথায় দেশটিকে আবারও বিধ্বংসী সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে যেকোনো মুহূর্তে কার্যকর করার জন্য হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই একটি নতুন হামলার ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত করে রেখেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলোকে ‘বাড়াবাড়ি রকমের’ বলে আখ্যা দেওয়া হলেও, ট্রাম্পের তাঁর ছেলের বিয়েতে না গিয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। সামগ্রিকভাবে এই মার্কিন আলটিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যকে এক সুতোর ব্যবধানে ‘মেক অর ব্রেক’ বা হয় চুক্তি, নয় যুদ্ধের এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
৩
তেহরানের প্রতিরোধ: ‘অধিকারের প্রশ্নে আপস নয়’।
যুক্তরাষ্ট্রের চড়া সুর এবং সামরিক হুমকির বিপরীতে ইরান তার নিজস্ব অধিকার ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে শক্ত অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ তেহরানে চলমান আলোচনা চলাকালেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো সৎ পক্ষ নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের দাবি, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে সম্পূর্ণ ‘বাড়াবাড়ি রকমের এবং অযৌক্তিক’ শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাবের মতো জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস বা মাথা নত করবে না। বিশেষ করে মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীতে নিজস্ব সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখাকেই ইরান শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। ইরানের এই অনমনীয় মনোভাব এবং মার্কিন আলটিমেটামের দ্বিমুখী অবস্থান চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে রূপ দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের অধিকার রক্ষা করে ইরান কতটুকু ছাড় দেবে, তার ওপরই এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
৪
আসিম মুনিরের ‘ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি’: তিনি কি পারবেন সমাধান করতে?
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চরম উত্তেজনা প্রশমনে এবং একটি ‘ফেস-সেভিং’ বা সম্মানজনক ফরমুলা খোঁজার লক্ষ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গত ২২ মে ২০২৬ তারিখ, শুক্রবার একটি উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদল নিয়ে আকস্মিকভাবে তেহরান পৌঁছান। এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে তাঁর সাথে ছিলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং উচ্চপদস্থ সামরিক-কৌশলগত কর্মকর্তাবৃন্দ। তেহরানে পৌঁছানোর পর তাঁকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে তাঁর রুদ্ধশ্বাস বৈঠক চলে। পাকিস্তান ঐতিহ্যগতভাবেই ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষের সাথেই গভীর কৌশলগত ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখায় এই মহাসংকটে পর্দার আড়ালের প্রধান ‘মেসেঞ্জার’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জেনারেল মুনিরের ভূমিকা এখন আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে বড় আশার আলো। কাতার ও ওমানের মতো আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোও পাকিস্তানের এই ব্যাকচ্যানেল কূটনীতিকে পেছন থেকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে, যা মার্কিন আলটিমেটামের মুখে একটি বড় বিপর্যয় এড়ানোর শেষ চেষ্টা।
ক। গোপন প্রস্তাব বা ‘ফেস-সেভিং’ ফর্মুলা।
চলমান তীব্র সংকটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির উভয় পক্ষের মান রক্ষা করার জন্য একটি মধ্যপন্থা বা 'ফেস-সেভিং' ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গোপন প্রস্তাবের মূল ভিত্তি হতে পারে একটি পারস্পরিক ছাড়ের সমীকরণ, যেখানে কোনো পক্ষকেই যেন পরাজিত মনে না হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইরান যদি তাদের কৌশলগত কোনো সামরিক অবস্থান বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা সাময়িকভাবে কিছুটা শিথিল করতে সম্মত হয়, তবে তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ আংশিকভাবে তুলে নেওয়ার গ্যারান্টি দেবে। কাতার ও ওমানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সমর্থনে তৈরি এই ফর্মুলাই এখন ওয়াশিংটনের যুদ্ধকক্ষ আর তেহরানের প্রতিরোধ অবস্থানের মাঝে একমাত্র কূটনৈতিক সেতু হিসেবে কাজ করছে।
খ। সীমিত সময়, বিশাল চ্যালেঞ্জ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই দুই পক্ষের মধ্যে "গভীর ও উল্লেখযোগ্য মতভেদ" রয়ে যাওয়ার কথা জানালেও, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই দফায় দফায় বৈঠক প্রমাণ করে যে পর্দার আড়ালে একটি সুনির্দিষ্ট সমাধান সূত্র তৈরির মরিয়া চেষ্টা চলছে। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া চলতি সপ্তাহের আলটিমেটামের কারণে কূটনীতিকদের হাতে সময় খুবই সীমিত, যা এই আলোচনাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে কোনো অলৌকিক অগ্রগতি না এলেও, এই তীব্র তৎপরতাই ইঙ্গিত করে যে কোনো পক্ষই এখনই সরাসরি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে না। এই বহুমুখী ও সমন্বিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টাই এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা কাটানোর শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করছে।
৫
বহুমুখী কূটনীতি: ইরানের বৈশ্বিক যোগাযোগ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুধু পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সাথেই বৈঠক করেননি, বরং তুরস্ক, ইরাক, কাতার, ওমান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে সমান্তরালভাবে টেলিফোনে কথা বলে এক বহুমুখী কূটনীতি শুরু করেছেন। এই তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে মূলত দুটি প্রধান লক্ষ্য কাজ করছে:
ক। আঞ্চলিক পরাশক্তিদের নিয়ে পাল্টা আন্তর্জাতিক চাপ।
ইরানের বর্তমান কৌশলের মূল ভিত্তি হলো কাতার ও ওমানের মতো দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী এবং তুরস্ক ও ইরাকের মতো প্রভাবশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে কূটনৈতিকভাবে পাশে রাখা। আরাগচির এই ঘনঘন যোগাযোগের উদ্দেশ্য হলো ওয়াশিংটনের একতরফা আলটিমেটাম ও সামরিক হুমকির মুখে একা না পড়ে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক কূটনৈতিক ঢাল তৈরি করা। এই রাষ্ট্রগুলোকে সম্পৃক্ত করে তেহরান মূলত মার্কিন প্রশাসনের ওপর একটি পাল্টা আন্তর্জাতিক মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
খ। যুদ্ধ এড়ানোর সদিচ্ছা প্রদর্শন ও দায় এড়ানো।
জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ইরান নিজেকে শান্তির সপক্ষে একটি দায়িত্বশীল ও আলোচনাপ্রার্থী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। আরাগচির এই বহুমুখী কূটনৈতিক যোগাযোগের মূল লক্ষ্য হলো এটি প্রমাণ করা যে, তেহরান যুদ্ধ এড়াতে এবং সংকট সমাধানে আন্তরিক। এরফলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাড়াবাড়ি ও অযৌক্তিক’ দাবির কারণে যদি শেষ পর্যন্ত এই শান্তি আলোচনা ভেস্তেও যায়, তবে সম্ভাব্য সংঘাতের সমস্ত দায় এককভাবে ওয়াশিংটনের ওপর বর্তাবে। মূলত আন্তর্জাতিক মহলে মার্কিন একতরফা সামরিক আগ্রাসনের যৌক্তিকতা খর্ব করতেই ইরান এই কৌশলগত চালটি চালছে।
৬
সংকট কোন দিকে যাচ্ছে?
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শেষ মুহূর্তে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ‘ফেস-সেভিং’ চুক্তি হতে পারে, যেখানে ইরান হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ শিথিল করবে। তবে ট্রাম্প যদি তাঁর ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ জেদে অনড় থাকেন এবং ইরানও জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে পিছু না হটে, তবে আলোচনা ব্যর্থ হয়ে চলতি সপ্তাহেই সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এই দুটি বিপরীতমুখী সম্ভাবনার ওপরই এখন বিশ্ববাজারের তেলের দাম, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ভর করছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে প্রধানত দুটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ দৃশ্যমান হয়:
ক। একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি (De-escalation) ।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক সমঝোতা বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, যা যুদ্ধাবস্থা এড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। এই সম্ভাব্য 'ডি-এস্কেলেশন' ফর্মুলার আওতায় ইরান বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিশ্চয়তা দেবে। এর বিপরীতে মার্কিন প্রশাসনও ইরানের ওপর আরোপিত তাদের কঠোর নৌ-অবরোধ সাময়িকভাবে শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেবে। কাতার ও ওমানের সমর্থনপুষ্ট এই পারস্পরিক ছাড়ের সমীকরণটি উভয় পক্ষের জন্যই একটি সম্মানজনক বিদায় বা ‘ফেস-সেভিং’ পথ তৈরি করবে। এই সাময়িক চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করবে।
খ। সর্বাত্মক যুদ্ধ (Conflict Escalation) ।
কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ বা আনকন্ডিশনাল সারেন্ডারের জেদ এবং ইরানের অধিকার রক্ষার অনমনীয় অবস্থান পরিস্থিতিকে সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দুই পক্ষের এই মুখোমুখি সংঘাতের জেরে চলতি সপ্তাহের শেষেই মধ্যপ্রাচ্য এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ শুরু হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে, যা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়বে। চূড়ান্ত বিচারে, এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও মহাবিপর্যয়কর মন্দার দিকে ধাবিত করবে।
৭
ওয়াশিংটনের যুদ্ধকক্ষ আর তেহরানের কূটনৈতিক টেবিল—এই দুই মেরুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুরো বিশ্ব এখন এক চরম অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের মধ্যস্থতা এবং ইরানের বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা প্রমাণ করে যে, খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও উভয় পক্ষই আপাতত একটি রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানোর শেষ চেষ্টাটুকু চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের সম্ভাব্য পরিণতি মূলত দুটি সমীকরণে বিভক্ত: প্রথমত, একটি ইতিবাচক ‘ফেস-সেভিং’ অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি, যেখানে ইরান হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা দেবে এবং বিনিময়ে মার্কিন প্রশাসন তাদের কঠোর নৌ-অবরোধ শিথিল করবে। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের একতরফা আলটিমেটাম এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অনমনীয় জেদ বহাল থাকলে আলোচনা ব্যর্থ হয়ে চলতি সপ্তাহেই একটি বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এই দ্বিতীয় পথটি বেছে নেওয়া হলে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী মহাবিপর্যয়কর মন্দার দিকে ধাবিত করবে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখন একমাত্র দিক নির্দেশনা হলো, একতরফা আলটিমেটামের নীতি পরিহার করে কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের এই যৌথ ব্যাকচ্যানেল কূটনীতিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
২৪ মে ২০২৬