
১
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালি ও বন্দর আব্বাসের কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় আমেরিকার আকস্মিক 'প্রিএম্পটিভ' হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির বর্বর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র ক্ষত এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনাকে পুঁজি করে ট্রাম্প প্রশাসন যখন একদিকে আলোচনার টেবিলে বসার নাটক করছে, অন্যদিকে তখন ইরানের মূল ভূখণ্ডে বোমাবর্ষণ করে ওয়াশিংটনের চিরচেনা দ্বিমুখী নীতিকেই পুনরায় উন্মোচিত করেছে। মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৪.৫০ ডলারে পৌঁছানো এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক চাপ থেকে বাঁচতে ট্রাম্প সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি সচল করতে মরিয়া হলেও, পর্দার আড়ালে 'আব্রাহাম অ্যাকর্ড' চুক্তির মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব মুছে ফেলার গভীর নীল নকশা কাজ করছে। ওয়াশিংটনের এই অদৃশ্য চাপের মুখে ফিলিস্তিন ইস্যুতে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের অনমনীয় প্রতিরোধ এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির আপসহীন নেতৃত্ব তেহরানের দর-কষাকষির ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই সংকটের মুহূর্তে ইরানের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন জাতীয় ঐক্য এবং সাধারণ জনগণের ইস্পাতকঠিন সমর্থন ট্রাম্পের ছদ্মবেশী 'নো ডাস্ট, নো ডলারস' নীতি ও ২৪ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ফাঁদকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। তেহরানের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি- শান্তি আলোচনার আড়ালে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন ও পিঠে ছুরিকাঘাতের এই নোংরা নীতি যদি আর একবারও পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে তারা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে অল-আউট ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালকিয়ে পুরো সংঘাতকে এক অবিনাশী মহাযুদ্ধ বা 'চরম পরিণতি' (Total War)-র দিকে নিয়ে যাবে।
২
প্রথম দিনের ক্ষত: বেসামরিক স্থাপনায় ‘এয়ারবার্স্ট’ অস্ত্রের পরীক্ষাগার।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের ল্যামের্ড অঞ্চলের একটি স্পোর্টস হলে মার্কিন বাহিনী 'এয়ারবার্স্ট মিসাইল' নামক নতুন ও বিধ্বংসী প্রযুক্তির আকাশেই বিস্ফোরিত হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের নিষ্ঠুর পরীক্ষা চালায়। এই পরিকল্পিত হামলায় ভলিবল প্র্যাকটিস চলাকালীন ২ বছরের এক কন্যাসন্তানসহ ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক উচ্চগতির টাংস্টেন পেলেটের আঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন। ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে চালানো এই জঘন্য যুদ্ধাপরাধের জবাবে আইআরজিসি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে একটি মার্কিন MQ-9 Reaper ড্রোন ভূপাতিত করে এবং অনুপ্রবেশকারী F-35 যুদ্ধবিমানে আঘাত হানে।
ক। ইসমাইল বাঘাইয়ের বিস্ফোরক তথ্য ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ।
ইরানের ল্যামের্ড অঞ্চলের বেসামরিক স্পোর্টস হলে চালানো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে একটি সুপরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বাঘাইয়ের দেওয়া তথ্য ও ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবরণ অনুযায়ী, ভলিবল প্র্যাকটিস চলাকালীন স্পোর্টস হলটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এই নৃশংস ঘটনায় মাত্র দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানসহ মোট ২৪ জন নিরীহ ও বেসামরিক ইরানি নাগরিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। হামলার ভয়াবহতা বিশ্লেষণ করে মুখপাত্র জানান যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এখানে সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যন্ত বিধ্বংসী প্রযুক্তির 'এয়ারবার্স্ট মিসাইল' বা আকাশেই বিস্ফোরিত হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুর ঠিক ওপরে এসে শূন্যে বিস্ফোরিত হয় এবং এর ভেতর থেকে অতি উচ্চগতির 'টাংস্টেন পেলেট' চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সুনির্দিষ্ট ও তীব্র শক্তিতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়া এই ধাতব ছররাগুলো মুহূর্তের মধ্যে পুরো স্পোর্টস হল এবং সেখানে থাকা মানুষদের ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেয়। ইসমাইল বাঘাই তাঁর বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, এই হামলা কোনো আকস্মিক ভুল বা লক্ষ্যভ্রষ্ট ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মার্কিন বাহিনীর এই নতুন অস্ত্রব্যবস্থার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্যই এই নিষ্ঠুর ডকট্রিন বেছে নেওয়া হয়।
খ। আইআরজিসি (IRGC)-র প্রতিরোধ ও আকাশসীমা লঙ্ঘন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর অত্যন্ত কঠোর ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আইআরজিসি-র নিজস্ব অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে এই সামরিক প্রতিরোধের সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়। ওই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্কিন সামরিক বিমান ও ড্রোন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ইরানের সার্বভৌম আকাশসীমায় অনধিকার প্রবেশ করে। অনুপ্রবেশের সাথে সাথেই ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো অত্যন্ত তৎপরতার সাথে শত্রু বিমানগুলোকে রাডারে শনাক্ত করে এবং পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। আইআরজিসি-র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত নিশানায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন আকাশেই ভূপাতিত করা হয়। ‘সেপাহ নিউজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিপ্লবী বাহিনীর প্রতিরোধ কেবল ড্রোন ভূপাতিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আকাশসীমা রক্ষায় তারা অল-আউট অ্যাকশনে যায়। মার্কিন বিমান বাহিনীর আরেকটি চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান ‘আরকিউ-৪’ ড্রোন আকাশসীমায় ঢোকার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। একই সাথে, মার্কিন রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম পঞ্চম প্রজন্মের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করলে ইরানি ডিফেন্স ইউনিট সেটিকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। যদিও সেপাহ নিউজের ওই বিবৃতিতে এই হাই-প্রোফাইল সামরিক সংঘাতের সুনির্দিষ্ট সময় বা ক্ষণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। শান্তি আলোচনার আড়ালে আমেরিকার বরাবরের মত আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা এবং আইআরজিসি-র এই কঠোর ও সফল প্রতিরোধ প্রমাণ করে যে, ইরান নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো আধুনিক মার্কিন প্রযুক্তির বিরুদ্ধে সমানতালে লড়াই করতে প্রস্তুত।
৩
কূটনৈতিক তৎপরতা ও ২৪ বিলিয়ন ডলারের দর-কষাকষি।
মাঠপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় পর্দার আড়ালে তীব্র কূটনৈতিক যুদ্ধ চলছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তিকে 'যুগান্তকারী' বললেও মূল সংকটগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। তেহরানের পক্ষে শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বকর কালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হলো ইরানের জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলারের অর্ধেক অবিলম্বে এবং বাকি অংশ ৬০ দিনের মধ্যে অবমুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের চড়া দাম ও আসন্ন নির্বাচনের চাপে ট্রাম্পের সুর নরম হলেও, মার্কিন প্রশাসন ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত সম্পূর্ণ ধ্বংস না করা পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড় না দেওয়ার 'নো ডাস্ট, নো ডলারস' নীতিতে অনড় রয়েছে।
ক। ইরানের প্রধান শর্ত: জব্দকৃত অর্থ অবমুক্তকরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইরান তার জব্দকৃত বিশাল আর্থিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকে প্রধান ও অপরিবর্তনীয় শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। কাতারের দোহায় অবস্থানরত ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বকর কালিবাফ এবং তেহরানের আলোচক দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ করেছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের স্পষ্ট ও অনড় অবস্থান হলো—ওয়াশিংটনের সাথে কোনো সমঝোতায় আসতে হলে আমেরিকার ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের মোট ২৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ অবশ্যই অবমুক্ত করতে হবে। এই দাবি বাস্তবায়নে ইরান একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও দ্বিমুখী পদ্ধতিও নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা তারা চুক্তির খসড়ায় যুক্ত করার জন্য কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের চাপ দিচ্ছে। এই রূপরেখা অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে শান্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার সাথে সাথেই জব্দকৃত তহবিলের প্রথম কিস্তি বা মোট অর্থের অর্ধেক অর্থাৎ ১২ বিলিয়ন ডলার অবিলম্বে অবমুক্ত করতে হবে। অবশিষ্ট ১২ বিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় কিস্তিটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ইরানের কাছে ফেরত দিতে হবে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির এই কূটনৈতিক তথ্য ফাঁসের ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরান মাঠপর্যায়ের সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তোলার বিষয়েও কতটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
খ। ট্রাম্পের সুরবদল বনাম ‘নো ডাস্ট, নো ডলারস’ নীতি।
মাত্র ১১ সপ্তাহ আগে ইরানের প্রতি "নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ" ছাড়া কোনো চুক্তির সুযোগ নেই বলে হুংকার দিলেও, বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় সুর অনেকটাই নরম হয়ে এসেছে। মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৪.৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানো এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে হলেও হরমুজ প্রণালি সচল করতে মরিয়া। হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন এখনও ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংসের শর্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষায় এই অনড় অবস্থানটি হলো “No Dust, No Dollars” নীতি, যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে ইরানের ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনার সাথে। এই নীতি অনুযায়ী, গত জুনে ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন বোমাবর্ষণের পর ভূগর্ভের ধ্বংসস্তূপের নিচে যে ‘পারমাণবিক ধুলা’ বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চাপা পড়ে আছে, তা সম্পূর্ণ ধ্বংস বা দেশের বাইরে না পাঠানো পর্যন্ত ইরানকে কোনো ডলার ফেরত দেওয়া হবে না। আইএইএ-র সর্বশেষ কৌশলগত তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ১১ টনেরও বেশি পারমাণবিক জ্বালানি রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম সরাসরি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য উপযুক্ত।
৪
শান্তি আলোচনার মাঝেই হরমুজ ও বন্দর আব্বাসে নতুন হামলা: আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি।
কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় দোহার কূটনৈতিক টেবিলে যখন ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বকর কালিবাফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই গত ২৫ মে ২০২৬ (সোমবার) রাতে ইরানের কৌশলগত অবস্থানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড-এর আকস্মিক বিমান হামলা ওয়াশিংটনের চিরচেনা দ্বিমুখী নীতিকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে। পেন্টাগন ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শান্তি আলোচনার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল মূহূর্তেই মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি স্পর্শকাতর পয়েন্টে- দক্ষিণাঞ্চলীয় মূল ভূখণ্ড, পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার বন্দর আব্বাসের প্রধান সামরিক স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালির জলসীমায় টহলরত ইরানি নেভাল ভ্যাসেল, স্পীড বোট ও ফিশিং ভ্যাসেলের ওপর একযোগে এই আক্রমণ চালায়। হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগন বরাবরের মতোই এই আগ্রাসনকে ‘সেলফ ডিফেন্স’ ও ‘প্রিএম্পটিভ স্ট্রাইক’ বলে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত আলোচনার টেবিলে তেহরানের দর-কষাকষির ক্ষমতাকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুঁড়িয়ে দিয়ে ওয়াশিংটনের শর্তাবলি মেনে নিতে বাধ্য করার একটি সুনির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক ছক। অতীতেও দেখা গেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন যখনই কোনো চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, তখনই পেন্টাগন সামরিক অভিযান চালিয়ে সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করেছে।
৫
‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এর অদৃশ্য চাপ এবং আঞ্চলিক মেরুকরণ।
চলমান ইরান-মার্কিন সংঘাতের নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভূরাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে কাজ করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’, যা মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণ তৈরি করেছে। কূটনৈতিক সুত্র ও আন্তর্জাতিক নীতি বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মূলত এই সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপকে হাতিয়ার করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। এই চুক্তির মূল ভিত্তিই হলো ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। তবে ওয়াশিংটনের এই অদৃশ্য ও তীব্র চাপের মুখেও এই অঞ্চলের প্রধান দুই মুসলিম পরাশক্তি পাকিস্তান ও সৌদি আরব তাদের ফিলিস্তিন নীতিতে অবিচল থেকে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দাপ্তরিক রেকর্ড এবং উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, ইসলামাবাদ এবং রিয়াদ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই আব্রাহাম অ্যাকর্ডের ব্লুপ্রিন্ট প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার যখন ইরান যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখার বৈশ্বিক বিতর্কে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফর করছেন, ঠিক তখনই এই জোটবদ্ধ অবস্থানটি পুনরুচ্চারণ করা হয়। ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে কোনো কূটনৈতিক স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিগত অবস্থানে পাকিস্তান ও সৌদি আরব সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন প্রশাসন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ শান্তি বিতর্কে অংশ নিতে আসা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিসা দিতে অস্বীকার করে, যা মার্কিন দ্বিমুখী আচরণের আরেকটি বড় প্রমাণ।
৬
খামেনির হুংকার এবং ‘চরম পরিণতি’-র দিকে ইরান।
২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর, তাঁর উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন ঘাঁটি উচ্ছেদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই জাতীয় সংকটে ইরানের সাধারণ জনগণ ও প্রধান বিরোধী দলগুলো নজিরবিহীনভাবে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতাকে একটি অবাস্তব ধারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শান্তি আলোচনার আড়ালে মার্কিন পিঠে ছুরিকাঘাতের নীতি আর একবার ঘটলে তারা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে অল-আউট ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালকিয়ে যুদ্ধকে ‘চরম পরিণতি’-র দিকে নিয়ে যাবে।
ক। মোজতবা খামেনির কড়া বার্তা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর, গত মার্চ মাসে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে না আসলেও, পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ বার্তা এবং তাঁর অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এ প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন ও বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের বুকে একটি ‘বিপজ্জনক ও মারাত্মক ক্যানসার টিউমার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে একে এই অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ উৎখাত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। একই সাথে তিনি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আরব রাষ্ট্রগুলো আর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষায় নিজেদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। তাসনিম নিউজের এই কৌশলগত বার্তা বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই সর্বোচ্চ নেতার অধীনে তেহরান মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও বেশি আপসহীন ও আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
খ। জনগণের সমর্থন ও পেজেশকিয়ানের আহ্বান।
মার্কিন আগ্রাসনের মুখে ইরানের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে প্রধান বিরোধী দলগুলো পর্যন্ত সব রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে এই সংকটের মুহূর্তে সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের অফিশিয়াল বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে জাতীয় প্রতিরক্ষাকাঠামো আধুনিকীকরণের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার ওপর নির্ভর করা যে একটি ‘অবাস্তব ও অকার্যকর ধারণা’, তা আজ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছে। শত্রুপক্ষ প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি ও যুদ্ধাস্ত্র অর্জন করায় এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে সতর্ক করে দিয়ে পেজেশকিয়ান প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পেন্টাগন ব্রিফিং, উইকিপিডিয়া (২০২৬ ইরান ওয়ার) এবং আইআরজিসি-র ‘সেপাহ নিউজ’-এর মতো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক নথিপত্র ও রেফারেন্স টেবিল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলিদের যৌথ আগ্রাসন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর ল্যামের্ডের স্পোর্টস হলে ২৪ জন এবং মিনাবের বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় ১৭০ জন ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই রক্তক্ষয়ী ক্ষতকে বুকে ধারণ করে তেহরানের নীতিনির্ধারকেরা ওয়াশিংটনকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার টেবিলে বসে এভাবে বারবার সামরিক ‘প্রিএম্পটিভ’ হামলা চালানো তথা পিঠে ছুরিকাঘাতের মার্কিন নীতি যদি আর একবারও ঘটে, তবে চলমান শান্তি আলোচনা চিরতরে ভেস্তে যাবে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিষ্কার ভাষায় হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, কাতার সমঝোতা বা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্তির এই শান্তি চুক্তি যদি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার দ্বিমুখী আচরণের কারণে ব্যর্থ হয়, তবে তেহরান এই সংঘাতকে ‘চরম পরিণতি’ বা অল-আউট মহাযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে। যার সরাসরি অর্থ হবে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করে বিশ্ব বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। একই সাথে, ইরান তার বিধ্বংসী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির ওপর একযোগে অল-আউট হামলা চালাবে, যা পুরো বিশ্ব ব্যবস্থাকে এক অপূরণীয় ধ্বংসযজ্ঞের মুখে ঠেলে দেবে।
৭
চুক্তির টেবিলে খসড়া সমঝোতা স্মারক বহাল রেখে বন্দর আব্বাস ও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে মার্কিন বোমাবর্ষণ ওয়াশিংটনের এক দীর্ঘমেয়াদি, ছদ্মবেশী ও বিপজ্জনক সামরিক কূটনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের চড়া দাম নিয়ন্ত্রণ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বৈতরণী পার হতে হরমুজ প্রণালি সচল করতে চান, অন্যদিকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এর অদৃশ্য চাপে স্বাধীন ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব মুছে দিয়ে তেহরানকে স্থায়ীভাবে নিরস্ত্রীকরণের ফাঁদে ফেলতে চান। কিন্তু প্রথম দফার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির আপসহীন নেতৃত্ব এবং সাধারণ ইরানি জনগণের নজিরবিহীন ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য আমেরিকার এই দ্বিমুখী নীতিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। শান্তি আলোচনার আড়ালে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন ও পিঠে ছুরিকাঘাতের এই নোংরা কৌশল তেহরানকে কোনোভাবেই দমাতে পারেনি, বরং পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনমনীয় অবস্থান ট্রাম্পের একপেশে মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনাকে এক বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ধাক্কা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যকে অবিনাশী মহাযুদ্ধ থেকে রক্ষা করতে হলে মার্কিন প্রশাসনকে অবিলম্বে তাদের উসকানিমূলক ‘প্রিএম্পটিভ স্ট্রাইক’ ও দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে হবে। ভবিষ্যতের টেকসই শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় কেবল আর্থিক সম্পদ অবমুক্তকরণ বা সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমার স্থায়ী নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার একটি সুনির্দিষ্ট বৈশ্বিক রূপরেখা তৈরি করা জরুরি। একই সাথে ট্রাম্প প্রশাসনকে বুঝতে হবে যে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর জাতীয় স্বার্থকে অস্বীকার করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো একপেশে চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। ইরান যেভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পরবর্তী আঘাতের জবাবে তারা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে সমস্ত মার্কিন ঘাঁটিতে অল-আউট ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালাবে, তা প্রতিরোধ করার একমাত্র উপায় হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়াশিংটন কর্তৃক তেহরানের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিয়ে আলোচনার টেবিলকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী চুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
২৬ মে ২০২৬