
১
পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে যে ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকম্প চলছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বুরকিনা ফাসো। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করেন তরুণ ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তার প্রতিটি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে, কয়েক দশকের পুরোনো ফরাসি প্রভাব বলয় থেকে বুরকিনা ফাসোকে বের করে আনার ক্ষেত্রে ট্রাওরের আপসহীন অবস্থান দেশটিতে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ফরাসি ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ভাঙার এই চেষ্টাকে কেউ কেউ আফ্রিকার ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বা ‘নতুন স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করছেন। তবে প্যারিসের বিদায়ের সমান্তরালে যেভাবে মস্কোর প্রবেশ ঘটছে, তা একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—এটি কি সত্যিই পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা, নাকি কেবলই এক পরাশক্তিকে হটিয়ে অন্য পরাশক্তির সাথে নতুন কোনো সমীকরণ?
২
প্যারিসের বিদায়: যেভাবে সম্পর্ক পৌঁছাল তলানিতে।
ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে ক্ষমতা গ্রহণের পর বুরকিনা ফাসো থেকে ফরাসি আধিপত্যের অবসান ঘটাতে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করেন। কয়েক দশক ধরে পুঞ্জীভূত হওয়া ফরাসি-বিরোধী জনক্ষোভকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তিনি একের পর এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেন। এরফলে প্যারিসের সাথে ওয়াগাডুগুর ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক ভেঙে পড়ে এবং তা এক ঐতিহাসিক তলানিতে গিয়ে ঠেকে।
ক। ফরাসি সেনা বহিষ্কার (২০২৩) ।
২০২৩ সালের শুরুর দিকে ট্রাওরে সরকার তাদের মাটিতে অবস্থানরত ফরাসি বিশেষ বাহিনী ‘অপারেশন সাব্রে’-কে মাত্র এক মাসের নোটিশে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। দীর্ঘদিনের সামরিক চুক্তি বাতিল করে ফরাসি সেনাদের দ্রুততম সময়ে ঘাঁটি গুটিয়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বুরকিনা ফাসো সাহেল অঞ্চলে ফ্রান্সের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উপস্থিতির ওপর প্রথম বড় ধরনের আঘাত হানে। সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই চরম সিদ্ধান্তে ফরাসিদের বিদায় নিশ্চিত করে ট্রাওরে সরকার নিজেদের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
খ। কূটনৈতিক ব্যবচ্ছেদ (২০২৪) ।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাওরে সরকার চারজন ফরাসি কূটনীতিককে "নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের" গুরুতর অভিযোগে দেশ থেকে সরাসরি বহিষ্কার করে। এর আগে প্যারিসের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ফরাসি রাষ্ট্রদূতকেও সেদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিক বহিষ্কারের ফলে দুই দেশের মধ্যকার প্রথাগত কূটনৈতিক যোগাযোগের পথগুলো প্রায় পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে ট্রাওরে স্পষ্ট করে দেন যে, বুরকিনা ফাসোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফরাসি হস্তক্ষেপ আর বরদাস্ত করা হবে না।
গ। সাংস্কৃতিক ও সংবাদমাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘RFI’ এবং ‘France 24’-এর সম্প্রচার বুরকিনা ফাসোর ভেতরে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। একই সাথে ফরাসি অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও কঠোর আইনি বেড়াজালে সীমিত করা হয়েছে। ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচারণাকে ঔপনিবেশিক মনস্তত্ত্বের অংশ বিবেচনা করেই ট্রাওরে সরকার এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর ফলে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ফরাসি সফট-পাওয়ার বা কোমল ক্ষমতার চাকা দেশটিতে সম্পূর্ণ থমকে যায়।
কাগজ-কলমে বা এখনো দাপ্তরিকভাবে এই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ "বিচ্ছিন্ন" করার চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা না এলেও, বাস্তবে ফ্রান্স ও বুরকিনা ফাসোর সম্পর্ক এখন মৃতপ্রায়।
৩
মস্কোর প্রবেশ: রাশিয়ার সাথে নতুন কৌশলগত অক্ষ।
ফ্রান্সকে বিদায় দেওয়ার পর তৈরি হওয়া নিরাপত্তা শূন্যতা পূরণে বুরকিনা ফাসো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে রাশিয়ার স্থান নিশ্চিত করেছে। ট্রাওরে সরকার কেবল ক্রেমলিনের সাথে নতুন সামরিক চুক্তিই করেনি, বরং তাদের ওপর কৌশলগত নির্ভরতা দিন দিন বাড়িয়ে চলেছে। এই অক্ষ প্যারিসের পুরোনো প্রভাবকে হটিয়ে সাহেল অঞ্চলে মস্কোর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে এক অভূতপূর্ব ও শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে। এর ফলে পশ্চিম আফ্রিকায় পশ্চিমা শক্তির একাধিপত্য ভেঙে গিয়ে এক নতুন আন্তর্জাতিক মেরুকরণ ও শক্তির ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
ক। আফ্রিকান কর্পস ও নিরাপত্তা সমীকরণ।
সাহেল অঞ্চলে উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে বুরকিনা ফাসো রাশিয়ার সাবেক ‘ওয়াগনার গ্রুপ’ বা বর্তমান ‘আফ্রিকান কর্পস’-এর ভাড়াটে সেনাদের দেশে স্বাগত জানিয়েছে। ক্যাপ্টেন ট্রাওরের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণে রুশ সেনারা এখন সরাসরি ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই রুশ যোদ্ধাদের উপস্থিতি ট্রাওরে সরকারকে অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থানের ঝুঁকি থেকে যেমন সুরক্ষা দিচ্ছে, তেমনি উগ্রপন্থীদের দমনেও নতুন রণকৌশল জোগাচ্ছে। তবে পশ্চিমা বিশ্বের দাবি, এই সামরিক সহায়তার আড়ালে মস্কো আসলে দেশটির কৌশলগত খনিজ সম্পদ ও সোনার খনিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার এই সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা বুরকিনা ফাসোর জাতীয় নিরাপত্তা সমীকরণকে সম্পূর্ণভাবে ক্রেমলিনের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।
খ। ভূ-রাজনৈতিক জোট।
বুরকিনা ফাসো তার প্রতিবেশী দুই সামরিক শাসিত দেশ—মালি এবং নাইজারের সাথে মিলে গঠন করেছে শক্তিশালী 'অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস'। এই নবগঠিত জোটটি ফরাসি ও পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্লকের প্রভাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাশিয়ার সাথে একটি বিকল্প সামরিক অক্ষ তৈরিতে ব্যস্ত। তারা নিজেদের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করার পাশাপাশি পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট 'ইকোওয়াস' থেকেও নিজেদের চিরতরে গুটিয়ে নিয়েছে। মস্কোর প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনে এই তিন দেশ এখন সাহেল অঞ্চলে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পশ্চিমাবিরোধী বলয় তৈরি করছে। এই জোটের মাধ্যমে ট্রাওরে সরকার কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং আঞ্চলিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতেও রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি চিরস্থায়ী করছে।
৪
সর্বশেষ পরিস্থিতি: ২০২৬-এর বাস্তবতায় বুরকিনা ফাসো।
২০২৬ সালের বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বুরকিনা ফাসোর সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল মোড় নিয়েছে। একদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক নেতা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে সমগ্র আফ্রিকার যুবসমাজের কাছে একজন সাহসী ও ‘নব্য-প্যান-আফ্রিকান’ বীর হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। পশ্চিমা পরাশক্তিগুলোর সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলা এবং ঔপনিবেশিক শক্তির অবসান ঘটানোর অনমনীয় নীতি তাকে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছে। রাশিয়ার সাথে কৌশলগত হাত মিলিয়ে তিনি সাহেল অঞ্চলে স্বকীয়তা বজায় রাখার যে বার্তা দিয়েছেন, তা মহাদেশটির অন্যান্য মুক্তিকামী মানুষের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। ট্রাওরে সরকার নিজস্ব খনিজ সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জনের যে পথে হাঁটছে, তা আফ্রিকার রাজনীতিতে তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই জাতীয়তাবাদী জাগরণ বুরকিনা ফাসোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
তবে এই উজ্জ্বল ভাবমূর্তির পেছনে আশঙ্কাজনক উল্টো পিঠও সমানভাবে বিদ্যমান রয়েছে। ফরাসি সেনাদের সম্পূর্ণ বহিষ্কার এবং রাশিয়ার অত্যাধুনিক সামরিক সহায়তা ও ভাড়াটে সেনা মোতায়েনের পরও দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির কোনো কাঙ্ক্ষিত বা দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। আল-কায়েদা এবং আইএস সংশ্লিষ্ট চরমপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনো বুরকিনা ফাসোর এক বিশাল অঞ্চলজুড়ে মারাত্মকভাবে সক্রিয় রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত সাধারণ নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর ওপর রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে। এই ক্রমাগত ব্যর্থতার ফলে ট্রাওরে সরকারের ওপর সাধারণ জনগণের অভ্যন্তরীণ ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ফ্রান্সের নিয়মিত আর্থিক ও মানবিক সহযোগিতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি এখন এক চরম টানাপোড়েন ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অর্থনৈতিক ধাক্কা ও দেউলিয়া অবস্থা সামাল দিতে ট্রাওরে সরকার বর্তমানে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনের সাথেও তাদের বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
৫
‘নতুন স্বাধীনতা’ নাকি কেবলই ‘নতুন সমীকরণ’?
ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বে বুরকিনা ফাসো যেভাবে কয়েক দশকের পুরোনো ফরাসি নব্য-ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার জাল ছিন্ন করেছে, তাকে অনেকেই আফ্রিকার ‘নতুন স্বাধীনতা’ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাহেল অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনে এই গভীর ক্ষোভ ছিল যে, ফ্রান্স সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে আসলে তাদের সোনা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ লুট করছিল এবং নিজেদের সামরিক উপস্থিতি টিকিয়ে রাখছিল। ট্রাওরে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সেই চক্র ভেঙে দেশের মাটিতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। ফরাসি সেনা ও কূটনীতিকদের বহিষ্কারের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, আফ্রিকার সিদ্ধান্ত এখন আফ্রিকানরাই নেবে, কোনো বিদেশি শক্তি নয়। এই পদক্ষেপ বুরকিনা ফাসোর জনগণকে তাদের নিজস্ব সম্পদের ওপর পূর্ণ অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের ফরাসি দাসত্ব থেকে মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি এনে দিয়েছে। ফলে এই রূপান্তরকে কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং একটি শোষিত জাতির প্রকৃত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার ঐতিহাসিক সংগ্রাম বলে অভিহিত করা যায়।
তবে এই আপাত স্বাধীনতার আড়ালে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সমালোচকেরা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ‘নতুন সমীকরণ’ ও ভূ-রাজনৈতিক জুয়া দেখতে পাচ্ছেন। তাদের মতে, বুরকিনা ফাসো আসলে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে এক পরাশক্তির ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে অন্য পরাশক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফ্রান্সের ছায়া থেকে বের হয়ে রাশিয়ার ‘আফ্রিকান কর্পস’ এবং ক্রেমলিনের ওপর এই অতি-নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে দেশটিকে মস্কোর একটি কৌশলগত পুতুলে পরিণত করার বড় আশঙ্কা তৈরি করছে। রাশিয়ার মূল লক্ষ্য সাহেল অঞ্চলের সোনা ও অন্যান্য কৌশলগত ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভূ-রাজনৈতিক লিভারেজ বা সুবিধা আদায় করা। ফলে, ফরাসি নব্য-উপনিবেশবাদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে বুরকিনা ফাসো যেন রাশিয়ার এক নতুন কৌশলগত ফাঁদে পা না দেয়, সেই প্রশ্নটি এখন বিশ্ব রাজনীতিতে বড় হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত এই সমীকরণ দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাবে, নাকি কেবল শোষকের নাম পরিবর্তন করবে, তা এখনও এক বড় অনিশ্চয়তা।
৬
ইব্রাহিম ট্রাওরের বুরকিনা ফাসো আজ এক ঐতিহাসিক পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ফ্রান্সের বিদায় আফ্রিকার রাজনীতিতে প্যারিসের শতাব্দীর পুরোনো দম্ভকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু রাশিয়ার সাথে এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বুরকিনা ফাসোর সাধারণ মানুষের জীবনে স্থায়ী শান্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং প্রকৃত ‘স্বাধীনতা’ এনে দিতে পারবে কি না, তা কেবল সময়ই বলে দেবে। এক পরাশক্তির বিদায়ের পর অন্য পরাশক্তির ওপর এই অতি-নির্ভরতা দেশটিকে নতুন কোনো সংকটে ফেলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত, সাহেল অঞ্চলের এই জটিল ও সংবেদনশীল খেলায় ট্রাওরে নিজেকে এক অনন্য, সাহসী ও অপরাজেয় চালক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে চলেছেন।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
২৯ জুন ২০২৬