
১
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই এক জটিল গোলকধাঁধার মতো, যা সহজে অনুমেয় নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং পর্দার আড়ালের নানামুখী তৎপরতা এই সংকটকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। একদিকে ইরানের প্রকাশ্য শান্তি আলোচনার অস্বীকৃতি, অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের ধারাবাহিক দাবি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এখন এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই তীব্র ধোঁয়াশার মাঝেই সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই গভীর টানাপোড়েনের ভেতরের আসল চিত্র। যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তেহরানের বর্তমান অবস্থানকে ‘পারস্যের আলোচনা কৌশল’ বলে সরাসরি খোঁচা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে কারিগরি পর্যায়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল আলোচনা বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের এই আকস্মিক যোগাযোগ বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, ক্রমাগত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েই ইরান এখন গোপনে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও তেহরান নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক মহলে এই আলোচনার খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের একের পর এক সুনির্দিষ্ট দাবি ও তথ্য ইরানের এই প্রকাশ্য অস্বীকারকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
২
‘পারস্যের আলোচনা কৌশল’ ও জেডি ভ্যান্সের বিস্ময়।
দ্য মাইকেল নোলস শো-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সাম্প্রতিক দ্বিমুখী নীতি ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, তেহরান আন্তর্জাতিক মহলে এবং প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা বা বৈঠকের খবরকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে চলেছে। অথচ অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে পর্দার আড়ালে তারা ওয়াশিংটনের সাথে শান্তিচুক্তি সম্পর্কিত কারিগরি পর্যায়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল আলোচনা ও প্রক্রিয়ায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। প্রকাশ্য এই বৈরিতা এবং গোপন সংলাপের এমন স্ববিরোধী আচরণকে জেডি ভ্যান্স মূলত এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক খেলা হিসেবেই দেখছেন। তেহরানের এমন রহস্যময় আচরণ বিশ্ব রাজনীতির পরিমণ্ডলে নতুন এক কূটনৈতিক ধাঁধার জন্ম দিয়েছে, যা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। ইরান কেন একই সাথে দুটি বিপরীতমুখী অবস্থান বজায় রাখছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও এখন নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বজায় রেখে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামাল দিতেই তেহরান এই দ্বৈত নীতি বেছে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের এই রহস্যজনক ও পরস্পরবিরোধী অবস্থানকে নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একে সরাসরি ‘পারস্যের আলোচনা কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন। সাক্ষাৎকার চলাকালীন তিনি ইরানের অবস্থানকে নকল করে কিছুটা শ্লেষের সুরেই বলেন,
"তারা বলে, ‘না, কোনো শান্তি আলোচনা চলছে না, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনা ঠিকই চলছে।’"
ভ্যান্স অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এটি এমন এক ধরনের জটিল কূটনৈতিক ভাষা বা কৌশল, যা তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুরোপুরি রপ্ত বা বুঝতে পারেন না। তবে প্রকাশ্য বক্তব্য যা-ই হোক না কেন, ভ্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে পূর্বে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো নিয়মিত চলমান রয়েছে। আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি ও অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদেরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই গোপন সংলাপের প্রক্রিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরান মুখে আলোচনার কথা অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই এই কারিগরি সংলাপে যুক্ত থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
৩
দোহার গোপন মিশন ও জ্যারেড কুশনারের পুনরাগমন।
কূটনৈতিক এই নাটকের সূত্রপাত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চাঞ্চল্যকর দাবির মাধ্যমে, যেখানে তিনি জানান যে ইরান নিজেই কাতারের রাজধানী দোহায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিল। এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার জরুরি ভিত্তিতে দোহা সফর করেন। যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের কথা বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে, তবে তারা স্বীকার করেছে যে কাতারের মতো নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা ও পরামর্শ প্রক্রিয়া পর্দার আড়ালে অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বৈঠকের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতেই ইরান মধ্যস্থতাকারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যা মূলত তেহরানের দীর্ঘদিনের পুরোনো কূটনৈতিক অভ্যাসেরই অংশ। শেষ পর্যন্ত এই গোপন দোহার মিশন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কোনো স্থায়ী সমঝোতা আনতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
৪
‘আলোচনা ব্যর্থ হলেও লাভ যুক্তরাষ্ট্রেরই’।
ফক্স নিউজকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুবিধাজনক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি অত্যন্ত সাফ ভাষায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেন যে, চলমান এই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা যদি শেষ পর্যন্ত সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক শান্তির জন্য অবশ্যই ভালো একটি খবর হবে। তবে কোনো কারণে যদি এই গোপন আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তেও যায়, তাহলেও আমেরিকার কৌশলগত বা রাজনৈতিক কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভ্যান্সের স্পষ্ট দাবি অনুযায়ী, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকার কৌশলগত অবস্থান তেহরানের তুলনায় এখন অনেক বেশি সুসংহত, শক্তিশালী এবং নিরাপদ। ওয়াশিংটন এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে আলোচনার ফলাফল যা-ই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক বিজয় আমেরিকার পক্ষেই থাকবে। মূলত ইরানকে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে রাখতেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার এই ধরনের আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
নিজের দাবির সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ের সামরিক সংঘাত এবং উপর্যুপরি কৌশলগত ধাক্কায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং অভ্যন্তরীণ সামরিক অবকাঠামোগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তেহরান এখন মারাত্মক দুর্বল। এই চরম সামরিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণেই ইরান এখন এক ধরনের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদ থেকে আমেরিকার সাথে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হচ্ছে। তেহরানের এই চরম দুর্বলতাই মূলত ওয়াশিংটনকে এই কূটনৈতিক দরকষাকষিতে একচেটিয়া সুবিধাজনক অবস্থান বা বড় ধরনের লেভারেজ এনে দিয়েছে। ভ্যান্সের এই কড়া বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, আমেরিকা এখন কোনো দুর্বল অবস্থানে থেকে নয়, বরং সম্পূর্ণ বিজয়ী ও আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে ইরানের সাথে কথা বলছে।
৫
হরমুজ প্রণালি ও অর্থনৈতিক চাপ।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে ইরানকে চরম কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্পের বার্তা তেহরানের জন্য অত্যন্ত পরিষ্কার এবং সেখানে কোনো ধোঁয়াশা নেই। হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ইরান যদি নতুন করে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে বা আকস্মিক হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আর চুপ থাকবে না। ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে এবং সরাসরি কঠোর সামরিক জবাব দেবে বলে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই আক্রমণাত্মক ও কঠোর অবস্থান বেছে নিয়েছে।
আমেরিকান প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। ওয়াশিংটনের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ক্রমাগত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক সামরিক ধাক্কার কারণে ইরান এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এতটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে যে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এই চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বড় ধরনের কোনো হঠকারী বা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাস্তব ক্ষমতা তেহরানের অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে মুখে যতই যুদ্ধের হুঙ্কার দেওয়া হোক না কেন, মার্কিন সামরিক শক্তির ভয়ে ইরান এখন চরম সতর্কতার সাথে পা ফেলছে। ওয়াশিংটন মূলত ইরানের এই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দুর্বলতাকেই তাদের আলোচনার টেবিলে নিজেদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে।
৬
কোন পথে হাঁটছে তেহরান-ওয়াশিংটন কূটনীতি?
প্রকাশ্য শত্রুতা ও পর্দার আড়ালের এই গোপন আলোচনা মূলত দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল সমীকরণ বজায় রাখার একটি কৌশলগত চেষ্টা মাত্র। ইরানের বর্তমান সরকারের পক্ষে দেশের জনগণের সামনে আমেরিকার সাথে সরাসরি "শান্তি আলোচনা"র কথা স্বীকার করা চরম রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিজেদের ভোটারদের কাছে প্রমাণ করতে চায় যে তাদের নেওয়া ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপ নীতি সফলভাবে কাজ করছে। ফলে নিজেদের ইমেজ ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেই দুই পক্ষ পর্দার আড়ালে এই আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হচ্ছে।
৭
ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বিবৃতির কারণে বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত ও জটিল রয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বড় আশার কথা হলো, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আলোচনার চূড়ান্ত দরজাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কারিগরি পর্যায়ের এই গোপন সংলাপ যদি শেষ পর্যন্ত একটি স্থায়ী ও ফলপ্রসূ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এই চুক্তি শুধু যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাবে না, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতির চাকা সচল করতেও বড় ভূমিকা রাখবে। তাই আপাতত বিশ্ববাসী গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে দোহার পর্দার আড়ালের সেই 'টেকনিক্যাল টক' বা কারিগরি আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
১ জুলাই ২০২৬