
১
বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে সাময়িকভাবে থামিয়েছিল ১৭ জুনের ১৪ দফার একটি যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারক। তবে সেই চুক্তির মূল শর্ত লঙ্ঘন করে ওয়াশিংটন ও ওমানের একাংশের উদ্যোগে প্রণালির দক্ষিণ জলসীমায় একটি নতুন ও সমান্তরাল নৌ-করিডোর চালুর প্রচেষ্টা সংঘাতের আগুনকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। ইরান এই পদক্ষেপকে নিজেদের কৌশলগত লিভারেজ ধ্বংসের মার্কিন ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। এরফলে নতুন করিডোর ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হামলা এবং তার জবাবে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিমান হামলা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনের ওপর একক আধিপত্য বিস্তারের এক ভূরাজনৈতিক খেলা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানালেও নেপথ্যে ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে ইরানের জলসীমার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে। এর জবাবে ইরান প্রণালিটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করায় বিশ্ববাজারে খনিজ তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে অর্থনৈতিক মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করেছে। একদিকে মার্কিন সেন্টকম ইরানের উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, অন্যদিকে ইরানও কাতার, জর্ডান এবং কুয়েতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এর জবাব দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পরাশক্তি চীনের কৌশলগত অবস্থান এবং ওমানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকে এক জটিল বহুমাত্রিক রূপ দান করেছে।
২
করিডোর কূটনীতি ও চুক্তিভঙ্গের নেপথ্য কাহিনী।
সামরিক ও গোয়েন্দা তৎপরতার এই প্রকাশ্য লড়াইয়ের আড়ালে মূলত কাজ করছে অত্যন্ত সুক্ষ্ম এক অর্থনৈতিক ও নৌ-কূটনীতি। আর এই গভীর ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মূল সূত্রপাত ঘটেছে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিকে পাশ কাটানোর গোপন মার্কিন প্রচেষ্টা থেকে।
ক। সমঝোতা স্মারকের শর্ত ও মার্কিন কৌশল।
১৭ জুনের ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব থাকবে ইরানের হাতে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন ভূকৌশলগতভাবে ইরানের এই একক সক্ষমতাকে নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা সাজায়। তারা ওমানের জলসীমার দক্ষিণ করিডোর ব্যবহার করে একটি বিকল্প পথ চালুর চেষ্টা করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল পারস্য উপসাগরের তেলবাহী জাহাজগুলোকে ইরানের রাডার ও নজরদারির আওতামুক্ত রাখা। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস গোপনে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজগুলোকে এই নতুন রুট ব্যবহারের নির্দেশ দিলে ইরান এটিকে সরাসরি চুক্তিভঙ্গ হিসেবে গণ্য করে।
খ। আইআরজিসি-র নৌ-আক্রমণ ও হরমুজ ব্লকেড।
মার্কিন উস্কানির জবাবে আইআরজিসি’র নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করিডোর দিয়ে চলাচলকারী তিনটি আরব জাহাজে হামলা চালায়। সর্বশেষ সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অননুমোদিত পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন নাবিক নিখোঁজ হন। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি নিয়্যা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে জানান, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তৈরি করা যেকোনো ‘অবৈধ করিডোর’ রুখে দেওয়া হবে। এর পরপরই তেহরান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এবং এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে।
৩
সামরিক সংঘাতের বিস্তার: হামলা ও পাল্টা হামলা।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের এই টানাপোড়েন শুধু আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুতই তা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। ফলে উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান বজায় রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় সামরিক শক্তির প্রদর্শনীতে লিপ্ত হয়।
ক। সেন্টকমের ‘অপারেশন ১৪০’।
হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বদলা নিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের মূল ভূখণ্ডে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। সেন্টকমের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইরানের অন্তত ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় আসালুয়েহ, বন্দর-ই-দায়ের, বুশেহর, চাবাহার এবং জাসক অঞ্চলে শতাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণস্থল, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
খ। মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাত।
মার্কিন বিমান হামলার জবাবে ইরানও বসে থাকেনি; তারা আঞ্চলিক যুদ্ধের পরিধি বাড়িয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিশানা করেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মার্কিন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করেছে। এছাড়া কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, কুয়েতের মার্কিন রাডার স্টেশন ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর রসদ সরবরাহ কেন্দ্রে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করেছে।
৪
পরাশক্তি ও আঞ্চলিক পক্ষগুলোর ভূরাজনৈতিক সমীকরণ।
সামরিক এই সংঘাতের তীব্রতা যখন পারস্য উপসাগরকে উত্তপ্ত করে তুলেছে, তখন পর্দার আড়ালে থাকা বিশ্বশক্তির কূটনীতি এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা এই সংকটে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রণক্ষেত্রের বারুদ ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে উঠেছে কার স্বার্থ কতটুকু এবং কোন পক্ষ কীভাবে নিজেদের ভূরাজনৈতিক চাল চালছে।
ক। চীনের কৌশলগত নিরপেক্ষতা ও লাভজনক হিসাব।
ইরানের এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বেইজিং সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বেইজিং ও তেহরানের মধ্যকার ২৫ বছর মেয়াদি ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ চুক্তিতে কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা গ্যারান্টি নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জসিম আল-আজাবির মতে, চীন এই সংঘাতের সাইডলাইনে বসে সস্তায় তেল কেনার মুনাফা লুটছে; বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই যাচ্ছে বেইজিংয়ে, যা তারা আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৫ থেকে ১৫ ডলার কমে কিনছে। তবে চীন ইরানের পতনও চায় না, কারণ ইরান পশ্চিমা শিবিরের হাতে চলে গেলে বেইজিংয়ের স্বপ্নের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের সেন্ট্রাল করিডোরটি পাকিস্তান সীমান্তেই থমকে যাবে।
খ। ওমানের মধ্যস্থতা ও ইউরোপের ‘নেভিগেশন ফি’ প্রস্তাব।
সংঘাত নিরসনে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদির সঙ্গে ওমানে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সিএনএন-এর তথ্যমতে, ওমান একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে যেখানে ওমানের জলসীমার দক্ষিণ করিডোর দিয়ে অবাধ চলাচল এবং ইরানের উত্তর করিডোর দিয়ে চলাচলের জন্য তেহরানের পূর্বানুমোদনের কথা বলা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বাধ্যতামূলক টোল আরোপের বিরোধিতা করলেও, ইউরোপের কিছু দেশ মালাক্কা প্রণালির আদলে হরমুজে জাহাজ চলাচলের জন্য স্বেচ্ছাধীন ‘নেভিগেশন ফি’ বা পরিষেবা মূল্য দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সমুদ্র নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কারের মতে, অর্থনৈতিক ছাড় নয়, বরং প্রণালির সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তেহরানের মূল লক্ষ্য।
৫
গোয়েন্দা যুদ্ধ ও ট্রাম্পের নিরাপত্তা সংকট।
নৌ-করিডোর এবং জ্বালানি রাজনীতির এই প্রকাশ্য সংঘাতের সমান্তরালে নেপথ্যে চলছে আরেক শ্বাসরুদ্ধকর মনস্তাত্ত্বিক ও ছায়া যুদ্ধ। সামরিক কৌশলের গণ্ডি পেরিয়ে এই লড়াই এখন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং গোপন পারমাণবিক সক্ষমতার দরকষাকষিতে রূপ নিয়েছে।
ক। ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য ও ট্রাম্পের হিটলিস্ট।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইসরায়েলের দেওয়া একটি চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা প্রতিবেদন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএন-এর যৌথ প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, ইসরায়েল মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই এই ছক তৈরি করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা। তবে মার্কিন গোয়েন্দা মহলের একাংশ মনে করে, ট্রাম্প যাতে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেন, সেজন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই তথ্যকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকতে পারেন।
খ। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও পারমাণবিক গুঞ্জন।
এই গোয়েন্দা তথ্যের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন যে তিনি ইরানের ‘হিটলিস্টে’ সবার ওপরে আছেন এবং এই ‘ক্যানসার’কে শুরুতেই কেটে ফেলে দিতে হবে। এর মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরে কোণঠাসা হয়ে ইরান তাদের পারমাণবিক চুল্লিগুলো নতুন করে সচল করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে একটি পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট পেপের মতে, ইরান একটি বিশাল দেশ এবং এর যেকোনো প্রান্ত থেকে হরমুজে আঘাত করা সম্ভব, তাই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ উন্মুক্ত করার মার্কিন নীতি একটি ঐতিহাসিক বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
৬
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে একতরফা আধিপত্য বিস্তারের নীতি পরিহার করে ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের মূল শর্তাবলীতে ফিরে আসতে হবে এবং ইরানের জলসীমা এড়াতে অবৈধ সমান্তরাল করিডোর প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। ইরানকেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের অধীনে ওমান ও জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সমন্বয়ে একটি সর্বসম্মত 'নেভিগেশনাল সার্ভিস ফি' কাঠামোর দিকে এগোতে হবে। কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় অবিলম্বে একটি চতুর্মুখী (যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার ও পাকিস্তান) শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় এই প্রক্সি ও সরাসরি যুদ্ধের সংমিশ্রণ বিশ্বকে এক দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেবে।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
১৩ জুলাই ২০২৬