
১
পশ্চিম আফ্রিকান রাষ্ট্র বুরকিনা ফাসোয় সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার এবং সশস্ত্র উগ্রপন্থা দমনের নামে এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি শুরুর দিকে দেশের প্রভাবশালী সুন্নি উলামা সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে রাজনৈতিক ভিত শক্ত করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রাক্তন মিত্রদের সঙ্গেই প্রকাশ্য আদর্শিক ও সামাজিক সংঘাত জড়িয়ে পড়েছেন। নতুন প্রণীত ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আইনি কাঠামো, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে সুন্নি খুতবা ব্যবস্থা পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষায় শিক্ষিত কয়েকজন প্রভাবশালী সুন্নি ইমামকে আটকের ঘটনায় ক্ষমতার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ প্রকাশ্যে এসেছে। রাষ্ট্রকে বহিরাগত মৌলবাদী ভাবধারা থেকে মুক্ত করার এই উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টা বাস্তবে উয়াগাদুগুর কেন্দ্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে দেশটির সর্ববৃহৎ সামাজিক ও ধর্মীয় শক্তির সুদীর্ঘ অলিখিত সমঝোতাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। 'মৌলবাদ বিরোধিতা' এবং ধর্মনিরপেক্ষতা জোরদার করার এই কৌশল বুরকিনা ফাসোর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবে, নাকি অভ্যন্তরীণ ফাটল বাড়িয়ে দেশটিকে গৃহসংকটে ঠেলে দেবে—তা এখন সাহেল রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
২
সাহেল অঞ্চলে ধর্মীয় উগ্রতার প্রেক্ষাপট।
আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির ঠিক দক্ষিণে একটি সুবিশাল ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত অঞ্চল হলো সাহেল, যা পশ্চিম থেকে পূর্ব আফ্রিকা পর্যন্ত (আটলান্টিক মহাসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত) বিস্তৃত। উত্তরের শুষ্ক মরুভূমি এবং দক্ষিণের আর্দ্র ক্রান্তীয় সাভানা অঞ্চলের মধ্যবর্তী এটি এক আধা-শুষ্ক ক্রান্তীয় অঞ্চল, যার মধ্যে মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজার ও চাদের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলে বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উগ্রপন্থী সহিংসতা ও সশস্ত্র রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এক মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ২০১২ সালে মালির উত্তরাঞ্চলে শুরু হওয়া তুয়ারেগ বিদ্রোহ এবং তৎপরবর্তী সালাফি-জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর উত্থান খুব দ্রুতই প্রতিবেশী বুরকিনা ফাসো ও নাইজারে ছড়িয়ে পড়ে। আল-কায়েদা অনুগত 'জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন' এবং 'ইসলামিক স্টেট ইন দ্য গ্রেটার সাহারা'- এর মতো উগ্র সশস্ত্র সংগঠনগুলো কেবল সীমান্ত এলাকাতেই আক্রমণ সীমিত রাখেনি, বরং সুশাসনের অভাব এবং দুর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সুযোগ নিয়ে বিস্তীর্ণ গ্রামীণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চরম অর্থনৈতিক অসন্তোষ, নৃগোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব এবং কাঠামোগত ক্ষমতার শূন্যতাকে পুঁজি করে ধর্মীয় ভাবাবেগকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সীমান্ত অতিক্রমী এই সশস্ত্র তৎপরতা সাহেল অঞ্চলের গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা পুরোপুরি তছনছ করে রাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্বকে বিরাট হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সাহেল অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তাহীনতা ও ঘন ঘন সামরিক অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের মতো সামরিক শাসকেরা উগ্রপন্থা দমনে 'জাতীয় সার্বভৌমত্ব' পুনরুদ্ধারকে প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর উপস্থিতিতেও চরমপন্থা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পর গঠিত 'অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস' এখন অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার ওপর একচ্ছত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চরমপন্থীরা মূলত সুন্নি ও সালাফি ভাবধারার অপব্যাখ্যা দিয়ে তরুণদের নিজেদের দলে ভেড়ায়—এই মূল উপাদানের ওপর আঘাত হানতে ত্রাওরে সরকার এখন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খুতবা ও বিদেশি শিক্ষার ওপর সরাসরি রাষ্ট্রীয় কড়াকড়ি আরোপ করছে। তবে সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তির কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্মীয় অঙ্গনকে এক ছাতার নিচে আনার এই কৌশল বহু স্তরে বিভক্ত সাহেলীয় সমাজের অভ্যন্তরীণ সংহতিকে আরও বেশি ভঙ্গুর করে তুলছে।
৩
ত্রাওরে সরকারের রূপান্তর ও রাজনৈতিক সমঝোতার অবসান।
ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সামরিক ক্যু-এর মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদে বসার পর রাষ্ট্রীয় সমর্থন তৈরিতে ধর্মীয় অঙ্গনের সহায়তা নিয়েছিলেন। তবে উগ্রবাদ দমনের নামে পরবর্তীতে গৃহীত একের পর এক কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের কারণে সরকারের সাথে ধর্মীয় নেতৃত্বের সাবেক মিত্রতা ভেঙে চরম শত্রুতায় রূপ নিয়েছে।
ক। সুন্নি এলিটদের সাথে অলিখিত চুক্তির পতন।
বুরকিনা ফাসোর সাবেক প্রেসিডেন্টদের আমল থেকেই রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ক্ষমতার সাথে সুন্নি পণ্ডিতদের ধর্মীয় ও সামাজিক স্বায়ত্তশাসন কেন্দ্রিক একটি অলিখিত ভারসাম্য বজায় ছিল। রাষ্ট্র পরিচালনায় উলামা সম্প্রদায়ের প্রভাব এবং তাদের স্বাধীন কার্যক্রমকে দীর্ঘকাল যাবত মেনে নেওয়া হলেও বর্তমান সামরিক সরকারের অভিযান ও কড়াকড়ির মুখে সেই সুদীর্ঘ সামাজিক চুক্তি ও পারস্পরিক আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
খ। সমালোচক আলেমদের ওপর রাষ্ট্রীয় চাপ।
সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক ধর্মীয় নীতি বা নতুন ঘোষিত ধর্মনিরপেক্ষ আইনের সমালোচনা করা যেকোনো আলেমকে এখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও 'উগ্রপন্থী' হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাদের বিনাবিচারে আটক করা এবং নজরদারির আওতায় নিয়ে আসার এই কঠোর অবস্থান দেশের সুন্নি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দিন দিন তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিচ্ছে।
৪
নতুন ধর্মীয় আইন ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের কাঠামোগত বিস্তার।
বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তী সংসদের মাধ্যমে নতুন 'ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন' পাস ও কার্যকর হওয়ার পর দেশের সামগ্রিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের সামরিক নিয়ন্ত্রণ অভূতপূর্ব মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একে বুরকিনা ফাসোর প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষা এবং সীমান্তভিত্তিক চরমপন্থা প্রতিরোধের শক্তিশালী ঢাল হিসেবে বর্ণনা করলেও, স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃত্ব একে নাগরিক অধিকার খর্ব করার সামরিক কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করছে।
ক। খুতবা, ইমামতি ও রাষ্ট্রীয় নজরদারি।
নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে মসজিদগুলোতে জুমার খুতবা ও সামাজিক বয়ানের ওপর কড়া রাষ্ট্রীয় নজরদারি জারি করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে রাজনৈতিক বা বিতর্কিত ভাবাদর্শ প্রচার করলে ইমামদের সরাসরি বরখাস্ত করার ঘোষণা রয়েছে। একই সাথে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরণের বৈদেশিক অর্থায়নের হিসাব কড়া পর্যবেক্ষণে আনা হয়েছে এবং সামাজিক সংস্কারের অংশ হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করে প্রাতিষ্ঠানিক ভিক্ষাবৃত্তি করানোকে জরিমানা ও কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে নতুন আইনে কঠোরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
খ। বিদেশে শিক্ষা গ্রহণ ও নাগরিকত্ব বাতিলের হুঁশিয়ারি।
বিদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইসলামি আইন বা ধর্মীয় শিক্ষায় যাওয়ার জন্য উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থী, যারা কোনো ব্যবহারিক বা পেশাগত দক্ষতা অর্জন করছে না বলে দাবি করে তাদের দ্রুত দেশে ফেরার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, এই সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদের নাগরিকত্ব বাতিলের মতো কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
৫
গ্রেপ্তার ও মসজিদ বন্ধ: সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু
বুরকিনা ফাসোয় সম্প্রতি একাধিক অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রভাবশালী সুন্নি আলেমকে আটক করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সামরিক সরকার ও সাধারণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার দূরত্ব চরম সীমানায় পৌঁছেছে। রাষ্ট্রের কঠোর মনোভাব ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের এই চর্চা ধর্মীয় নেতৃত্বের অনুসারীদের রাজপথে টেনে এনেছে, যা সার্বিক সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।
ক। ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দোর ঘটনা।
দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দো সরকারের নতুন ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের প্রকাশ্যে সমালোচনা করার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী। এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানী উয়াগাদুগুতে তীব্র বিক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে সরকার শহরের সবচেয়ে বড় সুন্নি মসজিদটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়; পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা এএফপি-র সূত্রমতে আটককৃতদের মধ্য থেকে প্রায় ১০০ জন সমর্থককে একটি সামরিক শিবিরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক 'নাগরিক প্রশিক্ষণ' প্রদান করা হয়।
খ। মাহমুদ বারোর অন্তর্ধান ও ছকভিত্তিক পর্যালোচনা।
দেশটির বোবো-দিউলাসো শহরের বিশিষ্ট আলেম মাহমুদ বারোকে এর আগে আটক করা হলেও দীর্ঘদিন যাবত তার সুনির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করায় সুন্নি আলেম সমাজের ভেতর চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। সার্বিকভাবে নতুন ধর্মীয় আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, আলেমদের দমন, বিদেশে শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্প্রতি ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের স্বীকৃতি নেওয়ার মতো রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপগুলো বহিরাগত অর্থায়ন ও ভাবধারা বন্ধের চেষ্টা হিসেবে দেখলেও তা দেশের ঐতিহ্যবাহী অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করছে।
৬
ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ: নিরাপত্তা জোটে ইসরায়েলের প্রবেশ
দেশের ভেতরে সুগভীর ধর্মীয় ও সামাজিক টানাপোড়েন চলার মধ্য দিয়েই অন্তর্বর্তী প্রধান ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে তার বৈদেশক নীতি ও কূটনৈতিক কৌশলে এক বড় ধরণের রূপান্তর এনেছেন। পশ্চিম আফ্রিকার চিরাচরিত ভৌগোলিক অবস্থানের তোয়াক্কা না করে নেওয়া এই নীতিগত পরিবর্তন বুরকিনা ফাসোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও অসন্তোষের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ক। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের স্বীকৃতি।
ইসরায়েলের নতুন রাষ্ট্রদূত সিমন সেরুসির স্বীকৃতির আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পর সম্প্রতি তার পরিচয়পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে। যুদ্ধবাজ ও উগ্র হিসেবে চিহ্নিত নেতানিয়াহু সরকারের প্রতিনিধিকে এমন সংকটকালে স্বাগত জানানো বুরকিনা ফাসোর পররাষ্ট্রনীতির এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনকেই নির্দেশ করে, যা দেশটির সুন্নি ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং সাধারণ অনুসারীদের ভেতরে আরও বেশি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
খ। সাহেল জোটে নিরাপত্তা চুক্তি।
সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স এবং ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর গঠিত 'অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস' এখন নিজেদের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প অংশীদার খুঁজে নিচ্ছে। সাহেল অঞ্চলের সশস্ত্র উগ্রবাদ দমন, সীমান্ত প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে সামরিক সরকারগুলো এখন প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথেও সমন্বয় সৃষ্টির নানা প্রয়াস চালাচ্ছে, যা ভূ-রাজনৈতিকভাবে অঞ্চলটিতে এক নতুন মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
৭
চরমপন্থা দমনের নামে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে সরকারের গ্রহণ করা অতিরিক্ত সামরিকীকরণ ও কঠোর প্রশাসনিক নীতি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারে সাময়িক সহায়তা করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। দেশের সর্ববৃহৎ সুন্নি ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং সাধারণ বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে শুধু সামরিক বল প্রয়োগ বা আইনি কড়াকড়ি দিয়ে সাহেল অঞ্চলে বহুমাত্রিক উগ্রবাদ উপড়ে ফেলা সম্ভব না। রাষ্ট্র যদি সামাজিক ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শক্তিগুলো থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তবে সেই ক্ষমতার শূন্যতা ও ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্রধারী চরমপন্থী সংগঠনগুলো নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করবে। বুরকিনা ফাসোর স্থিতিশীলতা ও সাহেল অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এই অঞ্চলের দেশগুলোকে মূলধারার ধর্মীয় ও সামাজিক অংশীদারদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
২৮ জুলাই ২০২৬
তথ্যের উৎস:
১. রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল (RFI): Burkina Faso: Growing tension between Ibrahim Traoré and Sunni Muslim leaders over new religious law.
২. এএফপি (Agence France-Presse): Burkina Faso closes main Sunni mosque in Ouagadougou following religious leader's arrest.
৩. টিমবুকটু ইনস্টিটিউট (Timbuktu Institute - African Center for Peace Studies): Report on Governance, Religion, and Security Dynamics in Burkina Faso and the Sahel.
৪. আফ্রিকা ইন্টেলিজেন্স (Africa Intelligence): Diplomatic shifts in Ouagadougou: Israel's new ambassador accredited by Burkina Faso junta.
৫. আফ্রিকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (ACSS): Extreme Violence and Governance Challenges in the Sahel Region.
৬.https://www.aljazeera.com/news/2026/7/22/why-traore-has-opened-a-new-front-with-burkina-fasos-muslim-community
৭.https://www.africanews.com/2026/05/29/burkina-faso-junta-shuts-major-mosque-after-arrests-of-protesters/
৮.https://dailytimes.ae/post/burkina-faso-junta-closes-main-mosque-as-crackdown-on-dissent-deepens