
১
একবিংশ শতাব্দীর ভূ-রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ভারত মহাসাগর, যেখানে বিশ্ব বাণিজ্যের ও খনিজ তেলের এক বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। এই স্ট্র্যাটেজিক জলপথের ওপর নিজস্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলোর (SLOCs) নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণ এবং ভূ-রাজনৈতিক পরাশক্তিগুলোর শক্তিমত্তার মহড়ায় প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে আঞ্চলিক মেরুকরণ। চীন ও পাকিস্তানের যৌথ কৌশলগত অক্ষকে টেক্কা দেওয়া থেকে শুরু করে সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালীতে নিজস্ব অবস্থান শক্ত করা পর্যন্ত—ভারতের ব্লু-ওয়াটার নেভি গঠনে দৃশ্যমান হচ্ছে এক বিশাল নৌ-সম্প্রসারণ ও সামরিকীকরণ রূপরেখা। এই প্রেক্ষাপটে চীনের ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ নীতি, মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক বাণিজ্য অবকাঠামো এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ সহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উপর এর প্রভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
২
ভারতের নৌ-সম্প্রসারণ ও ২০০ যুদ্ধজাহাজের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ভারত মহাসাগরে প্রভাব ধরে রাখতে ভারত আগামী ১০ বছরের মধ্যে নৌবাহিনীর জাহাজের সংখ্যা ২০০ এর উপরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের নৌবহরে ফ্রন্টলাইন ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিনসহ প্রায় ১৫০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে এবং আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ নির্মাণাধীন রয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর এই অগ্রগতির বড় প্রমাণ মিলেছে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে, যখন মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের বহরে দুইটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করে। একটি হলো ‘নীলগিরি-শ্রেণি’র (প্রজেক্ট-১৭এ) স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ এবং অন্যটি উপকূলীয় ডুবোজাহাজ-শিকারি যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস মালভান’।
আইএনএস মহেন্দ্রগিরি জাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো’ কর্তৃক নকশাকৃত এবং প্রায় ৭৫ শতাংশ স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করে এটি তৈরি করেছে মুম্বাইয়ের ‘মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড’। ভারত সরকারের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল ইতঃপূর্বে প্রায় ৭০,০০০ কোটি রুপি ব্যয়ে ‘প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো’ নামক পরবর্তী প্রজন্মের আরও ৭ থেকে ৮টি নতুন স্টেলথ ফ্রিগেট নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্রের মতে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের ২০০ জাহাজের লক্ষ্য অর্জন পুরোপুরি সম্ভব, যার জন্য স্থায়ীভাবে প্রস্তুত অন্তত দুটি শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারতীয় নৌবাহিনী বর্তমানে প্রতি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ বহরে যুক্ত করছে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে জাহাজ নির্মাণ ও যন্ত্রাংশে ১০০% আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করা।
৩
চীনের ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ ও নয়া দিল্লির নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ।
ভারতের এই বিশাল নৌ-প্রস্তুতির মূল অনুঘটক হলো চীনের নৌ-প্রতিরক্ষা কৌশল বা ‘স্ট্রিং অব পার্লস’। বেইজিং প্রতিনিয়ত বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক নৌবহর গড়ে তুলছে এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি পাকাপোক্ত করতে অবকাঠামোগত নেটওয়ার্ক তৈরি করছে। শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর, পাকিস্তানের গ্বাদার বন্দর, মিয়ানমারের কিয়াকফিউ এবং আফ্রিকার জিবুতিতে সামরিক ঘাঁটির পর চীন তাদের স্ট্র্যাটেজিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে চীন যেভাবে একের পর এক সামুদ্রিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে, তা নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে ভারতকে ঘিরে ফেলার একটি সুপরিকল্পিত বলয়। ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানও সম্প্রতি চীনের তৈরি অত্যন্ত আধুনিক ও আক্রমণাত্মক সাবমেরিন নিজেদের নৌবহরে যুক্ত করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। এই চীন-পাকিস্তান সামরিক অক্ষ ভারতের মূল ভূখণ্ড ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করায় ভারত তাদের নৌবহরকে বঙ্গোপসাগর থেকে আরব সাগর পর্যন্ত এক প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর হিসেবে গড়ে তুলতে বাধ্য হচ্ছে।
৪
বাব আল-মান্দেব, মধ্যপ্রাচ্য অক্ষ ও বিশ্ব বাণিজ্যের পথ সুরক্ষা।
ভারতের ব্লু-ওয়াটার নেভির দিগন্ত কেবল বঙ্গোপসাগর বা আন্দামান সাগরেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পশ্চিমে লোহিত সাগর ও ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত। ভারত মহাসাগরের মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের সিংহভাগ পরিবাহিত হয়, তাই এই রুটের নিরাপত্তা রক্ষা করা ভারতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুতি বিদ্রোহী ও জলদস্যুতার মতো বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভারত এই রুটে তাদের বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ও টহল নৌযান মোতায়েন করে সমুদ্রপথ সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই কৌশলের পেছনে কাজ করছে কূটনৈতিক সমন্বয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল এবং আমেরিকার সাথে যৌথ সহযোগিতায় পরিকল্পিত ‘ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ করিডোর’ সুরক্ষিত রাখতে ভারত বাব আল-মান্দেব ও সংলগ্ন জলসীমায় নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রাখছে। এটি প্রমাণ করে যে, ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশে ভারত এখন একটি ‘নেট সিকিউরিটি প্রোভাইডার’ বা প্রধান নিরাপত্তা প্রদানকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়।
৫
বঙ্গোপসাগর ও মোংলা বন্দরে চীনের বিনিয়োগ: সংবেদনশীল ভূ-রাজনীতি।
ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার এই আঞ্চলিক উত্তাপের প্রভাব এসে পড়েছে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত বাংলাদেশেও। সম্প্রতি বাংলাদেশের কৌশলগত মোংলা বন্দরে চীনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে ভারতের নজর এখন বঙ্গোপসাগরের এই অঞ্চলে নিবন্ধিত হয়েছে। মোংলা বন্দরের সংলগ্ন প্রায় ১১০ একর জমিতে গড়ে উঠছে ‘চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল’। প্রাথমিকভাবে এই জায়গাটি ভারতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া থাকলেও, ভারতীয় অংশীদার নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন’-কে এটি হস্তান্তর করে। এখানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও পোশাক তৈরির কারখানা গড়ে তোলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা রয়েছে।
চীন থেকে ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার (৪,০৬৮ কোটি টাকা) ঋণে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, যেখানে ২টি কন্টেইনার জেটি, আধুনিক ইয়ার্ড ও গ্যান্ট্রি ক্রেন স্থাপন করা হবে। এছাড়াও রামপালে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ও বাণিজ্য গতিশীলকরণ করার লক্ষ্যে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের জন্য চীন সরকার কর্তৃক অর্থায়ন ও নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই মেগা প্রকল্পগুলোকে নিছক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হিসেবে দেখলেও, ভারতের দৃষ্টিতে বঙ্গোপসাগরের তীরে চীনের এই অর্থায়ন ও কৌশলগত উপস্থিতি তাদের আন্দামান-নিকোবর প্রতিরক্ষা বলয় এবং পূর্ব উপকূলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
৬
দক্ষিণ এশিয়ায় তিন শক্তির সামরিক ও অর্থনৈতিক মহড়া।
বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এখন আর কেবল আঞ্চলিক জলপথ নয়; এটি এখন চীন, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী ক্ষমতার লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত হয়েছে। আমেরিকা তার ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ এবং ‘কোয়াড’ জোটের মাধ্যমে ভারতকে পাশে রেখে চীনের প্রভাব কমানোর নীতি গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে চীন তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ শিল্প সক্ষমতা এবং ক্রমবর্ধমান যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা দিয়ে এই দুই বৈশ্বিক পরাশক্তির মাঝে নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন ধরে রাখতে মরিয়া। এই পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত স্নায়ুযুদ্ধের ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল ক্রমান্বয়ে বিশ্ব ভূ-রাজনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক সামরিকীকরণ অঞ্চলে রূপ নিচ্ছে।
৭
ভূ-রাজনৈতিক ঝড়ে বাংলাদেশের ভারসাম্যমূলক কৌশল।
ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক এই বিশাল সামরিক প্রতিযোগিতার ঠিক কেন্দ্রে অবস্থান করায় বাংলাদেশ একদিকে যেমন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ লাভ করছে—চীনা বিনিয়োগ (চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল), জাপানি বিনিয়োগ (মাতারবাড়ি) এবং ভারতীয় ঋণে উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে—তেমনি অন্যদিকে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ঝুঁকির মুখেও পড়ছে। কোনো সামরিক জোটে সরাসরি সম্পৃক্ত না হয়ে, বহিরাগত কোনো শক্তিকে ঘাঁটি বা সামরিক সুবিধা না দিয়ে, ‘কোয়াড’ কিংবা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ -এর মতো জোটে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন দেশের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক নিরপেক্ষতার মূল ভিত্তি। চীন ও ভারতের মধ্যকার এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রধান করণীয় হলো চীন/ভারত বিরোধী কোন অক্ষে সরাসরি যোগ না দেওয়ার নীতিতে অটল থাকা এবং মোংলা, চট্টগ্রাম বা মাতারবাড়ির মতো সমুদ্রবন্দরগুলোকে কেবল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ রেখে কোনো বহিরাগত শক্তিকে সামরিক কাজে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়া। এছাড়াও একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে চীন, ভারত, জাপান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের উৎস বণ্টন করা জরুরি। এসবে পাশাপাশি নিজস্ব এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন রক্ষায় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এর লক্ষ্য যুদ্ধ নয়—বরং দেশের সীমানা ও বাণিজ্য পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৮
ভারত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র রূপ নেবে, যেখানে ভারতের ২০০ জাহাজের রূপরেখা এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক রূপরেখা পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ মোকাবিলা থেকে শুরু করে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ-উপস্থিতি জোরদার করা পর্যন্ত ভারত নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রদানকারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই সামরিকীকরণের ফলে বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশের জন্য একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। মোংলা বন্দরে চীনা বিনিয়োগে ভারতের অস্বস্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি—সব মিলিয়ে বঙ্গোপসাগর এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এই পরিস্থিতিতে কোনো একক পক্ষের দিকে না ঝুঁকে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতির জটিলতা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অত্যন্ত সুচিন্তিত সামুদ্রিক কূটনীতি (Ocean Diplomacy) ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে পথ চলতে হবে। নিজেদের সমুদ্রবন্দরগুলোর বাণিজ্যিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করা এবং কোনো বিশ্বশক্তিকে সামরিক সুবিধা না দেওয়ার নীতিই বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সংঘাত থেকে দূরে রাখবে। মুক্ত নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং বঙ্গোপসাগরে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষে বিভিন্ন ফোরামে কথা বলাই হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল সুরক্ষাকবচ।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
৩১ জুলাই ২০২৬
তথ্যসূত্র:
1.India aims for a 200-ship navy to counter China and Pakistan — South China Morning Post. https://www.scmp.com/week-asia/politics/article/3361786/india-aims-200-ship-navy-counter-china-and-pakistan
2. How India Is Preparing for a Sea War with China — The National Interest. https://nationalinterest.org/blog/buzz/how-india-preparing-for-sea-war-with-china-ps-072826
3. Indian Navy commissions ‘INS Mahendragiri’ — OnManorama. https://www.onmanorama.com/upsc/current-affairs/2026/07/11/indian-navy-commissions-ins-mahendragiri.html
4. INS Malvan, second Mahe-class Anti-Submarine Warfare Craft, commissioned into Indian Navy — India Strategic. https://www.indiastrategic.in/ins-malvan-second-mahe-class-anti-submarine-warfare-craft-commissioned-into-indian-navy
5. Indian Navy Prepares to Induct Two New Warships INS Mahendragiri and INS Malvan — The Defense News. https://www.thedefensenews.com/Indian-Navy-Prepares-to-Induct-Two-New-Warships-INS-Mahendragiri-and-INS-Malvan-After-Recent-Three-Warships-Commissioning/
6. China to Develop Bangladesh's Mongla Port — Drishti IAS. https://www.drishtiias.com/state-pcs-current-affairs/china-to-develop-bangladeshs-mongla-port
7. China firm now to develop economic zone on delisted Mongla site for India — The Business Standard. https://www.tbsnews.net/foreign-policy/china-firm-now-develop-economic-zone-delisted-mongla-site-india-1472566
8. Strategic importance of Bangladesh's Mongla Port, as Dhaka hands key project to China, ending India deal — ThePrint. https://theprint.in/diplomacy/strategic-importance-of-bangladeshs-mongla-port-as-dhaka-hands-key-project-to-china-ending-india-deal/2972757
9. Bangladesh Hands Mongla Port Project to China: Strategic Implications for India, Bay of Bengal Security & International Law — Legal Service India. https://www.legalserviceindia.com/Legal-Articles/bangladesh-mongla-port-china-india-strategic-analysis-international-law/