
১
‘আষাঢ় মাস হীরাধরের আশায় আশে যায়।
বিয়া নাই সে হইল কন্যার কি করি উপায়৷
শায়ন মাসে বিয়া দিতে দেশের মানা আছে।
এই মাসে বিয়া দিয়া বেউলা রাঢ়ি হইছে ৷
ভাদ্র মাসে শাস্ত্র মতে দেবকাযর্য মানা।
এই মাসে না হইল বিয়া কেবল আনাগুনা॥’
‘মলুয়া পালা’ থেকে লাইনগুলো নেয়া হয়েছে। মানব জীবনের একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ ধাপ হল বিয়ে। সামাজিক-সাংষ্কৃতিক পরিমণ্ডলে বিয়ে নিয়ে তাই নানাধরনের আচার-ক্রিয়া সমপন্ন হয়। এছাড়া বিয়ে যেহেতু একটা শুভ কাজ তাই বিয়ের শুভ-অশুভ দিন নিয়ে লোক সমাজে নানা বিধি নিষেধ রয়েছে। এভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানাদিক এসব পালা বা গীতিকায় স্থান পেয়েছে। আসলে মধ্যযুগের দেবদেবী নির্ভর কাব্যভুবনে মৈমনসিংহ গীতিকা একটা উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এই গীতিকায় দেবদেবীর উপস্থিতি নেই, কোন ধর্ম প্রচার নেই। এই কাব্যের জীবন স্রোত মানবীয় রসে জারিত। এই গীতিকার পালাগুলোতে বাস্তব জীবনে মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশা ফুটে উঠেছে। মহুয়ার জীবনের যে দুঃসহ বেদনা, চন্দ্রাবতীর জীবনের যে অপরিসীম দুঃখ, মদিনার জীবন সায়াহ্নে যে বিমলন ট্র্যাজেডি ঘনীভূত হয়ে উঠেছে, তা আমাদের হৃদয়কে করুন রসে অভিসিক্ত করে তোলে। পালার কাহিনীগুলোতে বাংলার মাটির স্পর্শ পাওয়া যায়। গীতিকার ভাষা মাটির সোঁদা গন্ধ জড়ানো। এঈ ভাষা একদম সহজ সরল এবং আড়ম্বরহীন। এই ভাষাতেই নদ্যার ঠাকুর তার মনের ভাব প্রকাশ করেন এভাবে-
''কোথায় পাইবাম কলসী কন্যা কোথায় পাইবাম দড়ি।
তুমি হও গহীন গাঙ আমি ডুব্যা মরি।।''
উপমাগুলোও মাটির একেবারে কাছ থেকে সংগ্রহ। যেমন-
''ডাল যে নোয়াইয়া ধরে জয়ানন্দ সাথী।
তুলিল মালতী ফুল কন্যা চন্দ্রাবতী।।''
তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এই মৈমনসিংহ গীতিকার শ্রেষ্ঠ সম্পদ এর নারী চরিত্র গুলো এবং তাদের প্রেমের পরিণতি। পালার কাহিনীতে উল্লেখিত নারীচরিত্রগুলো প্রেমে নিবেদিত প্রাণ। আমরা বেদের পালিত কন্যা মহুয়ার দুঃসাহসিক কর্মকান্ডে যেমন বিস্মিত হই আবার মলুয়ার নীরব সহ্য ক্ষমতা আমাদেরকে আকর্ষণ করে। আবার চন্দ্রাবতীর দুর্বিসহ বেদনার মুহুর্তের ধৈর্য আমাদের বিস্মিত করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, 'এই পল্লিগাথায় রমণীরা অনেকবার কুলধর্ম বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু কখনই নারীধর্ম ত্যাগ করেন নাই।'
২
পৃথিবীর প্রথম কবি, এনহেদুয়ান্না ছিলেন একজন নারী। আক্কাদিয় রাজা সারগন ও রানি তাশলুলতুমের কন্যা এনহেদুয়ানা শুধু কবিই ছিলেন না, তিনি রাজ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মানিত রাজপুরোহিতও ছিলেন। এর আগে আক্কাদিয় এই নারী কবি এবং গ্রীক নারী কবি স্যাফোকে নিয়ে লিখেছিলাম। বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদে নারীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। চর্যাপদের কবিদের মধ্যে একজন নারী কবির হদিস পাওয়া যায়, তার নাম কুক্কুরি পা। কিন্তু একজন হলেও সেটা ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। কুক্কুরি পা’কে আমরা মনে করতে পারি বাংলা সাহিত্যের সমগ্র নারী জাতির কণ্ঠস্বর। চর্যাপদের ভাষা শতভাগ বাংলা ছিলো না, তারপরও বলা যায় কুক্কুরি পা’র মতো কবির জন্ম না হলে বাংলাভাষার প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীর মতো একজন সাহসী লেখককে আমরা পেতাম না। আজকের এই লেখা মূলত চন্দ্রাবতীকে ঘিরেই।
চন্দ্রাবতীই নারীদের মধ্যে বাংলাসাহিত্যে প্রথম উল্লেখযোগ্য কবি। তার হাতে অতি সহজেই ভাষা ও ছন্দ ধরা দিলেও তার জীবনে ছিল গভীর বিরহ। আমৃত্যু তার জীবন কেটেছিল সর্বনাশা এক বিয়োগান্তক স্মৃতি নিয়ে। চন্দ্রাবতী সুবিখ্যাত মনসা ভাসান এর লেখক কবি বংশীদাস ভট্টাচার্য'র মেয়ে, চন্দ্রাবতী'র মায়ের নাম সুলোচনা বা অঞ্জনা। কবি চন্দ্রাবতী নিজে তার বংশ ও গৃহ পরিচয় এভাবে দিয়েছেন-
''ধারাস্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহি যায়।
বসতি যাদবানন্দ করেন তথায়।।
ভট্টাচার্য্য গরে জন্ম অঞ্জনা ঘরণী।
বাঁশের পাল্লায় তালপাতার ছাউনী।
ঘট বসাইয়া সদা পূজে মনসায়।
কোপ করি সেই হেতু লক্ষ্মী ছাড়ি যায়।।
দ্বিজবংশী বড় হৈল মনসার বরে।
ভাসান গাইয়া যিনি বিখ্যাত সংসারে।।''
কবি বংশীদাস এবং চন্দ্রাবতী মিলে ১৫৭৫ খৃস্টাব্দে মনসাদেবীর ভাসান রচনা করেছিলেন। পরবর্তিতে বাবা'র নির্দেশে কবি রামায়ন লেখেন,
‘বসুমতি কয়, মাগো আইস আমার কোলে
দুঃখিনী কন্যারে লয়্যাগো
আমি যাইব পাতালে
সুখে থাউক রাজা রামগো রাইজ্য প্রজা লয়্যা
আমার কন্যা সীতারে আমিগো
লয়্যা যাই চলিয়া।
.....................
দুষ্ট লোকের কথা শুইনাগো কী কাম করিলা
জন্মের মতন রামগো সীতারে হারাইলা
চন্দ্রাবতী কাইন্দা কয়গো কাহারো দোষ নাই
কর্মফল সুখ–দুঃখগো দাতা
বিধাতা গোঁসাই।’
সীতার দুঃখ-কষ্টকে চন্দ্রাবতী তার নারী মনোভাব দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন বলেই স্বতন্ত্র ধারার এ রামায়ণপালাটি রচনা করতে পেরেছিলেন। পরিশীলিত সাহিত্য-দরবারে চন্দ্রাবতীর এ স্বতন্ত্র রামায়ণপালাটি স্থান পায়নি কখনো, কিন্তু সমাজের বৃহত্তর নিম্নবর্গের পরিসরে, বিশেষত পল্লিসমাজের নারীর ঘরোয়া রামায়ণী আচার-অনুষ্ঠানে কোথাও কোথাও আজও এই লোকরামায়ণ পালাগান পরিবেশিত হয়ে থাকে।
৩
চন্দ্রাবতীর জন্ম ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন বাংলার বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জের পাতুয়ারী গ্রামে। ছোটবেলায় চন্দ্রাবতীর বন্ধু ও খেলার সাথী ছিলেন জয়ানন্দ বা জয়চন্দ্র চক্রবর্তী নামের এক অনাথ বালক৷ ফুলেশ্বরী নদীর এপারে পাতুড়িয়া গ্রামে চন্দ্রাবতীর বাস, আর জয়চন্দ্রের নিবাস নদীর ওপারে সুন্ধা গ্রামে৷ জয়চন্দ্র তার মাতুলগৃহে পালিত৷ পুষ্পবনে শিবপূজার ফুল তোলার সময় চন্দ্রার সঙ্গে জয়চন্দ্রের পরিচয় ও সখ্যতা ঘটে। ক্রমশ কৈশোর উত্তীর্ণ হলে দুজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন বলে স্থির করেন। বিবাহের দিনও স্থির হয়৷ কিন্তু জয়চন্দ্র ইতোমধ্যে অন্য এক রমনীর প্রেমে পড়ে যান৷ স্থানীয় মুসলমান কাজী'র মেয়ে আসমানীর অসামান্য রূপে মুগ্ধ হয়ে জয়চন্দ্র আসমানীকে একাধিক প্রেমপত্র লেখেন৷
জয়চন্দ্রের সাথে চন্দ্রাবতীর প্রেমের কথা জেনেও আসমানী তার পিতাকে জানান যে, তিনি জয়চন্দ্রকে বিয়ে করতে চান৷ কাজী জয়চন্দ্রকে বলপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে আসমানীর সাথে তার বিয়ে দেন এবং জয়চন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে জয়নাল নাম রাখা হয়। ঘটনাটি ঘটে যেদিন জয়চন্দ্র ও চন্দ্রাবতীর বিবাহের দিন স্থির হয়েছিলো সেই দিন৷ সেদিন সন্ধ্যাবেলা চন্দ্রাবতী বিবাহের সাজে পিত্রালয়ে বসে ছিলেন৷ তখনই সংবাদ পেলেন জয়চন্দ্র ধর্মান্তরিত হয়ে অন্যত্র বিবাহ করেছেন৷ ঘটনার আকস্মিকতায় চন্দ্রা হতভম্ব হয়ে পড়েন,
"না কাঁদে না হাসে চন্দ্রা নাহি কহে বাণী।
আছিল সুন্দরী কন্যা হইল পাষাণী।।
মনেতে ঢাকিয়া রাখে মনের আগুনে।
জানিতে না দেয় কন্যা জ্বলি মরে মনে।।"
এরপর শুরু হয় চন্দ্রাবতীর বিরহ-বিধুর জীবন৷ শোকবিহ্বলতা কাটাতে তিনি পিতার কাছে অনুমতি নেন যে সারা জীবন অবিবাহিত থেকে তিনি শিবের সাধনায় আত্মনিবেদন করবেন ৷ তার পিতা তার জন্য ফুলেশ্বরী নদীর তীরে একটি শিব মন্দির নির্মাণ করে দেন৷ সাহিত্যের প্রতি চন্দ্রাবতীর গভীর অনুরাগ ছোটবেলা থেকেই ছিলো ৷ তিনি বাকী জীবন শিবের উপাসনা ও সাহিত্যচর্চা করে কাটাবেন বলে স্থির করেন৷ বেশ কিছুদিন পরে জয়চন্দ্র বুঝতে পারেন যে, আসমানীর প্রতি তার টানটা ছিলো মোহ মাত্র ৷
মনের দিক থেকে তিনি আসলে চন্দ্রাবতীকেই ভালবাসেন৷ অনুতপ্ত হয়ে জয়চন্দ্র চন্দ্রাবতীকে একটি পত্র লিখে পাঠান,
"শুন রে প্রাণের চন্দ্রা তোমারে জানাই।
মনের আগুনে দেহ পুড়্যা হৈছে ছাই।।
..................... .........................
শিশু কালের সঙ্গী তুমি যৌবন কালের মালা।
তোমারে দেখিতে মন হৈয়াছে উতলা।
..................... .........................
ভাল নাহি বাস কন্যা এ পাপিষ্ঠ জনে।
জন্মের মতন হইলাম বিদায় ধরিয়া চরণে।।
একবার দেখিয়া তোমা ছাড়িব সংসার।
কপালে লিখেছে বিধি মরণ আমার।।"
চিঠি পড়ে চন্দ্রাবতীর সংকল্পিত ব্রহ্মচর্য, অবিচলিত সংযম ও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলো। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি পিতার কাছে বিধান চাইলেন। কন্যার মানসিক শিথিলতা মেটাতে বংশীদাস তাকে সান্ত্বনা দিলেন,
"তুমি যা লইয়াছ মাগো সেই কাজ কর।
অন্য চিন্তা মনে স্থান নাহি দিও আর।।"
জয়চন্দ্রকে পত্রদ্বারা নিষেধ করে চন্দ্রাবতী যোগাসনে বসে মনের সমস্ত অর্গল রুদ্ধ করলেন, তার চোখের জল শুকিয়ে গেল। শিব-ধ্যানে আত্মহারা হয়ে তিনি সমস্ত জাগতিক জ্ঞান লুপ্ত হলেন।
এক সন্ধ্যায় তাদের যেমন বিচ্ছেদ হয়েছিলো, আরেক সন্ধ্যায় সেই বিচ্ছেদ মুছে গিয়ে তাদের দুজনার মিলন হবে এই আশায় জয়চন্দ্র রওনা দিলেন পাতুয়ারী গ্রামে৷ জয়চন্দ্র যখন পৌঁছলেন তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। শিব মন্দিরের ভেতর দরজা বন্ধ করে সন্ধ্যা আরতি ও তপজপে নিজেকে নিবদ্ধ করেছেন চন্দ্রাবতী৷ জয়চন্দ্র মন্দিরের দ্বারে এসে কয়েকবার চন্দ্রাবতীকে ডাকলেন কিন্তু দরজা বন্ধ থাকায় এবং ধ্যানে মগ্ন থাকায় চন্দ্রাবতী'র ডাক শুনতে পাননি। চন্দ্রাবতীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে জয়চন্দ্র রাগে দুঃখে লালবর্ণের সন্ধ্যামালতী ফুল দিয়ে মন্দিরের দরজায় চার লাইনের একটি পদে চন্দ্রাবতী ও ধরাধামকে চিরবিদায় জানিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করে।
"শৈশব কালের সঙ্গী তুমি যৌবন কালের সাথী।
অপরাধ ক্ষমা কর তুমি চন্দ্রাবতী।।
পাপিষ্ঠ জানিয়া মোরে না হইলে সম্মত।
বিদায় মাগী চন্দ্রাবতী জনমের মত।।"
কিছুক্ষণ পরে মন্দির থেকে বেরিয়ে চন্দ্রাবতী বুঝতে পারেন যে মন্দির কলুষিত হয়েছে৷ তিনি মন্দিরের দরজা পরিষ্কার করার জন্য কলসী কাঁখে জল আনতে যান পার্শ্ববর্তী ফুলেশ্বরী বা ফুলিয়া নদীতে৷ ঘাটে পৌঁছেই চন্দ্রাবতী বুঝলেন সব শেষ, ফুলেশ্বরীর জলে ঝাপ দিয়ে প্রাণত্যাগ করেছেন জয়চন্দ্র৷ প্রাণহীন দেহ ভাসছে ফুলেশ্বরীর জলে৷ এই অবস্থায় নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না চন্দ্রাবতী৷ তিনিও অচিরে প্রেমিকের সাথে পরলোকে চিরমিলনের কামনায় ফুলেশ্বরীর জলে ডুবে প্রাণত্যাগ করেন।
"একেলা জলের ঘাটে সঙ্গে নাই কেহ।
জলের উপরে ভাসে জয়চন্দ্রের দেহ।।
দেখিতে সুন্দর কুমার চাঁদের সমান।
ঢেউ-এর উপরে ভাসে পৌর্ণ মাসী চাঁদ।।
আঁখিতে পলক নাই! মুখে নাই বাণী।
পারেতে দাঁড়াইয়া দেখে উন্মত্তা কামিনী।।"
জয়চন্দ্রের গ্রাম সুন্ধা আজো খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ তবে কবি চন্দ্রাবতীর স্মৃতি বিজড়িত পাতুয়ারী গ্রাম আজও আছে, কিশোরগঞ্জ শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে৷ ফুলেশ্বরী নদীর ধারে চন্দ্রাবতীর পূজিত শিব মন্দিরটাও আছে, যেখানে বসে কবি সাহিত্য রচনা করেছেন। চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলি হলো-
১। মলুয়া
২। দস্যু কেনারামের পালা (মনসার ভাসান, রচনাকাল: ১৫৭৫ শকাব্দ)
৩। রামায়ণ (অসমাপ্ত)।
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
৯ আগস্ট ২০২৬
হদিস:
১। মৈমনসিংহ-গীতিকা- শ্রীদীনেশচন্দ্র সেন, রায় বাহাদুর
২। প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা কাব্য চরিত্রায়ণ ও ভাষাপ্রযুক্তি- ডঃ মনজুর রহমান
৩। বাংলার পুরনারী, দীনেশচন্দ্র সেন
৪। বাংলাপিডিয়া
৫। ইন্টারনেট