
১
There was a young man from the west,
He did what he could for what he thought best;
But election came round,
He found himself drowned,
And the papers will tell you the rest.
কবি এজরা ওয়েস্টন লুমিস পাউন্ড প্রথম কবিতাটা লিখেছিলেন ১১ বছর বয়সে, ১৮৯৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থি উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ানকে নিয়ে। সেবছরই ০৭ নভেম্বরে সেটি ছাপা হয়েছিল জেঙ্কিন্টন টাইমস ক্রনিকলে। এরপর অসংখ্য কবিতার মাঝে তার জীবন যাপন। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বলেন, ‘আমাদের এজরা পাউন্ডের মতো কবি আছেন, যিনি জীবনের এক-পঞ্চমাংশ সময় কবিতার জন্য ব্যয় করেছেন কিন্তু বাকি সময়টা তিনি ব্যয় করেছেন তার বন্ধুদের ব্যক্তিগত এবং শিল্প-সাহিত্যমূলক কাজে। যখন তারা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তাদের সর্বান্তকরণে সাহায্য করেন। এমনকি যারা জেল-জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন তাদের জেল থেকে বের হওয়ার ব্যাপারেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। তিনি তাদের ছবি বিক্রি করে দিতেন, তাদের চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করতেন, এমনকি যারা হতাশার কারণে আত্মহত্যার মতো বিনাশী কাজে প্রবৃত্ত হতেন তাদের সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতেন এবং অবশেষে দেখা যেত যাদের তিনি উপকার করেছেন তারাই তাকে কেউ কেউ প্রথম সুযোগেই আঘাত করেছেন।’ তাকে ঘিরে বিতর্ক যেমন ছিল, ভক্তদের ভালোবাসাও পেয়েছেন প্রচুর। জীবনের কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি তাকে লেখা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি, তিনি জেলে বসেও লিখেছেন। কবিকে নিয়ে এই আর্টিকেল শুরু করছি তার লেখা একটা বিখ্যাত কবিতা দিয়ে, যেটা তিনি ‘A Girl’ শিরোনামে লিখেছিলেন,
The tree has entered my hands,
The sap has ascended my arms,
The tree has grown in my breast-
Downward,
The branches grow out of me, like arms.
Tree you are,
Moss you are,
You are violets with wind above them.
A child - so high - you are,
And all this is folly to the world.
কবি কাজী জহিরুল ইসলাম ‘বালিকা’ শিরোনামে কবিতাটা অনুবাদ করেছেন,
বৃক্ষেরা আমার হস্তযুগলের ভিতর প্রবেশ করে
বৃক্ষরস প্রবাহিত হয়
বাহুযুগলের অভ্যন্তরে
আমার স্তনের মধ্যে বেড়ে ওঠে গাছ
নিম্নগামী,
আমার গহন থেকে উঠে আসে বৃক্ষশাখাবৃন্দ,
আমারই বাহু......
তুমিই তো বৃক্ষ
তুমিই জড়িয়ে থাকা সবুজ শ্যাওলা
বাতাসে দোলে বেগুনি ফুল তোমার চুড়োয়, সেও তুমি,
শিশু, খুব উঁচুতে, তুমিই......
এবং এ-সকলই নিরর্থ মুকুট, এই পৃথিবীর।
২
আমেরিকার আইদাহো অঙ্গরাজ্যের হেইলি শহরের একটি ছোট্ট দোতলা বাড়িতে ১৮৮৫ সালের ৩০ অক্টোবরে কবি এজরা ওয়েস্টন লুমিস পাউন্ড জন্মগ্রহণ করেন। হোমার লুমিস পাউন্ড এবং ইসাবেল ওয়েস্টন দম্পতির একমাত্র সন্তান। সপ্তদশ শতকে তার পূর্বপুরুষ ইংল্যান্ড থেকে আমেরিকায় অভিবাসী হন। ইংরেজ কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ছিলেন মায়ের দিক থেকে কবি’র পূর্বসূরি। সেকালে শিশুদের শিক্ষা দেয়ার জন্য কিছু স্কুল ছিল যেগুলো নারীরা নিজেদের বাড়িতেই পরিচালনা করতেন। এরকম একটা স্কুলে পাউন্ডের শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ১৮৯২ সালে তার ৭ বছর বয়সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় মিস এলিয়টের স্কুলে। এরপর ১৮৯৩ সালে শেল্টন হিল স্কুলে এবং ১৮৯৪ সালে ফ্লোরেন্স রিডপ্যাথ স্কুলে পড়াশুনা করেন।
১৮৯৭ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত তিনি শেল্টেনহেম মিলিটারি একাডেমিতে পড়াশোনা করেন। এরপর ১৯০১ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল আর্টস কলেজে ১৫ বছর বয়সে ভর্তি হন। কিন্তু ১৯০২ সালে পরিবারের সাথে ইউরোপ ভ্রমণে যাওয়ায় ফিরে এলে তাকে নিউইয়র্কের হেমিল্টন কলেজে ভর্তি করে দেয়া হয় তবে দুর্বল ফলাফলের কারণে তাকে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হয়। তবে এই পেনসিলভানিয়াতেই কবি দেখা পান হিল্ডা ডুলিটলের এবং তারা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। হিল্ডা নিজেও কবি ছিলেন। হিল্ডাই ছিলেন কবি পাউন্ডের প্রথম প্রেম এবং ১৯০৫ সাল থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত এই দু’বছরে তিনি হিল্ডাকে নিয়ে অনেকগুলো কবিতা লেখেন। সেখান থেকে বাছাইকরা ২৫টা কবিতা হাতে বাঁধাই করে তার প্রথম কবিতার বই ‘হিল্ডার বই’ প্রকাশ করেন। ১৯০৮ সালে কবি এজরা পাউন্ড হিল্ডাকে বিয়ে করার প্রস্তাব নিয়ে হিল্ডা’র বাবা অধ্যাপক চার্লস ডুলিটলের কাছে গেলে তিনি চালচুলোহীন ও ভবঘুরে আখ্যা দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এসময়ে কবি ভায়োলা বক্সটার ও মেরী মুর নামে আরও দু’জন নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরমধ্যে মেরীকে বিয়ে করতে চেয়েও তিনি প্রত্যাখ্যাত হন।
৩
ইতালির ভেনিসে থাকাবস্থায় ১৯০৮ সালের জুলাই মাসে নিজের টাকায় তার কবিতার বই ‘A Lume Spento’ প্রকাশ করলে দি লন্ডন ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা কবিতাগুলোকে বুনো ও শক্তিশালী বলে মন্তব্য করে। পত্রিকার মতে তার লেখা কবিতাগুলো সম্পূর্ণ কাব্যিক, মৌলিক, চিত্রকল্পসমৃদ্ধ, গভীর এবং আধ্যাত্মিক। আগস্টে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং পরবর্তী ১২ বছর সেখানেই কাটান। ইংলিশ গ্রন্থবিক্রেতা এল্কিন ম্যাথুসকে রাজী করিয়ে তার দোকানে কাব্যগ্রন্থটা রাখার ব্যবস্থা করলে কবি হিসেবে তিনি আলোচিত হতে থাকেন। সে বছরের ডিসেম্বরেই কবিতার বই ‘A Quinzaine for This Yule’ প্রকাশ করেন। এসময় সকালটা তিনি কাটাতেন ব্রিটিশ মিউজিয়ামের স্টাডি রুমে আর দুপুরে অক্সফোর্ড স্ট্রিটের ভিয়েনা ক্যাফেতে। দু’মাসের জন্য রিজেন্ট স্ট্রিট পলিটেকনিকে একটি সান্ধ্যকালীন প্রভাষকের পদও জোগাড় করে ফেলেন। লন্ডনেই এক সাহিত্য আড্ডায় ঔপন্যাসিক অলিভিয়া শেকসপিয়ার এবং তার মেয়ে ডরোথির সাথে কবি’র পরিচয় ঘটে। একইসাথে অলিভিয়ার প্রাক্তন প্রেমিক কবি ডব্লিউ বি ইয়েটসের সাথেও পরিচয় ঘটে। ইয়েটস এবং কবি’র মাঝে ২০ বছর বয়সের ব্যবধান তাদের বন্ধুত্বে বাঁধা হতে পারেনি। এসময় কবি জর্জ বার্ণার্ড শ, কবি টিই হিউম, কবি লরেন্স বিনিয়ন, ভাস্কর হেনরি গউডিয়ার ব্রজেস্কা, চিত্রকর ওয়াইন্ডহ্যাম লুইস প্রমুখ অনেকের সাথে কবি’র পরিচয় ঘটে। ১৯০৯ সালের জুনে তার কাব্যগ্রন্থ ‘Personae’ প্রকাশিত হলে তিনি বাণিজ্যিকভাবে সফল কবি হয়ে ওঠেন। এই কাব্যগ্রন্থের ‘Erat Hora’ কবিতাটা শেয়ার করছি,
"Thank you, whatever comes." And then she turned
And, as the ray of sun on hanging flowers
Fades when the wind hath lifted them aside,
Went swiftly from me. Nay, whatever comes
One hour was sunlit and the most high gods
May not make boast of any better thing
Than to have watched that hour as it passed.
কাব্যগ্রন্থটির পক্ষে সমালোচকরা কলম ধরেন। এক রিভিউতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের নিয়ন্ত্রিত আবেগ ও প্রাকৃতিক জাদু’। জীবনের নানা উত্থান-পতনের গল্প, বাস্তব-অবাস্তব জীবনের দোলা তিনি অল্প কথার চিত্রকল্পে লিখে গেছেন। একই কাব্যগ্রন্থের ‘In Durance’ কবিতার কয়েকটা লাইন,
I am homesick after mine own kind,
Oh I know that there are folk about me, friendly faces,
But I am homesick after mine own kind.
এই বছরের সেপ্টেম্বরে ২৭টা নতুন কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ ‘Exultations’।
৪
১৯১০ সালের জুনে কবি ফিরে আসেন আমেরিকায়, তবে মাত্র ৮ মাসের জন্য। এই সময়ে তার প্রথম গদ্যের বই ‘The Spirit of Romance’ প্রকাশিত হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি লন্ডন হয়ে প্যারিসে পাড়ি জমান। ১৯১১ সালে প্যারিসে তার পরবর্তী কাব্যগ্রন্থ ‘Canzoni’ প্রকাশিত হয়। এরপর অগাস্টের দিকে আবারো লন্ডনে ফিরে এলে নিউ এজ পত্রিকার সোশ্যালিস্ট এডিটর তাকে কলাম লেখার কাজ দেন। ১৯১৩ সালের নভেম্বরে ইয়েটস সাসেক্সে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে কবি এজরা পাউন্ডকে তার সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেন। এই সময়ে তারা বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়াতেন। মাঝেমাঝে ডরোথিও তাদের সাথে যোগ দিতেন। ১৯১৪ সালের ২০ এপ্রিল পাউন্ড এবং ডরোথি বিয়ে করেন, যদিও ডরোথির বাবা-মা এতে রাজী ছিলেন না। বিয়ের পরে তারা কেঞ্জিংটনে একটা এক কামরার বাসা ভাড়া নেন। মজার কথা হলো, এই বাসার উল্টোদিকেই কবি এজরা পাউন্ডের প্রথম প্রেমিকা হিল্ডা ডুলিটল থাকতেন, ততদিনে তিনিও বিবাহিতা। এই প্রসঙ্গে কবি’র লেখা ‘Another Man’s Wife’ কবিতাটার কথা মনেপড়লো,
She was as pale as one
Who has just produced an abortion
Her face was beautiful as a delicate stone
With the sculptor’s dust still on it.
And yet I was glad that it was you and not I
Who had removed her from her first husband.
কবি কাজী জহিরুল ইসলাম ‘অন্য লোকের বউ’ শিরোনামে কবিতাটার অনুবাদ করেছেন,
ভীষণ ফ্যাকাশে লাগছিল তাকে
সদ্য গর্ভপাত হয়ে-যাওয়া নারীর প্রতিকৃতি।
তার মুখ পাথরের ভাস্কর্যের মতো সুশ্রী
যদিও তখনো ভাস্করের ধুলোবালি তাতে লেগে ছিল
এবং আমি এই ভেবে স্বস্তি পাচ্ছি
কাজটি আমার নয়
প্রথম স্বামীর কাছ থেকে ওকে বিচ্ছিন্ন করার
দায়-দায়িত্ব তোমার।
৫
১৯২১ সালে কবি আবারো প্যারিসে চলে যান। সেখানে মার্শেল দুশাম্প, ত্রিস্তান জারা, ফার্নান্দ লেগার প্রমুখ পরাবাস্তববাদ আন্দোলনের পুরোধাদের সাথে পরিচয় ঘটে। এই সময়ে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের সাথেও তার পরিচয় হয়। ১৯২২ সালে পিয়ানোবাদক ওলগা রুজের সাথে দেখা হলে তাদের মাঝে গভীর প্রেম জমে ওঠে, ওলগা তখন ২৬ বছরের যুবতী আর কবি’র বয়স ৩৬। তবে প্যারিসের সময়টা কবি’র ভালো কাটেনি, তিনি ঠাণ্ডাটা নিতে পারছিলেন না। এরমধ্যে একদিন তিনি এক অচেনা লোকের ছুরিকাঘাতের সম্মুখীন হন। এরপরই ১৯২৪ সালের অক্টোবরে তারা প্যারিস থেকে দক্ষিণ ইটালির ছোট্ট শহর রাপালোতে চলে যান, তখন ডরোথির আয়ের ওপরই তাদের সংসার চলছিল। এসময় ওলগা কবি পাউন্ডের সন্তান গর্ভে ধারণ করেন এবং ১৯২৫ সালের জুলাই মাসে ইটালিতে গিয়ে সন্তানের জন্ম দেন। কন্যা সন্তানের নাম রাখা হয় মেরী। পাউন্ড ওলগা’র গর্ভে তার সন্তান মেরীর কথা ডরোথিকে জানালে তিনি কিছুদিনের জন্য পাউন্ডকে ছেড়ে মিশরে চলে যান। ফিরে এসে পাউন্ডকে নিয়ে তিনি প্যারিসে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে পাউন্ড জানতে পারেন ডরোথি অন্তঃসত্ত্বা। হেমিংওয়ের সাহায্য নিয়ে আমেরিকান হাসপাতালে ১০ সেপ্টেম্বর ১৯২৬ সালে ডরোথি পুত্র সন্তান ওমর পাউন্ডকে জন্ম দেন। ডরোথি তার ছেলেকে নিয়ে লন্ডনে চলে গেলে পাউন্ড ওলগার সাথে ভেনিসে বাস করতে থাকেন। ওলগার বাবা ভেনিসে তার মেয়েকে একটা বাড়ি কিনে দিলে সেখানেই কন্যা মেরীকে নিয়ে তারা বসবাস করেন। ডরোথির মা অলিভিয়া মারা গেলে পাউন্ড লন্ডনে যান। ডরোথি এবং ওলগা, এই দুই নারীই এজরা পাউন্ডকে পাগলের মতো ভালোবাসতেন।
কবি’র ‘The Altar’ কবিতার চারটে লাইন,
Let us build here an exquisite friendship,
The flame, the autumn, and the green rose of love
Fought out their strife here, ‘tis a place of wonder;
Where these have been, meet ‘tis, the ground is holy.
৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে কবি এজরা পাউন্ড ইটালি ও জার্মানিকে সমর্থন করে বিতর্কিত হন। এই সিদ্ধান্ত তার জীবনে অনেক সমালোচনা এবং ঝামেলা বয়ে নিয়ে আসে। কবি পত্নী ওলগা বেনিতো মুসোলিনি’র জন্য পিয়ানো বাজাতেন। একদিন তিনি মুসোলিনিকে পাউন্ডের কথা বলেন এবং পাউন্ডের লেখা দীর্ঘ কবিতা ক্যান্টোস পড়তে দেন। কবি এজরা পাউন্ড-এর Canto XVI থেকে অংশবিশেষ,
And before hell mouth; dry plain
and two mountains;
On the one mountain, a running form,
and another
In the turn of the hill; in hard steel
The road like a slow screw’s thread,
The angle almost imperceptible,
so that the circuit seemed hardly to rise;
And the running form, naked, Blake,
Shouting, whirling his arms, the swift limbs,
Howling against the evil,
his eyes rolling,
Whirling like flaming cart-wheels,
and his head held backward to gaze on the evil
As he ran from it,
to be hid by the steel mountain,
And when he showed again from the north side;
his eyes blazing toward hell mouth,
His neck forward,
and like him Peire Cardinal.
And in the west mountain, Il Fiorentino,
Seeing hell in his mirror,
and lo Sordels
Looking on it in his shield;
And Augustine, gazing toward the invisible.
পাউন্ডের ছোট কবিতাগুলো পাঠকপ্রিয়তা পেলেও মাস্টারপিসখ্যাত ক্যান্টোস-এর ওপরে নিরীক্ষা থেমে থাকেনি। এক্ষেত্রে তার সাফল্য ও সার্থকতা বিশ্ববিদিত। মুসোলিনি ক্যান্টোস সম্পর্কে বলেন, ‘divertente’ (উপভোগ্য)।
আর্নেস্ট হেমিংওয়ের নিষেধ সত্ত্বেও কবি এজরা পাউন্ড ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারিতে মুসোলিনি’র সাথে দেখা করেন এবং অর্থনৈতিক ধারণা সম্পর্কিত তার খসড়াকৃত ১৮টা পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করেন। এই সাক্ষাৎ সম্পর্কে পাউন্ড পরবর্তীতে সি.এইচ ডগলাসকে লিখেন, এর আগে কেউ এত দ্রুত আমার আইডিয়া গ্রহণ করেননি। আমেরিকাকে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলতে কবি ১৯৩৯ সালে নিউইয়র্কে যান। ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে অনেক সিনেটর এবং কংগ্রেসম্যানের সাথেও তিনি দেখা করেন কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। এরপর ইটালিতে ফিরে এসে তিনি এন্টি-সেমেটিক লেখালেখি শুরু করেন। এই সময়টায় কবি অতিমাত্রায় রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং জার্মানি ও ইটালির পক্ষে শতশত আর্টিকেল লেখেন। রোম রেডিওতে ব্রডকাস্টার হিসেবেও কাজ করেন। ইটালিওরা অবশ্য প্রথমদিকে তাকে স্পাই হিসেবে সন্দেহের চোখেই দেখেছিল। পাউন্ড ইটালির কারাগারে বন্দি থাকার সময়ে ‘Pisan Cantos’ শেষ করেন। এপ্রসঙ্গে পলএম মন্টগোমেরি নিউ টাইমসকে বলেন, ‘এই সেঞ্চুরিতে যতোগুলি মাস্টারপিস আছে তার মধ্যে পাউন্ডের ক্যান্টোসই সেরা।’
What thou lovest well remains
The rest is dross.
What thou lov’st well shall be reft from thee.
What thou lov’st well is they true heritage.
Whose world, or mine or theirs
Or is it none?
First came the seen, then thus the palpable
Elysium, though it were in the halls of hell,
What thou lovest well is thy true heritage.
What thou lov’st well shall not be reft from thee.
এই কবিতাগুলোর জন্য তিনি ১৯৪৯ সালে বলিঙ্গন প্রাইজ পান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা এবং ফ্যাসিস্ট রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিতর্কিত ভূমিকা এবং আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে তাকে গ্রেফতার ও শাস্তি প্রদান করা হলেও তার সাহিত্যকর্মকে বা মেধাকে কখনো প্রত্যাখ্যান করা হয়নি। বরং সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের কারণে তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ইতিহাস উপেক্ষা করা হয়। দুর্বল ফলাফলের কারণে একদিন যে কলেজ তাকে ছাড়তে হয়েছিল, সেই হেমিল্টন কলেজ তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে। লেখকদের একটানা আপিলের কারণে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর তিনি ইটালিতে ফিরে যান এবং জীবনের শেষ দিনগুলো ভেনিসের এক নিভৃত স্থানে বসবাস করেন। তবে আমেরিকায় এজরা পাউন্ডের কবিতার প্রতিটি শব্দ-বাক্য-লাইন নিয়ে আজও গবেষণা করা হয়।
১৯৭২ সালের ৩০ অক্টোবর ৮৭তম জন্মদিনে অসুস্থ হয়ে পড়লে কবিকে ভেনিসের এক হাসপাতালে নেয়া হয়, সেখানেই ০১ নভেম্বরে কবি এজরা পাউন্ড ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় শুধুমাত্র তার প্রেমিকা ওলগা রুজ পাশে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে ১০০ বছর বয়সে রুজ মৃতুবরণ করলে তাকে পাউন্ডের কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়। কবি এজরা পাউন্ড এর ‘Personae’ কাব্যগ্রন্থের ‘And the days are not full enough’ কবিতার চারটে লাইন দিয়ে এই লেখা শেষ করবো,
And the days are not full enough
And the nights are not full enough
And life slips by like a field mouse
Not shaking the grass.
-----------------------------
©সুমন সুবহান
মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা
১৪ আগস্ট ২০২৬
হদিস:
১। এজরা পাউন্ডের কবিতা- কাজী জহিরুল ইসলাম
২। ইন্টারনেট