২৬ জুলাই, ২০২৬
ভিউস: ০
খাঁটি লোকসংগীতের আঙিনায় আধ্যাত্মিক ও জাগতিক প্রেমের এক অপূর্ব ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে এই গানে, যেখানে 'বন্ধু'র রূপ-লাবণ্য আর চোখের চাউনি প্রেমিক হৃদয়কে সম্পূর্ণ দেওয়ানা করে তুলেছে। এখানে প্রিয়জনের হাসিকে জোছনার আলোর সাথে তুলনা করে যেমন জাগতিক সৌন্দর্যের বন্দনা করা হয়েছে, তেমনই গামছায় বেঁধে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর আকুলতায় মিশে আছে এক সহজাত, সরল ও নিখাদ ভালোবাসা। গানের শেষাংশে 'কালনি নদীর পার' এবং সেখানে অন্য এক পাগলের শুয়ে থাকার উল্লেখটি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের চিরচেনা সুর ও দর্শনের কথা মনে করিয়ে দেয়। নদীপাড়ের এই চিরন্তন বিরহী আবহ প্রমাণ করে যে, এই পাগলপারা ভালোবাসা কেবল সাধারণ কোনো মোহ নয়, বরং তা রাজা-বাদশাদেরও নিঃস্ব করে দেওয়ার মতো এক মহাজাগতিক ও আধ্যাত্মিক উন্মাদনা। মূলত, সরল শব্দের নিখুঁত বুননে তৈরি এই লিরিকটি বাংলা লোকায়ত গানের সেই চিরন্তন ভাবধারাকেই ধারণ করেছে, যা শ্রোতার মনকে এক নিমেষে এক উদাসী ও বৈরাগী রাজ্যে নিয়ে যায়।