
ভিউস: ৩
কর্ণ
যদি কেউ প্রশ্ন করেন মহাভারতের কোন চরিত্রটি আমার ভালো লাগে, আমি বলবো কর্ণ। আর একারণেই হরিশংকর জলদাসের ‘কর্ণ’ উপন্যাসটা চোখে পড়া মাত্র কিনেছিলাম। লেখকের অনেকগুলো উপন্যাস এরমধ্যে পড়া হয়েছে। মধ্যবয়সে (৫৫ বছর) লেখালেখির জগতে এসেও পরীশ্রম করলে এবং লেগে থাকলে যে পাঠকদের মাঝে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব উনি তার প্রমাণ। এবারে আসি উপন্যাসের কথায়। মহাভারতের সবচেয়ে অবহেলিত অথচ অপরিহার্য চরিত্র হলেন কর্ণ। তিনি ছিলেন একাধারে জ্ঞানী এবং নীতিবোধের অধিকারী‚শক্তিশালী‚সেরা ধনুর্ধর এবং বুদ্ধিমান। জন্মমাত্র মা কুন্তী সমাজভয়ে তাকে নদীতে বিসর্জন দেন। মায়ের কাছে অবহেলিত হয়ে অধিরথ এবং রাধার সংসারে পরম আদরে বড় হন তিনি, তাকে বলা হয় রাধেয়। এভাবেই ক্ষত্রিয়কুলে জন্মগ্রহণ করেও তাকে সূতপুত্রের অপমান সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়েছে। সূতপুত্র হওয়ায় কোনদিনও কারো কাছে যথাযথ মর্যাদা পাননি তিনি। অথচ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ যখন বাধে তখন কর্ণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। তার সাথে তখন যোগাযোগ করেন কৃষ্ণ, ইন্দ্র, এমনকি কুন্তী। তবুও সহোদরদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী লড়াইয়ে নামতে হয় তাকে।


