
ভিউস: ১
মানুষ নিয়তির সন্তান
অবতরণিকা। কয়েকমাস আগের কথা। ছোটখাট কোর্স রিইউনিয়ন চলছে। বাচ্চারা একদিকে বসে খেলছে, আনন্দ করছে, ভাবীরা যে যার মতো ছোটছোট গ্রুপে জটলা করে আড্ডায় ব্যস্ত। অফিসাররাও তাই, একটু পরপর হাসির ছররা শোনা যাচ্ছে, হেসে একে অপরের ওপরে গড়িয়ে পড়ছে। আমাদের যে কোন অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক চিত্র। কারো কারো মুখের দিকে তাকিয়ে অভিব্যক্তির প্রকাশ দেখছিলাম। হঠাৎ মনেহলো, এই যে এতো মুখের ভিড়, এখানে একটা মুখ মিসিং। এরকম সামাজিক আসরে তার প্রাঞ্জল উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো! অথচ এখন কেন্দ্রীয় কারাগারের কোন এক নির্জন সেলে সে হয়তো গভীর চিন্তায় মগ্ন। সেকী তার ফেলে আসা জীবনের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করছে! হয়তো! হয়তোবা না! দিনের শেষে মানুষ ফিরে আসে নিজের কাছে, নিজের আত্মার কাছে। সে তখন নিজেকে প্রশ্ন করে, কেননা মানুষ প্রতিটা কর্ম বিবেকতাড়িত হয়ে করে জানি। খারাপ কিছু করলেও সে বিবেকের কাছে তার স্বপক্ষে যুক্তি দাঁড় করায়। এটাই মানুষের ধর্ম। তবে সমাজে এমনও কিছুকিছু মানুষ আছে, যারা এসব যুক্তিতর্কের ঊর্ধ্বে। বিবেক নয়, নিয়তি তাদেরকে গন্তব্যের দিকে তাড়িত করে। আমি মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান (অবঃ) এর কথা বলছি। জিয়া আমার একজন কোর্সমেট।

