
ভিউস: ৩
মীরাবাঈ - শ্রীকৃষ্ণ যাকে পাগল করেছিলেন
মীরাবাঈ হেইলা দুইলা হেইলা দরবার নাচায় ঝাকানাকা ঝাকানাকা ঝাকানাকা দেহ দোলা না মারজুক রাসেলের লেখা জেমসের কন্ঠে এই গানটা শুনে ভাবতাম কে এই মীরাবাঈ! বাংলা অভিধানে বাঈ শব্দের দুটি অর্থ দেওয়া আছে, একটি হলো পশ্চিম ভারতের মহিলাদের সম্মান সূচক শব্দ আর অন্যটি হলো পেশাদার নৃত্যগীতকারিণী। গানের লিরিকস-এর সাথে যেহেতু দ্বিতীয় অর্থটিই সামঞ্জস্যপূর্ণ তাই গানের মীরাবাঈকে একজন নৃত্যশিল্পী ভাবা যেতেই পারে। বাঈ’রা রাজা-বাদশা-নবাবদের আমলে নিজগৃহে আসর বসিয়ে অথবা নবাব, নৃপতি, রাজা, মহারাজা, জমিদার, আমলাবর্গের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে, মহফিল-দরবারে, ঘরোয়া অনুষ্ঠানে, আসরে, রঙমহলে, বাগানবাড়িতে, প্রমোদবিহারে আমন্ত্রিত হয়ে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নৃত্যগীত পরিবেশন করতেন। ২ ইতিহাসের পাতা ওলটালে দেখা যায় যে, ঢাকায় বাঈজীদের নাচগান শুরু হয় মুঘল আমলে। খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে বাংলায়, বিশেষ করে কলকাতায় বাঈজীদের আগমন ঘটতে থাকে। বাঈজীদের নাচ-গানের আসরকে মুজরা বলা হয়, আবার তাকে মেহফিল বা মাহফেলও বলা হয়। কোন কোন বাঈজী রাজা- মহারাজা- নবাবদের দরবার থেকে নিয়মিত মাসিক বেতন পেতেন। বাঈজীদের নাচ-গানে মোহগ্রস্ত হবার কারণে কোন কোন নবাব-রাজা-মহারাজা বা ধনাঢ্য ব্যক্তির পারিবারিক ও আর্থিক জীবনে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছিলো। উনিশ শতকে ঢাকার নবাব নুসরাত জং, নবাব শামসুদ্দৌলা, নবাব কমরুদ্দৌলা এবং নবাব আবদুল গণি ও নবাব আহসানুল্লাহর সময় বাঈজীদের নাচ-গানের আসর বৃদ্ধি পায়। তারা আহসান মঞ্জিল-এর রংমহল, শাহবাগের ইশরাত মঞ্জিল, দিলকুশার বাগানবাড়িতে নৃত্য-গীত পরিবেশন করতেন। ঢাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে যেসব বাঈজী খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তাদের মধ্যে লখনৌর প্রখ্যাত গায়ক ও তবলাবাদক মিঠন খানের নাতি সাপান খানের স্ত্রী সুপনজান, মুশতারী বাঈ, এলাহীজান, পিয়ারীবাঈ, হীরাবাঈ, ওয়ামুবাঈ, আবেদী বাঈ, আন্নু নান্নু ও নওয়াবীন বাঈ উল্লেখযোগ্য। ঢাকার অন্যান্য খ্যাতিমান বাঈজীদের মধ্যে ছিলেন বাতানী, জামুরাদ, পান্না, হিমানী, আমিরজান, রাজলক্ষ্মী, কানী, আবছন, মালকাজান বুলবুলি, মালকাজান আগরওয়ালী, জানকীবাঈ, গহরজান, জদ্দনবাঈ, হরিমতী প্রমুখ। সেকালের এতো সব বিখ্যাত বাঈদের মধ্যে মীরা বাঈ এর নাম খুঁজে না পেয়ে বরং অবাক হলাম। জেমসের গানের দেহ দোলানো এই বিখ্যাত মীরা বাঈ তাহলে কে? সম্ভবত লেখকের কল্পনা। তবে ইতিহাসের পাতা উজ্জ্বল করে আছেন আরেক মীরা বাঈ! তার কথাই বলি।



