
ভিউস: ২
নিঃসঙ্গতার কবি আবুল হাসান
১ ‘অবশেষে জেনেছি মানুষ একা! জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা দৃশ্যের বিপরীত সে পারে না একাত্ম হতে এই পৃথিবীর সাথে কোনোদিন।’ (পাখি হয়ে যায় প্রাণ) নিঃসঙ্গতার বেদনায় নীল হয়ে কবি আবুল হাসান ওপরের লাইনগুলো লিখেছেন। হাজার বছরের বিচ্ছিন্নতা বোধ ও স্পর্শকাতরতা নিয়ে কবির আবির্ভাব ষাটের দশকে। সেকালের স্বভাব কবিদের মতো তিনিও অবিশ্বাস্য দ্রুততায় একটি তরতাজা কবিতা লিখে দেয়ার মতো বিরল প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। আবুল হাসান স্বদেশ, নিঃসঙ্গ মানুষ ও মানুষের বেদনা ও সংবেদনশীল সত্তার সাথে একাত্ম হয়েছেন। এক অসীম নিঃসঙ্গতার আবর্তনে যিনি ঘুরে ফিরেছেন সর্বক্ষণ। নিজের নিঃসঙ্গতাকে আত্মবিবরণী আকারে কবিতায় এনেছেন। কবি লিখেছেন- অতটুকু চায় নি বালিকা! অত শোভা, অত স্বাধীনতা! চেয়েছিল আরো কিছু কম, আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়ে বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিল মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক! অতটুকু চায় নি বালিকা! অত হৈ রৈ লোক, অত ভিড়, অত সমাগম! চেয়েছিল আরো কিছু কম! একটি জলের খনি তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিল একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী! কবি এভাবেই বেদনাবোধ, প্রেম বিরহ, রাজনৈতিক দোলাচাল, অন্তর্গত নদীর রক্তক্ষরণ, জীবনের সব ধরণের বির্বণতা তুলে এনেছেন নিপুণ দক্ষতায়। তাই হয়তো কবি আহসান হাবীব লিখেছিলেন, ‘তার সমবয়সী কবিকর্মীদের মধ্যে যে দু’তিন জনের কবিতা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে আবুল হাসান ছিল তাদেরই একজন। আবুল হাসানের কোন কোন কবিতা পড়ে আমি অভিভূত হয়েছি। তার উপমা এবং চিত্রকল্প নির্মাণের উৎস ছিল বাংলাদেশেরই শরীর এবং হৃদয়। বুদ্ধি এবং হৃদয়ের সংমিশ্রণে তার কবিতা একই সঙ্গে তীক্ষ্ণ এবং হৃদয়স্পর্শী। তার কবিতায় জ্বালা ছিল কিন্তু বিদ্রূপ ছিল না। তিক্ততা তার কবিচিত্তকে স্পর্শ করেনি। নিসর্গ এবং মানুষের সঙ্গে প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেও আবুল হাসানের একাত্মতা ছিল গভীর’।



