
ভিউস: ১
লালন কি দেহাত্মবাদী?
‘যা নাই ভাণ্ডে (দেহে) তা নাই ব্রহ্মাণ্ডে’। কথাটা আরেকটু ভেঙ্গে বলার জন্যই এই লেখার অবতারনা। কবি আল মাহমুদ তার ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যে লিখেছেন- ‘আবাল্য শুনেছি মেয়ে বাংলাদেশ জ্ঞানীর আঁতুড় অধীর বৃষ্টির মাঝে জন্ম নেন শত মহীরূহ।’ বাঙ্গালীর আদিম কৌম সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিক। এই মাতৃতান্ত্রিক বাংলার দার্শনিক চিন্তার ঐতিহ্যকে বাংলায় বলা হয় ‘ভাব’। এই ভাবটি আজও বাঙালির চিন্তার জগতকে আলোড়িত করে। বাংলার মরমী সুফিসাধক, প্রেমময়ী বৈষ্ণব-বাউলের বিশুদ্ধ জীবনকে আচ্ছন্ন করে আছে এই ভাব। ভাবের শিকড়টি বাংলার আদিম কৌমসমাজে প্রোথিত বলেই সম্ভবত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এই ভাবটি নারীবাদী, যেহেতু আদিম কৌম সমাজ মাতৃকেন্দ্রিক ছিল। এই নারীবাদী ভাবদর্শন শুধু আউল-বাউলদের না, শহুরে কবি-লেখকদের মাঝেও সঞ্চারিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- ‘ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি। কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো- কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে’।



