কবিতা ও আবৃত্তির এক অনন্য সংকলন। এখানে শব্দের ঝংকারে হৃদয়ের অনুভূতিগুলো প্রাণ পায় সুরের মূর্ছনায়।

"ছুঁয়ে থাকা" কবিতাটি শারীরিক প্রস্থান পেরিয়েও অনুভূতির অদৃশ্য বন্ধনে মিশে থাকার এক গাঢ়, প্রাকৃতিক ও আত্মিক দার্শনিক দলিল। মানুষ কেবল মুখে বিদায় বললেই দূরে চলে যেতে পারে না; ঠিক যেমন উড়ে যাওয়া পাখির পড়ে থাকা পালক, ঝরা পাতার মর্মর শব্দ কিংবা জোছনায় বাঁশপাতার স্পর্শ পরম মায়ায় রয়ে যায় পৃথিবীর বুকে। প্রকৃতির প্রতিটি অলৌকিক রূপকের মতো স্মৃতি, স্পর্শ আর চেনা ঘ্রাণ হয়ে মানুষ আসলে থেকে যায় ভালোবাসার মানুষের অনুভূতির গভীরে—এক শরীর যেন ছুঁয়ে থাকে অন্য শরীরকে। বিচ্ছেদের মাঝেও অনন্তকাল জুড়ে বেঁচে থাকার এই গভীর অনুভূতির সুরকে আবৃত্তিশিল্পী ফারহানা তৃণা তাঁর সুগভীর, সংবেদনশীল ও মায়াবী কণ্ঠে অনন্য এক কাব্যিক রূপ দিয়েছেন। দৃশ্যমান বিচ্ছেদের আড়ালে থাকা সেই অবিনশ্বর মায়া আর ছোঁয়া অনুভব করতে একান্তে ডুব দিন সম্পূর্ণ আবৃত্তিতে।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ২

মধ্যবিত্ত জীবনের নিরব আত্মসংকট, জীবিকার করুণ বাস্তবতা এবং ঘোর দুর্যোগেও টিকে থাকা ভালোবাসার এক বাস্তবমুখী আখ্যান "রওনকের জন্য একটা চাকরি দরকার" কবিতাটি। বৈশ্বিক মহামারির নির্মম থাবায় হঠাৎ কাজ হারিয়ে ফেলা, প্রতিদিন সকালে মিথ্যা কাজের ছলে পার্কের বেঞ্চে সময় পার করা, আর অভাবের তাড়নায় বিয়ের স্মৃতির শেষ আংটিটা বেচে দেওয়ার বুকচাপা গল্প ফুটে উঠেছে এই কবিতায়। তবে অমানিশার শেষে সংসারের এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্ত্রীর বাড়িয়ে দেওয়া সহমর্মিতার হাত প্রমাণ করে—ক্ষয়িষ্ণু এই নগরে এখনও ভালোবাসা আর আশার আলো বেঁচে আছে। জীবনসংগ্রামের এই করুণ ছবি ও মানবিক সম্পর্কের মায়াকে আবৃত্তিশিল্পী শহিদুল ইসলাম পাপ্পু তাঁর সুগভীর, দরদী ও স্পর্শকাতর উচ্চারণে দারুণ কাব্যিক রূপ দিয়েছেন। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের আত্মমর্যাদার লড়াই আর বেঁচে থাকার সেই আকুল ব্যাকুলতা অনুধাবন করতে একান্তে উপভোগ করুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ৩

"পদচিহ্ন" কবিতাটি দূরারোগ্য ব্যাধির নিষ্ঠুর বাস্তবতা, প্রচ্ছন্ন আত্মত্যাগ এবং বিচ্ছেদের পরপরই ঘটে যাওয়া এক ট্র্যাজিক পরিণতির রক্তক্ষরণী আখ্যান। ফুসফুসের অ্যাডভান্সড ক্যানসারের নির্মম খবর পেয়ে ‘পার্থ দা’ নামের প্রিয় মানুষটিকে নিজের অভাব থেকে বাঁচাতেই সম্পর্ক ভাঙার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন নারী। কিন্তু দুশো তেতাল্লিশ দিনের ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার পরক্ষণেই রাজপথের এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় হারিয়ে যায় পার্থ নামের সেই চেনা মানুষটি। ক্ষয়ে যাওয়া জুতোর সোল, ছাতিম গাছের তলে সিগারেটের ধোঁয়া আর রাজপথে রেখে যাওয়া সেই শেষ পদচিহ্ন আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার এই বুকফাটা হাহাকারকে আবৃত্তিশিল্পী ফারহানা তৃণা তাঁর সুগভীর, দরাজ ও অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জীবন্ত করে তুলেছেন। নিয়তির ভয়াবহ প্রতিশোধ আর ভালোবাসার এই করুণ আত্মিক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে শুনতে পারেন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ২

বুকের ভেতর চেপে রাখা গভীর কান্না আর প্রকৃতির হাজারো অনুষঙ্গে নীরব উপস্থিতির আড়ালে নিজেকে 'ভালো' রাখার এক আচ্ছন্ন কাব্যিক দলিল "আমি ভালো আছি" কবিতাটি। অকস্মাৎ দেখা হয়ে গেলেও ক্ষতচিহ্ন খুঁড়ে ‘কেমন আছি’ না জিজ্ঞেস করার আকুল আর্জি নিয়ে শুরু হয় এই আত্মকথন—যেখানে চোখের কোণে জমে থাকা নীরব বাষ্পই বলে দেয় ছদ্মবেশী ভালো থাকার আসল সত্য। শ্রাবণের বৃষ্টি, হেমন্তের শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি, কিংবা বসন্ত বৌরির করুণ ডাক—সবকিছুর মাঝে নিজেকে বিলীন করে শূন্যতার গর্ভে থিতু হওয়ার এই বিবাগী যন্ত্রণাকে আবৃত্তিশিল্পী ফারহানা তৃণা তাঁর সুগভীর, দরাজ ও বিষাদময় উচ্চারণে পরম মমতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। উপরে ভালো থাকার ভান আর গভীরে তিল তিল করে ক্ষয়ে যাওয়ার এই মায়াবী অনুভূতির মুখোমুখি হতে উপভোগ করুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ২

"শেষের খুব কাছে" কবিতাটি বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ আর বিষাক্ত তিক্ততার মুখোমুখি হয়ে সম্মানের সাথে সম্পর্কের ইতি টানার এক পরিণত উচ্চারণ। পাশাপাশি পথ হেঁটেও মন ছুঁতে না পারার ব্যর্থতা, শব্দের অপমৃত্যু এবং অহেতুক দোষারোপের আগেই কবি বেছে নিয়েছেন আত্মমর্যাদাপূর্ণ এক বিচ্ছেদ। এক আকাশের নিচে না থেকে ছাদ বদলে ফেলার এই কঠিন সিদ্ধান্তে যেমন আছে দূরত্বের টান, তেমনি ভবিষ্যৎ দেখা হওয়ার দিনেও ঘৃণা এড়িয়ে অন্তত সামান্য খবরের খোঁজ নেওয়ার ব্যাকুলতা। বিষাদময় এই সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা তাঁর সুগভীর, দরাজ ও দরদী কণ্ঠে ভাঙনের এই মুহূর্তকে এক মায়াবী রূপ দিয়েছেন। সম্পর্কের ক্ষয়ে যাওয়া আর শ্রদ্ধাপূর্ণ বিদায়ের এই করুণ অনুভূতি হৃদয়ে অনুভব করতে কান পাতুন সম্পূর্ণ পরিবেশনায়।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ২

"শেষের খুব কাছে" কবিতাটি মূলত তিক্ততা আর ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল টপকে এক অমলিন শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে দূরে সরে যাওয়ার এক প্রাপ্তবয়স্ক কাব্যিক বিদায়গাথা ‘শেষের খুব কাছে’ কবিতাটি। কথার দেউলেপনা, অহেতুক হিংসা আর মিথ্যার খোলস ছেড়ে 'রওনক' চরিত্রের উদ্দেশ্যে লেখা এই আখ্যানে কবি উপলব্ধি করেছেন সম্পর্কের ইতি টানার রূঢ় সত্যকে। পরম মমতায় পথ আলাদা করে নেওয়ার এই ব্যাকুল আকুতি—যেন ভবিষ্যতে হঠাৎ দেখা হলেও মুখের বদলে ঘৃণা না ফুটে ওঠে, বরং থেকে যায় খবরের খোঁজ নেওয়ার ন্যূনতম সৌজন্য। ছাদ আর আকাশ বদলে যাওয়ার এই কঠিন বাস্তবতাকে আবৃত্তিশিল্পী নুসরাত রাইসা তাঁর গম্ভীর, সুগভীর ও সংবেদনশীল উচ্চারণে এক অসামান্য মাত্রা দিয়েছেন। ভাঙনের তীব্র যন্ত্রণার মাঝেও এই শ্রদ্ধাপূর্ণ বিচ্ছেদের অনুভূতিকে নিজের গভীরে ধারণ করতে শুনতে পারেন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ২

"সুতোর প্রান্তে দাঁড়িয়ে" কবিতাটি অসমাপ্ত পরিণতি জেনেও প্রাত্যহিক ছোট ছোট সুতোয় মন বাঁধার এক অম্লমধুর প্রেমগাথা। মুঠোফোনের আলোয় ভেসে ওঠা গভীর রাতের ফিসফিসানি, সকালের চায়ের কাপে জমতে থাকা খুদেবার্তা, কিংবা বসের ওপর হালকা রাগের ভাগ বাঁটোয়ারা—প্রতিটি মুহূর্তে মিশে ছিল ভালোবাসার এক স্বর্গীয় আবেশ। কোনো ভবিষ্যৎ কিংবা সফল সমাপ্তি নেই জেনেও ভেজা বালিশ আর নিঝুম দেয়াল ঘড়িকে গোপনে সাক্ষী রেখে, এক সুতোর ঝুলন্ত ডগায় দাঁড়িয়ে একে অপরকে ভালোবেসে যাওয়ার এই করুণ ব্যাকুলতাকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা তাঁর দরদী ও সুগভীর উচ্চারণে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। নিশ্চিত বিচ্ছেদের মুখেও বেঁচে থাকা সেই না-ভোলা অনুভূতির গভীরে ডুব দিতে উপভোগ করুন এই আবৃত্তিটি।
জলের কাছে যাবো
ভিউস: ২

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও প্রাত্যহিক ক্ষুদ্র মায়ায় জড়িয়ে থাকা এবং কাঁচের দেয়ালের মতো ভঙ্গুর এক প্রেমের নিখুঁত দলিল "সুতোর প্রান্তে দাঁড়িয়ে" কবিতাটি। মুঠোফোনের পর্দায় দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি গল্প, খুদেবার্তার ওমে ঘেরা সকাল, কিংবা টেকো বসকে নিয়ে জমে ওঠা খুনসুটি—সবকিছুর আড়ালে লুকিয়ে ছিল না-পাওয়ার সুগভীর এক ব্যাকুলতা। বিচ্ছেদের পরিণতি স্পষ্ট জেনেও ভেজা বালিশ আর রাতজাগা দেয়াল ঘড়িকে সাক্ষী রেখে এক সুতোর প্রান্তে দাঁড়িয়ে ভালোবেসে যাওয়ার এই করুণ মিষ্টি অনুভূতিকে আবৃত্তিশিল্পী নুসরাত রাইসা তাঁর দরাজ, দরদী ও সুগভীর কণ্ঠের উচ্চারণে এক অনন্য মায়াজালে রূপ দিয়েছেন। অসমাপ্ত প্রেমের এই আকুল কাব্যিক সফরের অনুভূতি হৃদয়ে ধারণ করতে আমন্ত্রিত আপনি।
জলের কাছে যাবো
ভিউস: ৪