কবিতা ও আবৃত্তির এক অনন্য সংকলন। এখানে শব্দের ঝংকারে হৃদয়ের অনুভূতিগুলো প্রাণ পায় সুরের মূর্ছনায়।

"দেখা হবে দুগ্ধফেনানিভ জোছনার রাতে" কবিতাটি মূলত ব্যক্তিগত প্রেমানুভূতি ত্যাগ করে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামা এবং সংগ্রাম শেষে এক মুক্ত ভোরের আশাবাদের গল্প। চারদিকে ধর্ষণ, বিচারহীনতা ও অরাজকতার ভিড়ে কফিশপের রোমান্স ভুলে প্রেমিকের একমাত্র ঠিকানা এখন প্রতিবাদের উত্তাল রাজপথ। পেশীশক্তি ও শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিঘাত হেনে অন্যায়ের অবসান ঘটানোই এখন সময়ের চরম দাবি। তরুণদের লড়াকু পদভারে কুয়াশা ও রক্তের আঁধার কেটে উদ্ভাসিত হবে এক নতুন বাংলাদেশ। সব কালো আইনের শিকল ভেঙে তরুণেরা যখন বিজয়ের জয়গান গাইবে, তখনই ঘুচবে সব বিচ্ছেদ ও শঙ্কা। প্রলয় শেষে সেই রক্তিম মুক্তিকাব্যের শুভ্র প্রভাতে প্রিয়তমার সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার এই দ্রোহী আহ্বানকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর শাণিত কণ্ঠে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। প্রতিবাদের ঝোড়ো পথ পেরিয়ে সেই কাঙ্ক্ষিত মুক্ত জোছনার আলো অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
তোমার নামে নৌকা ভাসাই
ভিউস: ২

"একদিন ভালোবাসা" কবিতাটি মূলত দরিদ্রতা, শ্রেণীসংগ্রাম আর প্রতারণার তিক্ত অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ভালোবাসার কঠিন সত্য উদঘাটনের গল্প। কবির প্রথম প্রেম কোনো রূপসী নারী ছিল না, বরং তা ছিল তহবিলবন্দি অভাব, বাসের হাতলে ঝুলে থাকা সংগ্রাম আর ছেঁড়া জুতোর কঠিন বাস্তবতা। যৌবনের দিনগুলোতে বিলাসী ভালোবাসার বদলে কবি চিনেছিলেন নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর জীবন আর নিঃস্ব প্রলেতারিয়েত আত্মাকে। এরপর একদিন প্রেয়সী এলো বটে, কিন্তু তার বেতের বিষণ্ণ ফলের মতো একজোড়া প্রতারক চোখ কবিকে চিনিয়ে দিল বিচ্ছেদের আসল রূপ। মহাকালের আবর্তে কবি শিখলেন প্রতারণাই যেন সম্পর্কের অন্য নাম, যার শেষ পরিণতি বালিশের ভেজা কোণে জমা রাখা হাহাকার। জীবনের এই নির্মম সত্য, অভাব ও প্রতারণার দহনকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর ও দরদী কণ্ঠে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। অভাব থেকে প্রতারণায় রূপ নেওয়া ভালোবাসার এই তীব্র বিষাদ অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
তোমার নামে নৌকা ভাসাই
ভিউস: ০

"কয়েদী নম্বর ৯২৭" কবিতাটি গুম, নিখোঁজ আর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শাণিত প্রতিবাদের এক তীক্ষ্ণ দলিল। লাশের দীর্ঘ সারি আর নিখোঁজের অসভ্য মিছিলে আজ প্রতিটি সচেতন মানুষের জীবনই যেন চরম অনিশ্চয়তায় ঘেরা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে কবি নিজেও হয়তো লোরকার মতো নিখোঁজ হবেন, ঠাঁই পাবেন কোনো প্রতিবাদের পোস্টারে। ইতিহাসের কোনো এক অত্যাচারী শাসকের হাতে থমকে যেতে পারে জীবন, তবু থমকে যায় না মুক্তচিন্তার লড়াই। রাষ্ট্রীয় অমানবিকতা আর ভয়ের সংস্কৃতির মুখে দাঁড়িয়ে এই কবিতা ছুঁড়ে দেয় চরম সত্য ও ক্ষোভের বার্তা। নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই বজ্রকণ্ঠের দ্রোহকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর শাণিত উচ্চারণে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগরণের এই রক্তিম সুর অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
জুলাইয়ের রাজপথ
ভিউস: ১

"বিবর্ণ সময়" কবিতাটি এক নিঃশব্দ স্তব্ধতা, স্বজন হারানোর বেদনা আর বিবর্ণ এক বিষাদঘন প্রোহরের চিত্রায়ন। কবিতার ক্যানভাসে শৈশবের দূরন্ত কোলাহল কিংবা কৈশোরের চপলতা আজ হঠাৎ করেই যেন চিরতরে থেমে গেছে। দ্বিপ্রহরের মুক্ত জলাশয়ে সাঁতরে বেড়ানো রাজহাঁসের চঞ্চলতা হারিয়ে প্রকৃতির বুকে নেমে এসেছে এক শ্মশান নীরবতা। তৃষ্ণার্ত কাকও ভুলে গেছে জলপানের কথা, বাতাসে কেবল ভেসে বেড়ায় তার করুণ ও আর্ত তীক্ষ্ণ চিৎকার। স্বজন হারানোর গভীর যন্ত্রণায় ভারী হয়ে থাকা পরিবেশ আর থমকে যাওয়া সময়ের এই করুণ আরতি কাব্যরূপ পেয়েছে এখানে। জীবনের এই নিঃসঙ্গতা, হারিয়ে ফেলার বেদনা ও বিবর্ণ সময়ের সুরকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর ও দরদী কণ্ঠে অনবদ্য মায়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন। বিষাদঘন সময় আর স্মৃতির এই স্তব্ধতা অনুভব করতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
জুলাইয়ের রাজপথ
ভিউস: ২

"মাত্র একটিবার" কবিতাটি প্রবল অভিমান, অবহেলা আর হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের আকুল কান্নার গল্প। কফিশপের এক কোণে কফির কাপে চোখ রেখে বসে থাকা নিঃসঙ্গ ছেলেটি একটু আগেও ছিল কারো সর্বস্ব প্রেমিক। দুশো আটষট্টি দিনের ভালোবাসাবাসি ভেঙে যাওয়ার মুহূর্তে পুঞ্জীভূত অভিমানে দুজনই যেন তটরেখা থেকে খসে পড়া নুড়ির মতো দূরে সরে যায়। অবহেলার তীব্রতায় এক নিমেষেই চুরমার হয়ে যায় কতদিনের যত্ন করে গড়া ভালোলাগার সেই রঙিন দিনগুলো। ও যদি শেষবারের মতো মুখ তুলে তাকাত, তবে দেখতে পেত অবহেলায় একটা মানুষ কীভাবে শামুকের মতো নিজের ভেতরে গুটিয়ে যায়। নীরব চোখের সেই অলিখিত হাহাকার ও অপূর্ণ আকুতিকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা সিনহা দাস তাঁর সুগভীর কণ্ঠে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। বিচ্ছেদের তীব্র যন্ত্রণা আর কেবল ‘একটিবার’ ফিরে তাকানোর আকুল আবেগ অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
এভাবেই বিষাদে, সংলাপে
ভিউস: ২

"তুমি চলে যাবার পর" কবিতাটি প্রিয়জনের প্রস্থানে নেমে আসা একাকীত্ব, হারানোর বেদনা ও নীরব দীর্ঘশ্বাসের আখ্যান। প্রিয়সী চলে যাওয়ার পর তার হাতে লাগানো লেবু গাছের বেড়ে ওঠা আর ফুলের ঘ্রাণের মাঝে কবি খুঁজে ফেরেন স্মৃতি ও তার শরীরের ঘ্রাণ। অন্যদিকে যত্ন আর স্পর্শের অভাবে মরিচ-তুলসীর চারার মৃত্যু যেন সম্পর্কের বিলীন হওয়াকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশাল ফ্ল্যাটে ভালোবাসার মানুষটি ছাড়া দৈনন্দিন জীবন ও চাকরি হারিয়ে কবির সংসার থমকে গেলেও, স্মৃতি থেকে মুছে যায় না না-বলা কথাগুলোর আকুতি। পাশের ঘরের ঘুমভাঙানিয়া পাখির চলে যাওয়া কিংবা ক্রাচে ভর দেওয়া বৃদ্ধের নিখোঁজ হওয়ার মতো চারপাশের শত বিরহের মাঝে কেবল জমে থাকে নীরব হাহাকার। আবৃত্তিশিল্পী অশোক বেপারী তাঁর সুগভীর কণ্ঠে না-বলা কথা আর বিচ্ছেদের এই অপরিসীম শূন্যতাকে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকা আর চিরন্তন বিরহের হাহাকার অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ১

"তুমি চলে যাবার পর" কবিতাটি প্রিয়তমা চলে যাওয়ার পর একাকী জীবনে জমে থাকা শূন্যতা ও না-বলা কথার বেদনাময় বয়ান। বারান্দার লেবু গাছে ফুল ফোটা, টুনটুনি পাখির উধাও হওয়া কিংবা সাহায্যপ্রার্থী বৃদ্ধের আর না আসার ছোট ছোট গল্পগুলো আজ তাকে আর জানানো হয় না। প্রিয়ার স্মৃতিঘেরা বিশাল ফ্ল্যাটে জীবন নেমে এসেছে সাধারণ আহারে, আর চাকরির অনিশ্চয়তায় থমকে গেছে চেনা পৃথিবী। রাতের অন্ধকারের মতো কিংবা মে-ফ্লাইয়ের মতোই শহরের ভিড়ে প্রতিদিন নীরবে ঝরে যায় কত শত স্মৃতি আর নিঃশব্দ ভালোবাসা। প্রিয়ার অনুপস্থিতিতে জীবনের সবকিছুর হারিয়ে যাওয়া ও একাকীত্বের এই চিরন্তন হাহাকারকে আবৃত্তিশিল্পী অশোক বেপারী তাঁর সুগভীর ও দরদী কণ্ঠে রূপ দিয়েছেন। স্মৃতি আর অফুরন্ত শূন্যতার এই বিচ্ছেদসুর অনুভব করতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ২

"জুলাইয়ের রাজপথ" কবিতাটি অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা আত্মত্যাগ, চরম প্রতিরোধ আর নির্ভীক সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক দলিল। শাসক কিংবা শোষক চাইলে গোলাপ গুঁড়িয়ে দিতে পারে, বাকস্বাধীনতা বা মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে, এমনকি আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দেওয়া বীরদের হত্যা করতে পারে—তবু সত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কোনোদিন থামানো যায় না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শিকল, বুলেটের ভয় আর রাজপথে ঢেলে দেওয়া রক্তের সমুদ্র পেরিয়ে শহীদদের সেই ত্যাগ জন্ম দেয় ফিনিক্স পাখির মতো পুনর্জাগরণের। এ লড়াই কোনো করুণা বা বিচারের আকুতি নয়, বরং শাসকের সিংহদুয়ারে সরাসরি তীব্র ঘৃণা আর ধিক্কার জানিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল রক্তঝরা দিনগুলোর এই বীরত্বগাথা ও প্রতিবাদের বহ্নিশিখাকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর বজ্রকণ্ঠের শাণিত উচ্চারণে অনন্য রূপ দিয়েছেন। জুলাইয়ের রাজপথে লেখা বীরত্ব ও দ্রোহের এই স্ফুলিঙ্গ অনুভব করতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
জুলাইয়ের রাজপথ
ভিউস: ২