কবিতা ও আবৃত্তির এক অনন্য সংকলন। এখানে শব্দের ঝংকারে হৃদয়ের অনুভূতিগুলো প্রাণ পায় সুরের মূর্ছনায়।

"এক বিকেলের গল্প" কবিতাটি মূলত কফিশপের টেবিলে কবি ও প্রিয়ার কথোপকথনে ফুটে ওঠা প্রেম, অভিমান আর জীবনদর্শনের গল্প। ক্ষ্যাপাটে প্রেমিকের তীব্র অনুরাগের বিপরীতে প্রিয়ার মান-অভিমান আর চেনা সুবাসের ব্যবচ্ছেদে কাটে স্নিগ্ধ বিকেল। শ্যানেল পারফিউমের সুবাস পেরিয়ে প্রিয়ার নিজস্ব সোঁদা ঘ্রাণ চেনার আকুলতায় প্রকাশ পায় কবির আজন্মের তৃষ্ণা। তবে রোমান্স ও কাঁচের চুড়ির মিষ্টি কথকতার মাঝেও উঠে আসে আত্মিক সঙ্গহীনতা আর এই যান্ত্রিক নগরের প্লাস্টিক হৃদয়ের তিক্ত বাস্তবতা। পাশে থেকেও না-থাকার গভীর হাহাকার ও নিখাদ ভালোবাসার অভাবে বিশ্বজুড়ে জমে থাকা বিষাদকে কবি তুলে ধরেছেন অত্যন্ত নিপুণভাবে। দুই আত্মিক সত্তার এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও গভীর কাব্য সংলাপকে আবৃত্তিশিল্পী নিবেদিতা নাগ তহবিলদার ও তাপস রায় তাঁদের সুগভীর কণ্ঠে অনন্য রূপ দিয়েছেন। অপেক্ষার বিকেল আর হৃদয়ের অলিখিত কথকতা অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
এভাবেই বিষাদে, সংলাপে
ভিউস: ৪

"এভাবেই আরেকটা দিন" কবিতাটি মূলত যান্ত্রিক নগরের ব্যস্ততা আর প্রিয়াকে কাছে না পাওয়ার এক বিষাদঘন দিনের গল্প। মেঘলা সকাল, ময়লার গাড়ির শব্দ আর বুয়ার হাঁকডাকে নতুন একটি যান্ত্রিক দিনের সূচনা হয়। চায়ের দোকানের রেডিওর সুর কিংবা খবরের কাগজের ভিড়ে আড়ালেই রয়ে যায় মানুষের ভেতরের নিঃশব্দ অনুভূতির কথা। হেমন্তের রোদে রঙিন বোগেনভিলিয়া ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে কবি অনুভব করেন প্রিয়ার পরম অনুপস্থিতি। চারপাশের শত কোলাহলের মাঝেও প্রিয়সীকে একটি চুমু দিতে না পারার বেদনা নিয়ে কেটে যায় আরও একটি একাকী দিন। সাধারণ নগরায়ন আর হৃদয়ের গভীর বিষাদের এই কাব্যরূপকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর কণ্ঠে অনন্য রূপ দিয়েছেন। যান্ত্রিকতার ভিড়ে লুকিয়ে থাকা একাকীত্বের এই সুর অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
এভাবেই বিষাদে, সংলাপে
ভিউস: ৩

"বসন্ত এসে ফিরে গেছে" কবিতাটি একটি না-বলা ভালোবাসার আফসোস আর সম্পর্কের নির্মম বাস্তবতার গল্প। যুবকের কাঙ্ক্ষিত বাক্যটি প্রেমিকা বললে পৃথিবীর বিষাদময় নগরীর কিছুই বদলাত না, শুধু বদলে যেত তার নিজের পৃথিবী। জীবন কোনো জটিল সমীকরণ নয়, তবু যুবকটি বুঝেনি—কেবল ভালোবাসলেই কাউকে চিরতরে নিজের করে পাওয়া যায় না। সমাজ ও নিয়তির ঘুণপোকা চুপিচুপি এসে নিঃশেষ করে দেয় অনুভূতির রঙিন স্বপ্নগুলোকে। কালবৈশাখীর ঝোড়ো বার্তা ও ফিরে যাওয়া বসন্ত তাকে বুঝিয়ে দেয়, যাকে সে ভেবেছিল নিজের, সে আসলে কোনোদিনই তার ছিল না। হৃদয়ভাঙা এই বিচ্ছেদ ও অলিখিত ভালোবাসার আকুতিকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর কণ্ঠে অনন্য রূপ দিয়েছেন। না-পাওয়ার বিষাদ আর সম্পর্কের শেষ পরিণতি অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
তোমার নামে নৌকা ভাসাই
ভিউস: ৩

"দেখা হবে দুগ্ধফেনানিভ জোছনার রাতে" কবিতাটি মূলত ব্যক্তিগত প্রেমানুভূতি ত্যাগ করে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামা এবং সংগ্রাম শেষে এক মুক্ত ভোরের আশাবাদের গল্প। চারদিকে ধর্ষণ, বিচারহীনতা ও অরাজকতার ভিড়ে কফিশপের রোমান্স ভুলে প্রেমিকের একমাত্র ঠিকানা এখন প্রতিবাদের উত্তাল রাজপথ। পেশীশক্তি ও শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিঘাত হেনে অন্যায়ের অবসান ঘটানোই এখন সময়ের চরম দাবি। তরুণদের লড়াকু পদভারে কুয়াশা ও রক্তের আঁধার কেটে উদ্ভাসিত হবে এক নতুন বাংলাদেশ। সব কালো আইনের শিকল ভেঙে তরুণেরা যখন বিজয়ের জয়গান গাইবে, তখনই ঘুচবে সব বিচ্ছেদ ও শঙ্কা। প্রলয় শেষে সেই রক্তিম মুক্তিকাব্যের শুভ্র প্রভাতে প্রিয়তমার সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার এই দ্রোহী আহ্বানকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর শাণিত কণ্ঠে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। প্রতিবাদের ঝোড়ো পথ পেরিয়ে সেই কাঙ্ক্ষিত মুক্ত জোছনার আলো অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
তোমার নামে নৌকা ভাসাই
ভিউস: ৩

"একদিন ভালোবাসা" কবিতাটি মূলত দরিদ্রতা, শ্রেণীসংগ্রাম আর প্রতারণার তিক্ত অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ভালোবাসার কঠিন সত্য উদঘাটনের গল্প। কবির প্রথম প্রেম কোনো রূপসী নারী ছিল না, বরং তা ছিল তহবিলবন্দি অভাব, বাসের হাতলে ঝুলে থাকা সংগ্রাম আর ছেঁড়া জুতোর কঠিন বাস্তবতা। যৌবনের দিনগুলোতে বিলাসী ভালোবাসার বদলে কবি চিনেছিলেন নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর জীবন আর নিঃস্ব প্রলেতারিয়েত আত্মাকে। এরপর একদিন প্রেয়সী এলো বটে, কিন্তু তার বেতের বিষণ্ণ ফলের মতো একজোড়া প্রতারক চোখ কবিকে চিনিয়ে দিল বিচ্ছেদের আসল রূপ। মহাকালের আবর্তে কবি শিখলেন প্রতারণাই যেন সম্পর্কের অন্য নাম, যার শেষ পরিণতি বালিশের ভেজা কোণে জমা রাখা হাহাকার। জীবনের এই নির্মম সত্য, অভাব ও প্রতারণার দহনকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর ও দরদী কণ্ঠে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। অভাব থেকে প্রতারণায় রূপ নেওয়া ভালোবাসার এই তীব্র বিষাদ অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
তোমার নামে নৌকা ভাসাই
ভিউস: ৩

"কয়েদী নম্বর ৯২৭" কবিতাটি গুম, নিখোঁজ আর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শাণিত প্রতিবাদের এক তীক্ষ্ণ দলিল। লাশের দীর্ঘ সারি আর নিখোঁজের অসভ্য মিছিলে আজ প্রতিটি সচেতন মানুষের জীবনই যেন চরম অনিশ্চয়তায় ঘেরা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে কবি নিজেও হয়তো লোরকার মতো নিখোঁজ হবেন, ঠাঁই পাবেন কোনো প্রতিবাদের পোস্টারে। ইতিহাসের কোনো এক অত্যাচারী শাসকের হাতে থমকে যেতে পারে জীবন, তবু থমকে যায় না মুক্তচিন্তার লড়াই। রাষ্ট্রীয় অমানবিকতা আর ভয়ের সংস্কৃতির মুখে দাঁড়িয়ে এই কবিতা ছুঁড়ে দেয় চরম সত্য ও ক্ষোভের বার্তা। নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই বজ্রকণ্ঠের দ্রোহকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর শাণিত উচ্চারণে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগরণের এই রক্তিম সুর অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
জুলাইয়ের রাজপথ
ভিউস: ৪

"বিবর্ণ সময়" কবিতাটি এক নিঃশব্দ স্তব্ধতা, স্বজন হারানোর বেদনা আর বিবর্ণ এক বিষাদঘন প্রোহরের চিত্রায়ন। কবিতার ক্যানভাসে শৈশবের দূরন্ত কোলাহল কিংবা কৈশোরের চপলতা আজ হঠাৎ করেই যেন চিরতরে থেমে গেছে। দ্বিপ্রহরের মুক্ত জলাশয়ে সাঁতরে বেড়ানো রাজহাঁসের চঞ্চলতা হারিয়ে প্রকৃতির বুকে নেমে এসেছে এক শ্মশান নীরবতা। তৃষ্ণার্ত কাকও ভুলে গেছে জলপানের কথা, বাতাসে কেবল ভেসে বেড়ায় তার করুণ ও আর্ত তীক্ষ্ণ চিৎকার। স্বজন হারানোর গভীর যন্ত্রণায় ভারী হয়ে থাকা পরিবেশ আর থমকে যাওয়া সময়ের এই করুণ আরতি কাব্যরূপ পেয়েছে এখানে। জীবনের এই নিঃসঙ্গতা, হারিয়ে ফেলার বেদনা ও বিবর্ণ সময়ের সুরকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর ও দরদী কণ্ঠে অনবদ্য মায়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন। বিষাদঘন সময় আর স্মৃতির এই স্তব্ধতা অনুভব করতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
জুলাইয়ের রাজপথ
ভিউস: ৫

"মাত্র একটিবার" কবিতাটি প্রবল অভিমান, অবহেলা আর হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের আকুল কান্নার গল্প। কফিশপের এক কোণে কফির কাপে চোখ রেখে বসে থাকা নিঃসঙ্গ ছেলেটি একটু আগেও ছিল কারো সর্বস্ব প্রেমিক। দুশো আটষট্টি দিনের ভালোবাসাবাসি ভেঙে যাওয়ার মুহূর্তে পুঞ্জীভূত অভিমানে দুজনই যেন তটরেখা থেকে খসে পড়া নুড়ির মতো দূরে সরে যায়। অবহেলার তীব্রতায় এক নিমেষেই চুরমার হয়ে যায় কতদিনের যত্ন করে গড়া ভালোলাগার সেই রঙিন দিনগুলো। ও যদি শেষবারের মতো মুখ তুলে তাকাত, তবে দেখতে পেত অবহেলায় একটা মানুষ কীভাবে শামুকের মতো নিজের ভেতরে গুটিয়ে যায়। নীরব চোখের সেই অলিখিত হাহাকার ও অপূর্ণ আকুতিকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা সিনহা দাস তাঁর সুগভীর কণ্ঠে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। বিচ্ছেদের তীব্র যন্ত্রণা আর কেবল ‘একটিবার’ ফিরে তাকানোর আকুল আবেগ অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
এভাবেই বিষাদে, সংলাপে
ভিউস: ৪