কবিতা ও আবৃত্তির এক অনন্য সংকলন। এখানে শব্দের ঝংকারে হৃদয়ের অনুভূতিগুলো প্রাণ পায় সুরের মূর্ছনায়।

"শুভাগত ভালো আছে" কবিতাটি মূলত অকালপ্রয়াত বন্ধুকে ঘিরে কৈশোরের স্মৃতিকাতরতা ও বর্তমান সমাজের অবক্ষয়ের করুণ চিত্র। ছাতিম তলার ঘর, মেলায় ঘুরে বেড়ানো আর মাসিমার স্নেহে বড় হওয়া দিনগুলোতে ধর্ম কখনো বন্ধুত্বের অন্তরায় ছিল না। তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে মানুষের সংকীর্ণ মনমানসিকতা ও ধর্মের বিভেদ সেই অকৃত্রিম সম্প্রীতিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। আজ চারপাশের ভিড়েও আসল মানুষের অভাব আর চিরচেনা শৈশবের সেই পবিত্রতা বড় বেশি ফিকে। তাই সমাজের এই নির্মম রূপান্তর না দেখে বন্ধু শুভাগতর ওপারে চলে যাওয়াকেই কবির কাছে শ্রেয় মনে হয়। আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর কণ্ঠে শৈশবের চিরন্তন অমলিন সুর আর বর্তমানের আফসোসকে অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। হারানো শৈশব ও খাঁটি বন্ধুত্বের আক্ষেপ অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
জুলাইয়ের রাজপথ
ভিউস: ১

"শুভাগত ফেরেনি" কবিতাটি রাজনীতির বেড়াজালে নিখোঁজ বন্ধুর করুণ পরিণতি ও বিষাদময় আখ্যান। দশক আগে পিঠে বীভৎস ক্ষত ও তাড়া নিয়ে আচমকা দেখা করে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া বন্ধু শুভাগত। ভুল পথ আর ‘শত্রু শত্রু খেলা’ ছেড়ে আত্মসমর্পণ করে মায়ের ছানি পড়া চোখের চিকিৎসা আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছিল সে। সদ্য ইন্টার্ন ডাক্তার বন্ধুটি শুধু ওষুধের নামটুকু লিখে দিতে পেরেছিল, কিন্তু কথা আর জমে ওঠেনি। পুলিশের হুলিয়া আর দলের কোপ থেকে বাঁচতে গিয়ে রাতের অন্ধকারে সেই যে হারিয়ে গেল, আর ফেরা হলো না তার। মেঘের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া অভিমানী পাখির মতো শুভাগতও চিরতরে নিখোঁজ রয়ে গেছে। আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর কণ্ঠে নিখোঁজ বন্ধুর এই চিরন্তন হাহাকারকে অনন্য রূপ দিয়েছেন। হারিয়ে যাওয়া বন্ধু আর কোনোদিন ফিরে না আসার কান্না অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
জুলাইয়ের রাজপথ
ভিউস: ২

"লাশকাটা ঘর" কবিতাটি সমাজ বদলের স্বপ্নদ্রষ্টা বন্ধুর করুণ পরিণতি ও লাশকাটা ঘরের নির্মম বাস্তবতার আখ্যান। ডোম আর ডাক্তারের অপেক্ষায় টেবিলের ওপর নিঃসঙ্গ শুয়ে থাকা শৈশবের বন্ধু শুভাগত আজ পুলিশের খাতায় কেবলই এক নিষ্প্রাণ ক্রমিক নম্বর। যে নাম ও স্বপ্ন একসময় প্রচ্ছদে ছিল জীবন্ত, তা আজ বিলীন হয়ে বদলে গেছে সাধারণ এক ‘লাশ’ পরিচয়ে। স্বজনদের ফেরার তাড়া, দারোগার ফাই-ফরমাশ আর বাইরের কর্মমুখর ব্যস্ত জীবনের মাঝে থমকে গেছে এক স্বপ্নবাজ জীবনের গতি। চশমার বাষ্পরুদ্ধ কাচে কবি দেখেন, বিপ্লব আর দিনবদলের বাসনা বুকে রাখা মানুষটির চোখের কোটরে আজ কেবল মাছিদের খেলা। সমাজ বদলাতে চাওয়া বন্ধুর এই চিরতরে সংখ্যা হয়ে যাওয়ার বিয়োগান্তক সত্যকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর কণ্ঠে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। স্বপ্নের মৃত্যু আর বন্ধুর লাশ হয়ে ওঠার স্তব্ধ নীরবতা অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
জুলাইয়ের রাজপথ
ভিউস: ২

"বেওয়ারিশ লাশ" কবিতাটি মূলত কৈশোরের কোমল বন্ধুটির বিপ্লবী হয়ে ওঠা এবং বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে নিঃশেষ হওয়ার করুণ আখ্যান। স্কুলেও লজ্জা আর দারিদ্র্যে গুটিয়ে থাকা, সাদা রুমালে হাত মোছা সেই নরম স্বভাবের শুভাগত যে বুকের ভেতর দ্রোহের আগুন পুষে রেখেছিল, তা কারও জানা ছিল না। সময়ের আবর্তে আমরা যখন আমলা কিংবা সুশীল বুর্জোয়া হয়ে আরামে জীবন কাটাচ্ছি, তখন শুভাগত ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিপ্লবের আগুনে। বহু বছর পর সংবাদের শিরোনাম হয়ে বন্ধুদের সামনে আসে ‘বন্দুকযুদ্ধে কমিউনিস্ট নেতা নিহত’ হওয়ার নির্মম খবর। চিবুকের অচেনা সেই পুরোনো আঁচিলটাই সাক্ষ্য দেয়—বিপ্লবের মিছিলে স্বপ্ন উজার করে দেওয়া এই লাশটি আর কেউ নয়, শৈশবের বন্ধু শুভাগত। বন্ধুর প্রতি এই অপরাধবোধ ও চরম বৈষম্যের আফসোসকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু তাঁর সুগভীর কণ্ঠে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। আপসহীন স্বপ্নের করুণ পরিণতি ও আত্মত্যাগের দহন অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
জুলাইয়ের রাজপথ
ভিউস: ০

"যতিচিহ্ন" কবিতাটি বৃষ্টিভেজা সকালে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ফোনালাপ আর না-বলা অভিমানের গল্প। ঘূর্ণিঝড় রেমাল আর বৃষ্টির ছাঁটের অজুহাতে প্রিয়া ফোন করলেও কবির হৃদয়ে জেগে ওঠে পুরনো স্মৃতি আর না-জানার গভীর আক্ষেপ। প্রিয়ার সাফল্যের গান গাওয়ার সুযোগ না পাওয়া, সংগঠনের লোগো ডিজাইনের অবদানের পর বিস্মৃতি—সবকিছুতেই কবির জমতে থাকে মান-অভিমান। প্রিয়া যখন আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ আর কফির নিমন্ত্রণে দূরত্ব মেটাতে চায়, কবি তখন ছুঁয়ে যান অতীত যন্ত্রণার সেই শেষ বিন্দুটি। যেখানে সম্পর্কের ছেদ ঘটেছিল, সেই ‘পেয়ালা’ কফিশপেই কবি আবার আহ্বান জানান নতুন শুরুর। বিচ্ছেদ পেরিয়ে অনুভূতির এমন ফিরে আসার আকুলতাকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু ও অনন্যা মাহমুদ তাঁদের সুগভীর কণ্ঠে অনন্য রূপ দিয়েছেন। পুরনো বিচ্ছেদ আর নতুন করে পথচলার এই প্রগাঢ় সুর অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
এভাবেই বিষাদে, সংলাপে
ভিউস: ২

"ঠিক আছে" কবিতাটি মূলত অভিমান ভাঙার কাব্যিক খেলা আর প্রিয়ার কণ্ঠের প্রেমে ডুবে থাকার মিষ্টি আখ্যান। যোগাযোগ বন্ধের কড়া নির্দেশে কবির বারংবার নিরাসক্ত ‘ঠিক আছে’ উত্তরের আড়ালে জমে ওঠে মান-অভিমানের মধুর কথোপকথন। রূপের চেয়েও প্রিয়ার কণ্ঠস্বরে বৃষ্টি ও ঝরাপাতার সুর খুঁজে পাওয়া কবির প্রেমে একঘেয়েমি ছোঁয়া সম্ভব হয় না। ক্ষোভ ভুলে তাই আবার শুরু হয় প্রতিদিনের কবিতা, গান আর ভালোবাসার বার্তা আদান-প্রদানের অলিখিত নিয়ম। নিত্যদিনের যত্ন ও শর্তে বাঁধাপড়া সম্পর্কটিতে প্রকাশ পায় এক গভীর আত্মিক টানের পরম স্বস্তি। মান-অভিমান পেরিয়ে অনুভূতির এই পুনর্জন্মকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু ও অনন্যা মাহমুদ তাঁদের সুগভীর কণ্ঠে অনন্য রূপ দিয়েছেন। অভিমানের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রগাঢ় ভালোবাসা অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
এভাবেই বিষাদে, সংলাপে
ভিউস: ১

"কেমন আছো" কবিতাটি গোপন অনুভূতি ও গল্পগুলোকে কবিতায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার অভিযোগ এবং দুই মনের মনস্তাত্ত্বিক রূপকথা। ফেসবুক, ইউটিউব আর কাব্যগ্রন্থে নিজের অনুভূতি প্রকাশের বিষয়টিকে প্রিয়া বিশ্বাসঘাতকতা বলে দাবি করলেও কবি তাকে দেখেন ভালোবাসাকে অমর করার প্রয়াস হিসেবে। শোভনা কিংবা ওকাম্পোর উদাহরণ টেনে কবি বোঝাতে চান, কবির ভালোবাসায় প্রেমিকা কখনো মরে না; বরং অমরত্ব পায়। প্রিয়ার ক্ষোভ আর এলোমেলো প্রশ্নের মাঝেও কবি সহজভাবে জানতে চান কেবল তার কুশল। কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত দর্শন ও উপমার পরও প্রিয়ার একটিমাত্র জবাবেই থমকে যায় সব যুক্তি—‘ভালো নেই’। প্রেমিক হৃদয়ের ব্যাকুলতা ও বিচ্ছেদের এই নিঃশব্দ সত্যকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু ও অনন্যা মাহমুদ তাঁদের সুগভীর কণ্ঠে অনন্য রূপ দিয়েছেন। অনুভূতির উন্মোচন আর বুকের ভেতর জমাট বাঁধা কান্না অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
এভাবেই বিষাদে, সংলাপে
ভিউস: ২

"একটি আবৃত্তি সন্ধ্যা" কবিতাটি একক আবৃত্তি সন্ধ্যার আড়ম্বর আর পেছনে রয়ে যাওয়া না-বলা ভালোবাসার টানাপোড়েনের গল্প। নিমন্ত্রণ পেয়েও ভিড়ের ভীতিতে আড়ালে থাকা কবি শোনান প্রিয়ার সফল অনুষ্ঠানের এক সত্যনিষ্ঠ প্রতিক্রিয়া। দর্শনার্থীদের ভিড়, ভেন্যু ও সূচির নানা অসংগতির মাঝেও প্রিয়ার আবৃত্তিশৈলী ছিল সমস্ত নিন্দার ঊর্ধ্বে। কাব্য সন্ধ্যায় আবৃত্তির চেয়ে গানের প্রশংসা কিংবা কবিতার গতানুগতিক নির্বাচন নিয়ে অন্যের সমালোচনাই কবির কণ্ঠে ফুটে ওঠে। দু'জনের যৌথ স্বপ্নের অনুষ্ঠান হলেও কবির কোনো কবিতা সেখানে ঠাঁই না পাওয়ায় আড়ালে থেকে যায় গভীর এক অভিমান। সম্পর্কের অতীত বোঝাপড়া আর দূরত্বের এই সূক্ষ্ম আফসোসকে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু ও অনন্যা মাহমুদ তাঁদের সুগভীর কণ্ঠে অনন্য রূপ দিয়েছেন। সাফল্যের আলোর পেছনে লুকিয়ে থাকা না-পাওয়ার বিষাদ অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
এভাবেই বিষাদে, সংলাপে
ভিউস: ১