কবিতা ও আবৃত্তির এক অনন্য সংকলন। এখানে শব্দের ঝংকারে হৃদয়ের অনুভূতিগুলো প্রাণ পায় সুরের মূর্ছনায়।

"কবি মেয়েটির সাথে কফি খেতে চেয়েছিলেন" কবিতাটি ফরমালিনে ডুবে থাকা এই যান্ত্রিক শহরের এক নিঃসঙ্গ কফিশপে ঘটে যাওয়া নীরব ট্র্যাজেডির আখ্যান। ব্ল্যাক কফির সাথে ব্রাউন সুগার মেশানোর ব্যাকুলতা কিংবা মুখোমুখি বসে একটিমাত্র কবিতার বই পড়ার যে চিরন্তন সাধ—তা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক শূন্য পেয়ালা আর স্তব্ধতায়। মেয়েটিকে প্রতিদিন ভালোবেসে যাওয়ার পাগলপনাই ছিল কবির একমাত্র অভ্যাস, যার শেষ পরিণতি চেয়ারে ঢলে পড়া এক অমর কিন্তু নিথর কবিদেহ। যে ওষ্ঠে কফির শুকনো দাগের সাথে লেগে ছিল প্রেয়সীকে ছুঁয়ে দেখার শেষ বাসনা, সেই প্রেম আর শোকের বার্তা যেন এ শহরে হারিয়ে গেছে ফরমালিনের কৃত্রিমতায়। কবির এই গভীর হাহাকার ও না-পাওয়ার মৃত্যুকাব্যকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা সিনহা দাস তাঁর সুগভীর, দরাজ ও বিষাদময় কণ্ঠে অনবদ্য রূপ দিয়েছেন। ভালোবাসা ও মৃত্যুর এই শান্ত ব্যাকুলতা অনুধাবন করতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বসন্ত এসে ছুঁয়ে গেছে
ভিউস: ২

"দক্ষিণের জানালা" কবিতাটি অতীতের সোনালি দিন, মায়াবী শৈশব আর হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার করুণ আখ্যান। ড্রেসিংটেবিলের কোণে পড়ে থাকা সুগন্ধি তেল, কাঠের কাঁকই কিংবা চিলেকোঠার মরচে ধরা কপাট সাক্ষী দেয় সেই চিরচেনা রূপোলী বিকেলের, যখন প্রিয়জনের একপলক দেখার আশায় দক্ষিণের জানালা খোলা থাকত। ‘রওনক দা’ নামের প্রিয় মানুষটির অনুপস্থিতিতে থমকে গেছে চেনা পৃথিবী—ডাকপিওনের হাঁক, গোপনে রিকশা আটকে ভালোবাসার প্রকাশ কিংবা ছাদের কার্নিশের মধুর স্মৃতিগুলো আজ কেবলই অতীত ফসিল। ফেলে আসা স্মৃতিগুলো আজ ডাকাতের মতো তাড়া করে ফেরে, নিঃস্ব করে দেয় একলা হৃদয়কে। ভালোবাসার এই গভীর হাহাকার ও স্মৃতিকাতরতাকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা সিনহা দাস তাঁর সুগভীর, দরদী ও মায়াবী কণ্ঠে অনন্য মাত্রা দিয়েছেন। অতীতের পানে হেঁটে যাওয়া সেই না-পাওয়ার ব্যাকুলতা অনুভব করতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বসন্ত এসে ছুঁয়ে গেছে
ভিউস: ৩

"নীরবতার আরেক নাম অবহেলা" প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হওয়ার অমানবিক যন্ত্রণা, চরম একাকীত্ব আর নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অবহেলার করুণ আখ্যান। পছন্দের মানুষের ফোনের এগারোটা ডিজিট মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা কিংবা সেন্ট হেলেনায় নেপোলিয়নের নির্বাসনের চেয়েও ভয়ংকর নীরবতার প্রাচীরে আটকে থাকার কষ্ট উঠে এসেছে এই কবিতায়। অবজ্ঞার বিষে আচ্ছন্ন হয়ে ক্লাস্ট্রোফোবিয়া আক্রান্ত রোগীর মতো শ্বাসরুদ্ধকর এক অনুভূতি থেকে ঈশ্বর ও নিয়তির কাছে কেবলই আকুল মুক্তি প্রার্থনা। মৃত্যুর উপত্যকা থেকে ফিরে আসা আর অবহেলার হিমশীতল স্তব্ধতায় নিঃশেষ হতে থাকা প্রেমিকের এই করুণ যন্ত্রণাকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা সিনহা দাস তাঁর সুগভীর ও আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অনবদ্য মায়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন। নীরবতার যন্ত্রণাদগ্ধ রূপ ও মুক্তির ব্যাকুলতা অনুভব করতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ১

"একাকীত্ব" কবিতাটি প্রিয়জনের প্রতি অপার সমর্পণ, বারবার প্রেমে পড়ার অমোঘ নেশা আর গভীর নির্জনতার গল্প। শতবার ভুলে যাওয়ার বা দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের মতো বারবার নিঃস্ব হতে ফিরে আসার এক অদ্ভুত আত্মনিবেদন ফুটে উঠেছে এই কাব্যাখ্যানে। শাড়ি আর জোছনার মতো আচ্ছন্ন করে রাখা প্রেয়সীর ভাবনায় বুঁদ হয়ে থাকা প্রেমিক হৃদয় যেন প্রিয়তমার কাছে এসেই ভিক্ষুকের মতো পূর্ণতা খোঁজে। দিনের কোলাহল শেষে রাতের নিঝুম আঁধারে জ্বলতে থাকা একলা ল্যাম্পপোস্টটির মতোই বেঁচে থাকে তাঁর একাকীত্ব। ভালোবাসার এই অমলিন টান আর নিভৃত নিঃসঙ্গতাকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা সিনহা দাস তাঁর সুগভীর, দরদী ও স্পর্শকাতর উচ্চারণে দারুণ মায়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন। নিঃস্ব হওয়ার এই মায়াবী নেশা ও একাকিত্বের গভীর অনুভূতি পেতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বসন্ত এসে ছুঁয়ে গেছে
ভিউস: ১

"নদীর কাছে ভালোবাসতে শিখেছিলাম" কবিতাটি প্রকৃতির রূপক, সময়ের বহমানতা আর ভালোবাসার সুগভীর দর্শন নিয়ে তৈরি এক অনন্য কাব্যিক আখ্যান। ক্যালেন্ডার কিংবা ঘড়ির কাঁটা দিয়ে কাউকে আটকে রাখা যায় না—সময় কীভাবে অনভ্যাসে স্পর্শের দাগ মুছে দেয়, সেই ধ্রুব সত্যই প্রকাশ পেয়েছে এই কবিতায়। ঝর্ণার বয়ে চলা জল যেমন পাহাড়ের জমে থাকা ক্ষয়ে যাওয়া কষ্ট, তেমনই নদী শেখায় দু'কূল প্লাবিত করা আবেগ আর নোনাজল বুকে পুষে অবিরত ভালোবাসার নামই জীবন। পাহাড়ের স্পর্ধা আর নদীর বাঁকে শেখা ধ্বংস ও সৃষ্টির দ্বন্দ্বে প্রেম কীভাবে এক অনন্ত মায়া হয়ে বেঁচে থাকে, তাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। আবৃত্তিশিল্পী পৃথা সিনহা দাস তাঁর সুগভীর, দরদী ও ভাবগম্ভীর উচ্চারণে এই কাব্যাবেশকে এক মায়াবী রূপ দিয়েছেন। সময়, স্মৃতি ও ভালোবাসার গভীর অনুভূতি ছুঁয়ে দেখতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ১

দীর্ঘ দেড় যুগের ব্যবধান পেরিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে বিপ্লব আর ভালোবাসার স্মৃতিবিজড়িত প্রত্যাবর্তন নিয়ে লেখা কবিতা "ফিনিক্স পাখির খোঁজে"। 'রওনক দা' নামের এক রাজপথের বিপ্লবী প্রেমিকের জন্য জীবনের দীর্ঘ পনেরো বছর নিঃসঙ্গ অপেক্ষা আর অসমাপ্ত সংসারের আকুল হাহাকার ফুটে উঠেছে এই আখ্যানে। মিছিলের রাজপথ, বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থায় শ্রেণিসংগ্রামের মানবিক পাঠ আর 'ভ্লাদিমির' নাম ঘিরে বোনা সাধারণ সংসারের স্বপ্নগুলো আজও হৈমন্তী গাছের নিচে অমলিন। রাজপথের বিপ্লবীরা কখনো নিখোঁজ বা তারাখসা নক্ষত্রের মতো হারিয়ে যায় না—বরং ছাই থেকে জেগে ওঠা ফিনিক্স পাখির মতোই যুগে যুগে ফিরে আসে। প্রেম, আদর্শ ও বিশ্বাসের এই সুগভীর ব্যাকুলতাকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা সিনহা দাস তাঁর দরদী ও অনন্য কণ্ঠে অসামান্য মায়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন। অপেক্ষার চিরন্তন বিষাদ আর পরম বিশ্বাসের কাব্যিক সুর অনুভব করতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি
ভিউস: ২

"ইউথেনেশিয়া" কবিতাটি অখণ্ড বিষণ্ণতা আর নির্মম বাস্তবতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এক নিভৃত কবির নীরব প্রস্থানে গড়া আখ্যান। পুরু লেন্সের চশমা আর কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো সেই তরুণ যে শ্রাবণের ধারায় ভিজে প্রেয়সীর ঠোঁটে চুমু আঁকতে চেয়েছিল, জীবনের অজস্র যমটুপির ভিড়ে সে একসময় বেছে নেয় স্বেচ্ছামৃত্যুর নিস্তব্ধ পথ। কাঠের দরজায় কিংবা ডায়েরির পাতায় লেখা অভিমানের চিরকুটগুলো সাক্ষ্য দেয় তার ভেতরে জমতে থাকা এক সমুদ্র নোনাজলের। অ্যাকোনিটাম নেপেলাস পান করে মৃত্তিকার কোলে ফিরে যাওয়া সেই তরুণের এই ট্র্যাজিক পরিণতি ও নিঃশব্দ বেদনাকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা তাঁর সুগভীর, দরাজ ও বিষাদময় কণ্ঠে অনবদ্য মায়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন। জীবন থেকে কবির এই নিঃশব্দ প্রস্থান আর গভীর অনুভূতির আবেশ পেতে একান্তে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বসন্ত এসে ছুঁয়ে গেছে
ভিউস: ২

"দীর্ঘশ্বাস" কবিতাটি নীরবে-নিভৃতে প্রিয়জনের চলে যাওয়া আর হৃদয়ের গভীর প্রকোষ্ঠে জমে থাকা নিঃসঙ্গতার আখ্যান। শুকনো পাতার মর্মর, ঝরা বকুল আর বিকেলের শূন্য আঙিনা পেরিয়ে প্রিয়জন দূরে সরে গেলেও তার অস্তিত্ব আজও থেকে গেছে প্রতিদিনের আট প্রহরের অভ্যাসে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, জানালার কাচে ছবি আঁকা কিংবা মুঠোফোনে একটা ক্ষদে বার্তার অপেক্ষায় থাকা—সবকিছুর মাঝেই জেগে থাকে চেনা এক হাহাকার। অশ্রু লুকিয়ে রাখার এই ব্যর্থ চেষ্টা আর না-থাকার আড়ালেও পুরোটা অস্তিত্ব জুড়ে কারোর থেকে যাওয়ার এই আকুতিকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা তাঁর সুগভীর ও দরদী কণ্ঠে অনবদ্য মায়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন। নীরব দীর্ঘশ্বাস আর চিরন্তন অপেক্ষার এই বিষাদময় কাব্যরূপ অনুভব করতে শুনুন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বসন্ত এসে ছুঁয়ে গেছে
ভিউস: ১