
ভিউস: ১
ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা: ভেস্তে যাচ্ছে যুদ্ধবিরতি, ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি গভীর সংকটে
এপ্রিল মাসে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির দেয়াল ভেঙে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে ইরান-ইসরায়েলের ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি সংঘাতের আগুন। লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান ও ইয়েমেনের ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং তার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইরানের মূল ভূখণ্ডে তেল আবিবের পাল্টা নজিরবিহীন বোমাবর্ষণ পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই ওয়াশিংটন যখন তেহরানের সাথে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধ ও প্রকাশ্য নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এই সামরিক পদক্ষেপ হোয়াইট হাউসের সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ‘সব সিদ্ধান্ত আমার, নেতানিয়াহুর নয়’ বলে নিজের অনড় অবস্থান ও কঠোর মনোভাব প্রকাশ করলেও, ইসরায়েলি বাহিনীর এই একক সিদ্ধান্ত বিশ্বমঞ্চে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক কর্তৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে মেজর জেনারেল ইয়াল জামিরের নেতৃত্বে ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের আকস্মিক ব্যালিস্টিক আক্রমণ, অন্যদিকে সম্ভাব্য আরও বড় পরিসরে আইআরজিসির পাল্টা আঘাতের হুমকি চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ঝুলিয়ে দিয়েছে। সাময়িকভাবে ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা বন্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধাবস্থা এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ২.৫ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।



