
ভিউস: ১
ভেস্তে গেল ওমান টকস: গাজা ও লেবানন প্রশ্নে অনমনীয় তেহরান
ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যাক-চ্যানেল বা পরোক্ষ কূটনীতি অবশেষে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক নজিরবিহীন ও বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের ধারাবাহিক সামরিক আগ্রাসন এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সমস্ত কূটনৈতিক আলোচনা ও খসড়া চুক্তি সংক্রান্ত যোগাযোগ স্থগিত করেছে তেহরান। ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর গভীর অনুপ্রবেশ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১২ শতকের ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গ দখল। তেহরানের নীতি নির্ধারণী মহল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের টোপ দিলেও, নিজস্ব 'প্রতিরোধ অক্ষ' তথা হিজবুল্লাহ ও হামাসের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে তারা কোনো একপাক্ষিক বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে যাবে না। কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার সমান্তরালে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সংঘাত সরাসরি আকাশযুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যার প্রমাণ কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং তার জবাবে সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন সেন্টকমের পাল্টা বিমান হামলা। একের পর এক অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতকরণ এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনা প্রমাণ করে যে, ছায়া যুদ্ধ ছেড়ে দুই পক্ষ এখন সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। এই তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা লেগেছে, ব্লুমবার্গ-এর তথ্যমতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৭% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলার ছাড়িয়েছে। ইরান যদি তার হুমকি অনুযায়ী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালী আংশিক বা সম্পূর্ণ ব্লক করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর মন্দার কবলে পড়বে। ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া একমুখী শান্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান যে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, তা কুয়েত, লেবানন ও গাজা ফ্রন্টের চলমান সামরিক বাস্তবতার সাথে মিলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অনিয়ন্ত্রিত ও সর্বাত্মক আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।



