
ভিউস: ২
টমাহক বনাম প্যাট্রিয়ট ঘাটতি: ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মোকাবিলায় পেন্টাগনের নতুন চ্যালেঞ্জ
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা এক অভূতপূর্ব সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে ইরানের ওপর ব্লকেড আরোপের ঘোষণা এবং প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজ থেকে নিরাপত্তা ব্যয় বাবদ ২০ শতাংশ হারে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত এই সংকটকে নতুন ভূ-রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে। তবে এই উত্তেজনার সমান্তরালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অস্ত্রাগারে তৈরি হয়েছে এক গভীর সংকট, যা পেন্টাগনের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন বাহিনীর প্রধান প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক অস্ত্রের নাটকীয় হ্রাস এখন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিএসআইএসের মতো শীর্ষস্থানীয় থিংক ট্যাংকগুলোর মতে, বর্তমান হারে এই সংঘাত ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে তা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন এবং উচ্চ মাত্রার সামরিক ঝুঁকি তৈরি করবে। মূলত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে বহু-আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনার প্রথাগত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, তা টমাহক এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের এই তীব্র ঘাটতির কারণে এখন তীব্র চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই অস্ত্রের সংকট চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধ মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ যদি একই গতিতে চলতে থাকে, তবে তা বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক আধিপত্যের সামগ্রিক ভারসাম্যকে চিরতরে ভেঙে দিতে পারে।



