
ভিউস: ১
মধ্যপ্রাচ্যে বহুমুখী সংঘাত: যুদ্ধবিরতি ভেস্তে পাল্টাপাল্টি হামলা, নতুন শত্রুর সন্ধানে ইসরাইল
একবিংশ শতাব্দীর ভূরাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য সবসময়ই একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি, যার ভূকম্পন বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতিকে বারবার বিপর্যস্ত করে তোলে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ইরান এবং ফিলিস্তিনের প্রতিরোধকামী সংগঠন হামাসের মধ্যকার সমীকরণ এই অঞ্চলে অত্যন্ত জটিল সামরিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। বিগত কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সমঝোতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এখন এক অনিয়ন্ত্রিত অস্থিরতার রূপ নিয়েছে। বিশ্বরাজনীতির পরাশক্তিগুলোর একের পর এক সামরিক পদক্ষেপ এবং কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যকে এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছে, যা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নতুন সংঘাতের আগুন এবং ইসরাইলের অনড় অবস্থান ও নতুন আঞ্চলিক শক্তির দিকে নজর দেওয়া—সব মিলিয়ে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক মোড় নিয়েছে। বিগত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতি সচল হয়েছিল। তবে অতি সম্প্রতি সেই সমস্ত আশার ওপর ছাইচাপা দিয়ে আবারও শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি সামরিক সংঘাত। ক। মার্কিন সেন্টকমের আকস্মিক বিমান হামলা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং স্বাধীনভাবে নৌযান চলাচলে ইরানের হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে আনতে তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে ৯০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা পরিচালনা করেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম 'ফারস' এবং 'মেহের' নিউজের বরাতে জানা গেছে, এই হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহরগুলো এবং উত্তরাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সেখানকার দুটি জেটি ও সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ এবং বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর আট সদস্যসহ মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।



